fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

নিষেধাজ্ঞার হুমকি, সম্মুখ সমরে ফ্রান্স-তুরস্ক

প্যারিস ও আংকারা: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বিদ্বেষ ও সহিংসতার ঘোষণা করেছেন। এই অভিযোগ তুলে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রী জিন-ইয়েভস লে ড্রিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, ‘এরদোগান সরাসরি সহিংসতার ঘোষণা করেছেন। প্রতিনিয়ত তিনি এসব প্রচার করছেন যা অগ্রহণযোগ্য। ফ্রান্স সরকার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া তুরস্কভিত্তিক বেশ কয়েকটি সংগঠন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও রেস্টুরেন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া ফ্রেঞ্চ মুসলিম নামে এক এনজিও’র ওপরও আরোপ হতে পারে নিষেধাজ্ঞা। এর মালিক তুরস্কে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

তবে এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ‘গ্রে উলভস’ নামে তুরস্কের এক জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীকে সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ফ্রান্স সরকার। ফ্রান্সের অভিযোগ, ‘গ্রে উলভস’ নামে এই চরমপন্থী অতি-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছে। এছাড়া তারা গত সপ্তাহে লিয়ঁ শহরে আর্মেনিয়দের একটি স্মারকের মর্যাদাহানি করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রিসভা সাপ্তাহিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তবে, ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তের উপযুক্ত জবাব দেবে বলে জানিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের বিদেশমন্ত্রকের দাবি করেছে, ‘গ্রে উলভস বলে কোনো গোষ্ঠী নেই। ফ্রান্স মনগড়া একটি গোষ্ঠী তৈরি করেছে।’

আরও পড়ুন- লিবীয় উপকূল থেকে উদ্ধার ৩০০ অভিবাসী

বিবৃতি দিয়ে বিদেশমন্ত্রক দাবি করেছে, ‘ফ্রান্সে তুরস্কের যে মানুষ আছেন, তাঁদের স্বাধীনতা, জমায়েতের অধিকার এবং মত প্রকাশের অধিকারকে রক্ষা করতে হবে। কিন্তু সরকার ফ্রান্সে তুরস্কের লোকেদের আক্রমণ, উস্কানি ও হুমকি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’ এমনকি, তুরস্কের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘ফরাসি সরকার এখন পুরোপুরি মার্কিন প্রভাবে কাজ করছে। তারা দুমুখো নীতি নিয়ে চলছে। কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স ফোর্স সহ অন্য গোষ্ঠীগুলিকে তাঁরা সমর্থন করছে।’

উল্লেখ্য, তুরস্ক এবং ফ্রান্সের মধ্যে বিবাদ অনেক পুরানো। তবে, সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিতর্কিত এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান অব্যাহত রাখার ঘোষণা করার পরেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তবে, চলমান এই উত্তেজনায় ‘আগুনে ঘি’ ঢালার মতো পরিস্থিতি হয়, গত ১৬ অক্টোবর। যখন প্যারিসের রাস্তায় শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে হত্যা করে এক তরুণ। যে শিক্ষকটি ক্লাসে বাক-স্বাধীনতা বোঝানোর নামে হজরত মুহাম্মদের এর ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শন করেন। এরপর পুলিশের গুলিতে নিহত হয় হামলাকারী। এই হত্যাকাণ্ডের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন যে, ‘স্যামুয়েল পাটি নামের ওই শিক্ষককে খুন করার কারণ ইসলামপন্থীরা আমাদের ভবিষ্যত কেড়ে নিতে চায়, কিন্তু ফ্রান্স কার্টুন ছাপানো বন্ধ করবে না। ধর্ম হিসেবে ইসলাম আজ বিশ্বজুড়ে সংকটে রয়েছে।’ এ ঘটনায় মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। তুরস্কে অবস্থানরত ফ্রান্স রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। ঘটনার পর এরদোগান ফ্রান্স প্রেসিডেন্টকে ‘মানসিক রোগী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ম্যাক্রোর চিকিৎসা প্রয়োজন।’

কয়েকদিন আগের এরদোগানের এই মন্তব্যকে এখন আর সহজভাবে নিচ্ছে না ফ্রান্স। সেকথায় জানিয়েছে ফ্রান্স বিদেশ মন্ত্রী জিন-ইয়েভস লে ড্রিয়ান। তিনি বলেছেন, ‘তুরস্ক শুধু ফ্রান্সকেই টার্গেট করছে না। তারা পুরো ইউরোপের সংহতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কোনো যুক্তি ছাড়া এরদোগান ফ্রান্সের সমালোচনা করছেন। এর ফলে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।’

Related Articles

Back to top button
Close