fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মঙ্গলকোটে দেওয়াল চাপা পরে ঘুমন্ত অবস্থায় মৃত তিন

দিব্যেন্দু রায়, মঙ্গলকোট: মঙ্গলকোটে মাটির বাড়ি ভেঙে দেওয়াল চাপা পড়ে ঘুমন্ত অবস্থাতেই মৃত্যু হল একই পরিবারের তিনজনের। মঙ্গলকোট ব্লকের নিগন অঞ্চলের গোবর্ধনপুর গ্রামের ঘটনা। মৃতদের নাম টগরা বিবি(৬৫),তাঁর মেয়ে বুড়ি বিবি ও টগরার নাতনি সাইফুন্নেসা খাতুন। স্থানীয়রা ধংসস্তুপ সরিয়ে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করেন। শুক্রবার ভোর থেকেই দেহগুলি আটকে রেখে দেয় পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীরা। ময়নাতদন্ত ছাড়াই দেহগুলির সৎকারের জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

জানা গেছে, খবর পেয়ে এদিন ভোরে মঙ্গলকোট থানা থেকে দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তাঁরা  মৃতদেহগুলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলতেই মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর তাঁরা দুই সিভিক ভলান্টিয়ারকে মারধর করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়।

জানা গেছে, দুই সিভিক ভলান্টিয়ার থানায় গিয়ে ঘটনার কথা বলতেই  তারপর পুলিশবাহিনী গ্রামে যায়। তখন গ্রামবাসীরা পুলিশকে তাড়া করে গ্রাম থেকে বের করে দেয়। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক  উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতদের পরিবার, প্রতিবেশীদের অভিযোগ সরকারি আবাস যোজনার আবেদন করেও ওই পরিবারকে সরকারি অনুদান দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁরা ভাঙা মাটির ঘরেই বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছিল। এদিকে লাগাতার বৃষ্টিপাতের ফলে বাড়ির দেওয়াল ধসে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে ওই তিন জনের মৃত্যু হয়। শেষে  ময়নাতদন্ত ছাড়াই দেহগুলি সৎকার করা হয় বলে জানা গেছে।

[আরও পড়ুন- আসানসোলের সালানপুর ব্লকে ঘাটওয়াল আদিবাসী সমাজের প্রথম কর্মা উৎসব পালন]

গোবর্ধনপুর গ্রামের বাসিন্দা টগরা বিবিদের মাটির দেওয়াল অ্যাসবেসটসের ছাউনি  দেওয়া দু’তলা মাটির একটি বাড়ি রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে  খাওয়াদাওয়া সেরে ওপর তলার একটা ঘরে শুয়েছিলেন  টগরা বিবি, টগরার মেয়ে বুড়ি বিবি ও নাতনি সাইফুন্নেসা খাতুন। একই ঘরে ছিল টগরী বিবির আরও এক নাতনি ও নাতি। ওই বাড়ির পাশে একতলা পাকাবাড়িতে ছিলেন টগরী বিবির ছেলে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও আনোয়ারের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাত্রি  প্রায় সাড়ে বারোটা নাগাদমাটির দু’তলা বাড়িটির দেওয়াল হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।

সেই সময় সকলে ঘুমে আছন্ন ছিলেন। তবে দেওয়াল ভেঙে পড়ার  সময় আওয়াজে  দু’জনের ঘুম ভেঙে যায়। তারা তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেড়িয়ে বারান্দায় চলে আসে। কিন্তু  দেওয়াল চাপা পড়ে যান টগরী বিবি, বুড়ি বিবি ও সাইফুন্নেসা। এরপর  পরিবারের বাকি লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘটনাস্থলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।  তাঁরা মাটি সরিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করেন। তবে তার আগেই তিন জনের মৃত্যু হয় বলে দাবি প্রতিবেশীদের। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই দরিদ্র পরিবারটি আবাস যোজনার অনুদানের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু তাঁদের অনুদান দেওয়া হয়নি বলে পাকা ঘর তৈরি করতে পারেনি।

 

Related Articles

Back to top button
Close