fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সহবাসের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, ভুয়ো সেনা অফিসারের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ তরুণী

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: সহবাসের ছবি তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি যুবতীকে দিচ্ছে তাঁর স্বামী। টাকার লোভে এই কাজে যুক্ত হয়েছে যুবতীর মা-ও। চাকরি পাওয়ার আশায় সেনা অফিসার পরিচয় দেওয়া জালিয়াতকে বিয়ে করে জীবন এমনই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে শহর বর্ধমানের বিধানপল্লী এক যুবতীর। তাঁর উপর নির্যাতনের ঘটনার এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ জোর করে বেশ কয়েকবার যুবতীর গর্ভপাতও করানো হয়েছে। এমন অমানুষিক নির্যাতনের হাত থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য হুমকি, শাসানি উপেক্ষা করে যুবতী বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। যুবতীর গোপন জবানবন্দি ইতিমধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নথিভুক্তও করানো হয়ে গিয়েছে। তবে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেপ্তারির কোন খবর নেই।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবতীর বাবা ও মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে বছর চার আগে। অভিযোগকারী যুবতী বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। বিয়ের আগে একটা চাকরির জন্য যুবতী হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন। সেইসময় তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় শহর বর্ধমানের ইছলাবাদ ও জেলার খণ্ডঘোষ থানার গোলাহাটের দু’জনের। গোলাহাটের বাসিন্দা নিজেকে সেনার অফিসার বলে যুবতীকে পরিচয় দেন। আর নিজেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সেক্রেটারি বলে পরিচয় দেন ইছলাবাদের বাসিন্দাটি। এই দুইজন যুবতীকে আশ্বাস দেয় যে, “তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখলে তারাই যুবতীকে ভালো সরকারি চাকরি করে দেবে।’

পরিচয় হওয়ার পর চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার অছিলায় ওই ব্যক্তিরা বেশ কয়েকবার যুবতীকে বর্ধমান শহরের কয়েকটি রেস্টুরেন্টে ডেকে পাঠায়। সেখানে আরও ৩ জন হাজির হয়। তারাও নিজেদের উচ্চপদস্থ অফিসার বলে পরিচয় দেয়। এর কিছুদিন পর তারা যুবতীর কাছ থেকে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, পাসপোর্ট মাপের ছবি ও ৪৮ হাজার টাকা নেয়। একইসঙ্গে কয়েকটি সাদা স্ট্যাম্প পেপারেও সই করিয়ে নেয়। চাকরির প্রয়োজনেই এসব করা হচ্ছে বলে ওই ব্যক্তিরা যুবতীকে তখন জানায়।

আরও পড়ুন- তৃণমূলের লড়াইয়ের এক এবং অদ্বিতিয় মুখ মমতা, দিলীপের পালাটা পার্থ

যুবতীর অভিযোগ পরবর্তী সময়ে সেনা অফিসার পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে বিয়ে করার জন্য যুবতীকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। যুবতীর মা বিয়েতে সম্মতি দেওয়ার পর গত বছরের জুন মাসে যুবতীর সঙ্গে জাল সেনা অফিসারের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানের কোনও ছবি কাউকে তুলতে দেওয়া হয়না। কারণ জিজ্ঞাসা করায় সেনা অফিসার যুবতীকে বলেন , সেনা অফিসার হওয়ার জন্য তিনি প্রকাশ্যে বিয়ে বা কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেনা। বিয়ের পর একটি লালবাতি লাগনো গাড়িতে যুবতীকে গোলাহাটের বাড়িতে নিয়ে যান জাল সেনা অফিসার। কিছুদিন পর তিনি শহর বর্ধমানের বিজয়নগর এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে নিয়ে গিয়ে যুবতীকে রাখেন। বিয়ের পর যুবতীকে বলা হয় কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর চাকরি হয়ে যাবে। স্বামীর সঙ্গে কিছুদিন কাটানোর পর যুবতী তার আসল স্বরূপ জানতে পারেন। স্বামী ও তাঁর সহযোগীরা যে ঠগ তাও বুঝতে পারেন যুবতী। ততদিনে বেশ কয়েকবার যুবতীকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে ফূর্তি করার জন্য স্বামী তাঁকে চাপ দিত বলে অভিযোগ। তাতে রাজি না হওয়ায় যুবতীকে মারধর করা হত। এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে যুবতীকে ভয় দেখানো হত। বিষয়টি যুবতী তাঁর মাকে জানান। উল্টে তাঁর মা তাঁকে স্বামীর যাবতীয় আব্দার মেনে নেওয়ার জন্য বলেন।

একদিন যুবতী দেখেন, সহবাসের ছবি জানালা দিয়ে রেকির্ডং করছে তাঁর নিজের মা। যুবতী কারণ জানতে চাওয়ায় মা তাঁকে জানায়, প্রত্যেকটি রেকির্ডংয়ের জন্য তাকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হয়। তা দিয়ে তিনি সংসার চালান। মাঝেমধ্যেই যুবতীকে দিয়ে জোর করে তাঁর স্বামী বন্ধুদের মদ পরিবেশন করাত। শ্বশুরবাড়িতে শ্বশুরও কয়েকবার যুবতীর শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। খোঁজখবর নিয়ে যুবতী জানতে পারেন, তাঁর স্বামী বিবাহিত। তাঁর ছেলেও রয়েছে। স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলাও রয়েছে। এসব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অশ্লীল ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি যুবতীকে দেয় তাঁর স্বামী। যদিও যুবতী তাতে দমে যাননি। তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় কিছুদিন আগে মারধর করে তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

Related Articles

Back to top button
Close