fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

উত্তরপ্রদেশ থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে আসার সময় মেখলিগঞ্জে ধরা পড়ল তিন পরিযায়ী শ্রমিক

বিজয় চন্দ্র বর্মন , মেখলিগঞ্জঃ লকডাউনেও বাড়ির প্রতি যাদের টান তাদের কাছে দূরত্ব হার মেনেছে। সূদুর উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকায় বাড়ির উদ্দেশ্যে তারা রওনা দিয়েছেন, তাও আবার হাঁটা পথে। অবশেষে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জে এসে তাদের পুলিশ আটকে দেয়।

 

উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে দিন কয়েক আগেই তারা রওনা দিয়েছিল। কিন্তু নিজের জেলায় পৌঁছাতেই মেখলিগঞ্জের রানিরহাট- সাপ্টিবাড়ি সড়কে নাকা চেকিং পয়েন্টে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ তাদের আটকে দেয়। দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা তাদের সেখানে আটকে রেখে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। এভাবে সন্ধে গড়িয়ে আসলেও তাদেরকে সেখানেই একটি প্রাথমিক স্কুলের বারান্দায় অভুক্ত অবস্থায় বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এই কয়েকদিনের টানা পরিশ্রমে আর খিদের তাড়নায় তারা নুইয়ে পড়ে। ভিন রাজ্য থেকে পায়ে হেঁটে আসা শ্রমিকদের এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে অভুক্ত অবস্থায় আটকে রাখায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিন যুবকের নাম সাগর বর্মন, প্রভাত বর্মন ও মনোরঞ্জন বর্মন। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকায়। তারা উত্তরপ্রদেশে শ্রমিকের কাজে নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু লক ডাউনের জেরে কাজ হারিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য তারা মরিয়া হয়ে ওঠেন। কিন্তু যাতায়াতের কোনও মাধ্যম না পেয়ে তারা পায়ে হেঁটেই বাড়ির দিকে রওনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর মনের জোরে আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জেরে হাঁটা পথেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন রওনা দিয়েছিল। তারা ইতিমধ্যে বাড়ি পৌঁছে গেলেও এরা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায়।

এ বিষয়ে মেখলিগঞ্জ থানার ওসি ও মেখলিগঞ্জ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক কোনও কিছু জানাননি। মেখলিগঞ্জ বিডিও সাংগে ইউডেন ভুটিয়া বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে। এরপর রাত ন’টা নাগাদ রানিরহাট থেকে ওই তিন যুবককে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চ্যাংড়াবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের নিজের এলাকা শীতলকুচিতে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানকার কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ১৪ দিন রাখা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

এদিকে এভাবে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কোনও পরীক্ষা ছাড়াই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের চোখে ঘুম উড়ে গিয়েছে। রানিরহাটে আটক তিন যুবকের সাথে আরও যারা উত্তরপ্রদেশ থেকে রওনা দিয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি পৌঁছে গিয়েছে তাদের খোঁজ শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। তারা কোনও পরীক্ষা ছাড়াই বাড়িতে প্রবেশ করলো কিনা সেটা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে প্রশাসনের তরফে। তবে এভাবে প্রতিদিন বিভিন্ন উপায়ে ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ির উদ্দেশ্যে আসার সময় পুলিশের নাকা চেকিং পয়েন্টে ধরা পড়ছে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু কোনও কারনে ধরা না পড়লে এবং পরীক্ষা ছাড়াই বাড়িতে প্রবেশ করলে করোনার সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্খা রয়েছে বলে অনেকের অভিমত।

Related Articles

Back to top button
Close