fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গব্লগহেডলাইন

সুন্দরবনে বেড়েছে বাঘের সংখ্যা……

ডাঃ সৈকত রানা: সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। বাঘ গণনা অনুযায়ী, ২০১৯-২০২০ সালে হিসেব বলছে, বাঘের সংখ্যা ৮৭ থেকে বেড়ে ৯৬ হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী। আপাতভাবে ভালো লাগলেও, এ কি খুব আনন্দের খবর মোটেই নয়। সরকারি তথ্য বলছে, সুন্দরবনে ১৯৭৯ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ২০৫টি, ১৯৯৩-তে ৩৩৫টি, এবং পরে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪১টিতে। অর্থাৎ, এটা ধরে নেওয়া যায়, তখন গণনায় কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকলেও, সেই সময় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা অন্ততপক্ষে দেড়শো থেকে পৌনে দুশোর কাছাকাছি ছিল বলে ধরে নেওয়া যায়। আর এখন একশোও নয়! গত কুড়ি বছরে বাঘের সংখ্যা কমতে কমতে একশোর নীচে চলে এসেছে।

১৯৭৩ সালে ভারতে ব্যঘ্র প্রকল্প শুরু হয়। মূল উদ্দেশ্যে বংশ বৃদ্ধি করা বাঘের প্রাকৃতিক বাসস্থানগুলি সংরক্ষণ করা। একটা পূর্ণবয়স্ক বাঘের খাওয়ার জন্য প্রতিদিন গড়পড়তা দশ কেজি মাংস চাই। এই প্রয়োজন মেটাতে গেলে বাঘের সপ্তাহে একটা শুয়োর বা হরিণ চাই। কিন্তু সুন্দরবনে বাঘের খাদ্যের অভাব রয়েছে। বাঘ এখানে যথেষ্ট পরিমাণ খাবার না পেলে বাংলাদেশের সুন্দরবনের দিকে চলে যায়।

কারণ, সুন্দরবনের বাঘ নদী সাঁতরে একনাগাড়ে মাইলের পর মাইল চলে যেতে পারে। সুন্দরবনে বাঘ আর ম্যানগ্রোভ বাঁচাতে হলে সবার আগে চোরাশিকার বন্ধে আরও জোর দিতে হবে। চোরা শিকারিদের হাত থেকে বাঘ তাদের খাদ্য শুয়োর, হরিণকে বাঁচাতে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। সুন্দরবনের ভেতরে হোটেল, রিসর্ট করার অনুমতি দেওয়াও বন্ধ করতে হবে। জঙ্গলে বেশি মানুষের আনাগোনা বাঘ মোটেই পছন্দ করে না।

ভারতে এখন বাঘ আছে মোটে ২,৯৬৭ টি। ২০১৮ সালের গণনার পর বাঘের সংখ্যা ২২২৬ ছিল ২০১৪ সালের গণনায় ১৭০৬ টি ছিল ২০১০ এর গণনা অনুযায়ী। অন্য দিকে, ২০০৬ সালের প্রথম গণনায় ১৪১১ টি বাঘের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। মধ্যপ্রদেশে ৫২৬,  র্কনাটক ৫২৪, উত্তরাখণ্ডে ৪৪২ টি বাঘ রয়েছে।

লকডাউনের মধ্যে চোরা শিকারিরা জঙ্গলে প্রবেশ করে মুল্যবান গাছ কেটে নিচ্ছে। এই দিকে নজর পড়ে না কার ও চলছে এবং চলছে। কাজেই ৯ টি বাঘ বৃদ্ধিতে উল্লসিত আমরাও। কিন্তু, বন বাঁচাতে সরকারের তৎপরতা আরও বেশি প্রয়োজন।

ভারতীয় সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট কভার পরিবর্তন (১৯৮৬-২০১২) রিমোট সেন্সিং এবং জিআইএস ব্যবহার করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওশানোগ্রাফিক স্টাডিজের একটি প্রকাশনা প্রকাশ পেয়েছে যে ১৯৮৬ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ১২৪.৪১৮ বর্গ কিমি। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল হারিয়ে গেছে যা খুবই উদ্বেগ এর বিষয়।

বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন-১৯৭২ ,আইন থাকলেও তার প্রয়োগ যথাযথ হচ্ছে না। বাঘ শিকার ও দেহাবশেষ পাচার, বাঘ সমৃদ্ধ বনাঞ্চল ধ্বংস, বাঘের আবাসস্থলের চারপাশে শিল্প ও কলকারখানা স্থাপন, বাঘ শিকার করার জন্য ফাঁদ ও অবাধে বিষটোপের অপব্যবহার, বাঘের খাদ্য শিকার প্রাণী নিধন ও মাংস বাজারজাতকরণ। বাঘ ও মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব বেড়ে যাওয়া এবং বাঘ সমৃদ্ধ বনাঞ্চল দিয়ে যানবাহন ও নৌচলাচল বেড়ে যাওয়া।

নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে বাঘেদের বিচরণ আরও সীমিত হবে ও প্রাণীটি জিনগতভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এক কথায় সুন্দরবনই হচ্ছে এশিয়ার মধ্যে বন্য প্রাণীর বৃহত্তম আবাসভূমি। বর্তমানে সুন্দরবনে ৩৭৫ প্রজাতির বন্য প্রাণী রয়েছে। বাঘ সুন্দরবনের অমূল্য সম্পদ। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বাঙ্গালীর গর্ব। তাই একে রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।

(লেখক-ডাঃ সৈকত রানা, প্রাণী চিকিৎসক… লেখকের মতামত নিজস্ব)

Related Articles

Back to top button
Close