fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

এবার এই উড়ালপুলে সম্পূর্ণ বন্ধ হল পণ্যবাহী গাড়ি ও  লরি চলাচল

যুগশঙ্খ,ওয়েবডেস্কঃ পোস্তা থেকে শুরু করে, মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার পরেই সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা উদ্বিগ্ন ছিল রাজ্য সরকার।এরপরেই সেতুগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। ভারী যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। এবার সম্প্রীতি উড়ালপুলে দুর্ঘটনা এড়াতে  পণ্যবাহী গাড়ি ও  লরি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার, কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনওভাবেই সম্প্রীতি উড়ালপুলে  ভারী পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করতে পারবে না।

কেএমডিএ-র তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ ডিসেম্বরের প্রশাসনিক বৈঠকে সম্প্রীতি উড়ালপুলের সেতু-স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই জারি হয় এই নির্দেশিকা।  ট্রাফিক কনট্রোলের দিকেও নজর দেওয়া হবে।

মূল কলকাতার সঙ্গে বাটানগর ও বজবজ সংযুক্তকারী এই  উড়ালপুল বরাবরই দুর্ঘটনাপ্রবণ বলেই পরিচিত। তাই, ভারী পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে ঝুঁকিও বেশি। সবদিক থেকে চিন্তা করেই কেএমডিএ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক বৈঠকে সম্প্রীতি উড়ালপুল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল বিধায়ক দুলাল দাস উড়ালপুলে একের পর এক দুর্ঘটনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রীকে।

তারাতলা থেকে বজবজে যাওয়ার পথে  সম্প্রীতি উড়ালপুলে দুর্ঘটনায় এক শিশু-সহ তিন জনের মৃত্যু হয়।  ঘটনায় তদন্তে নামে মহেশতলা থানার পুলিশ।

এই সেতু নির্মাণের কথা ঘোষণা হয় ২০১৪ সালে।  ২০১১ সালে তৎকালীন জওহরলাল নেহেরু জাতীয় নগর নবায়ন মিশনকে এই উড়ালপুল তৈরির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। এরপর ২০১৫ সালে উড়ালপুলটির নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বাটানগর উড়ালপুল বা সম্প্রীতি উড়ালপুল হল কলকাতার দক্ষিণ শহরতলি এলাকার একটি উড়ালপুল। দুই লেনের উড়ালপুলের মোট দৈর্ঘ্য ৭.৫ কিলোমিটার ও চওড়া ১৫ ফুট যা রাজ্যের দীর্ঘতম উড়ালপুল। উড়ালপুলটি জিনঞ্জিরা বাজারের সঙ্গে বাটানগরকে যুক্ত করে।

মূল কলকাতার সঙ্গে বাটানগর ও বজবজকে যুক্তকারী বজবজ ট্রাঙ্ক রোড প্রয়োজনের তুলনায় সংকীর্ণ ফলে এই সড়কটিতে সব সময় যানজট লেগে থাকত। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বাটানগর উড়ালপুল নির্মাণের কথা ভাবা হয়। নির্মাণের কথা ঘোষণা হয় ২০১৪ সালে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে তৎকালীন জওহরলাল নেহেরু জাতীয় নগর নবায়ন মিশন-এ (বর্তমান অটল নবায়ন ও নগর রূপান্তরণ মিশন) এই উড়ালপুল তৈরির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র এবং ২০১৫-য় নির্মাণের কাজ শুরু হয়। উড়ালপুলটি নির্মাণের দরপত্র গ্রহণ করার পরে, এল অ্যান্ড টি কোম্পানি উড়ালপুলটির নির্মাণের কাজে নিযুক্ত হয়। এর নির্মাণ খরচ ধরা হয় ২৫৫ কোটি টাকা। যার মধ্য ৮৬.৮ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র সরকার ও বাকি টাকা দেবে নির্মাণ সংস্থা। অক্টোবর ২০১৮ সালে উড়ালপুলের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তবে উড়ালপুলের নির্মাণে মোট খরচ হয় ৩৩০ কোটি টাকা। উড়ালপুল নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে উড়ালপুলের নিচের বজবজ ট্রাঙ্ক রোড চওড়া করা হবে ও এর সৌন্দর্যয়ায়ন করা হবে। মহেশতলা, বাটানগর, বজবজ, পূজালি প্রভৃতি এলাকার মানুষের কাছে এই উড়ালপুলের গুরুত্ব অপরিসীম। ১১ জানুয়ারি ২০১৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উড়ালপুলের উদ্বোধন করেন।

Related Articles

Back to top button
Close