fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ফের চমক ট্রামের! এবার বিশ্বের প্রথম শিশুদের লাইব্রেরী সাজিয়ে কলকাতার রাস্তায় যাত্রা শুরু 

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কলকাতার ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ট্রাম। আর এ ঐতিহ্যের সঙ্গে যাতে সাধারণ মানুষ যোগসুত্র হারিয়ে না ফেলেন, তার জন্য মাঝেমধ্যেই চমক দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিবহণ নিয়ম।

কিছুদিন আগেই লাইব্রেরি অন্ড হুইলস বলে বড়দের জন্য লাইব্রেরী সহ ট্রাম এবং তারপর সংশোধনাগারে বন্দীদের পাটের হস্তশিল্পে ‘পাটরাণী’ বলে পরপর দুটি ট্রাম উদ্বোধন হয়। এবার দিওয়ালি এবং শিশু দিবসের যুগলবন্দী দিনে শিশুদের জন্য লাইব্রেরীসহ সাজিয়ে ফের যাত্রা শুরু করল আরেকটি ট্রাম। বিশ্বে এ ধরনের উদ্যোগ প্রথম বলে দাবি ট্রাম কর্তাদের।

শনিবার বিশ্বের প্রথম শিশু পাঠাগারসমেত ট্রামের উদ্বোধন করল পশ্চিমবঙ্গ ট্রাম পরিবহন নিগম।

এই গোটা বিষযটির নাম রাখা হযেছে, ‘‌দ্য কলকাতা ইয়ং রাইডার্স ট্রামকার।’‌ পশ্চিমবঙ্গ ট্রাম পরিবহন নিগম এবং এপিজে আনন্দ চিলড্রেন্স লাইব্রেরির যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এখানে দুটি বিষয় একসঙ্গে হবে। এক, এখানে ছোটদের জন্য থাকা বই নতুন শিশু পাঠকদের আকর্ষণ করবে। দুই, শিশুদের নিয়ে মা–বাবা এখানে উঠবেন। ফলে কিছুক্ষণের জন্য তাঁরাও নস্টালজিক হয়ে পড়বেন। কারণ প্রত্যেক প্রজন্মের ছোটবেলার বই এখানে সংগ্রহশালায় থাকছে চলন্ত অবস্থায় বই পড়া একটা আলাদা আনন্দ বয়ে নিয়ে আসবে।

আসলে এখন গল্পের বই পড়ার অভ্যাস নতুন প্রজন্মের নেই বললেই চলে। তাই স্মার্টফোন ছেড়ে হাতে নিয়ে বই পড়ার অভ্যাস হবে পরবর্তী প্রজন্মের নতুন কুঁড়িদের।

 পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজনভীর সিং কাপুর বলেন, ‘‌এই ট্রাম ছাড়বে শ্যামবাজার থেকে ধর্মতলা এবং ধর্মতলা থেকে গড়িয়াহাট রুটে। রোজ এই ট্রাম সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিলবে।’‌ তাহলে ঘরবন্দি শিশুরা এখন ট্রামে উঠে মুক্তির স্বাদ পাবে। করোনার জেরে লকডাউন এবং ঘরে থেকে শিশুরাও হাঁফিয়ে উঠেছে। সেখান থেকে মিলবে মুক্তি।

এখানে শিশুদের কোনও ভাড়া লাগবে না। লাগবে না কন্যাশ্রী প্রকল্পে থাকা মেয়েদেরও। শুধু মা–বাবার ভাড়া লাগবে, তাও ট্রামের যে ন্যূনতম ভাড়া হয় সেটাই। করোনার জন্য স্যানিটাইজেশন থেকে মাস্ক, সমস্ত ব্যবস্থা থাকছে এখানে।

রাজনভীর সিং কাপুরের কথায়, ‘বইয়ের পরিচিতি ঘটানোর জন্য ট্রাম সফরের চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে। এই শহরের রাস্তাঘাট, পরিবহণ ব্যবস্থা— বইয়ের হাত ধরে সব কিছুর সঙ্গেই ওদের আত্মীয়তা গড়ে উঠবে। সব মিলিয়ে সমৃদ্ধ হবে আমাদের  পরবর্তী প্রজন্মই।”

Related Articles

Back to top button
Close