fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

উন্নয়নের ফিরিস্তি শুনে ক্লান্ত, মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের আগে ক্ষোভ বাড়ছে জেলার মতুয়াদের 

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: ভোট আসে ভোট যায়। উন্নয়নের ফিরিস্তি শুনে ক্লান্ত। বেহাল রাস্তা। পানীয় জলের অবস্থা তথৈবচে। প্রতিশ্রুতি দিয়েও জোটেনি বসত জমির পাট্টা। মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের আগে ক্ষোভে ফুঁসছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার মতুয়ারা। ইতিমধ্যে বিবৃতি দেওয়ার জন্য সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছে মতুয়া মহাসঙ্ঘের দুর্গাপুর শাখা। রাজ্যের মতুয়ারা এখন বেশ কিছু বিধানসভা আসনের ভোট বাক্সের অনেকটায় নিয়ন্ত্রকের ভুমিকায়। আর তাই তাদের ভোটের আশায় মুখিয়ে ডান-বাম, গেরুয়া সব শিবিরেই। তবে এবার ভোটে পাল্লা কোনদিকে ঢলবে সেটা ইতিমধ্যে জোরাল গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বঞ্চনার অভিযোগে দ্বিধাবিভক্ত মতুয়ারা। ক্ষোভ ক্রমশই প্রকাশ্যে আসছে জেলার মতুয়া পাড়ায়।

 

আগামী ৮ ডিসেম্বর পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানীগঞ্জে প্রশাসনিক সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলছে জোরকদমে তার প্রস্তুতি।  মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের আগে জেলার মতুয়াদের মধ্যে বঞ্চনার ক্ষোভ চড়তে শুরু করেছে। সোমবার মতুয়া মহাসঙ্ঘের দুর্গাপুর শাখার পক্ষ থেকে পাট্টা সহ একাধিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ধরবে বলে জানিয়েছে। এখন প্রশ্ন, কেন ক্ষোভ? জানা গেছে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর মহকুমায় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ১০ হাজারেরও বেশী মতুয়া সম্প্রদায় পরিবার রয়েছে। যার মধ্যে রায়ডাঙা, আশীষনগর, ধোবািঘাট, কাঁকসা ১নং ও ২নং কলোনী, ১১ মাইল, রাজবাঁধ এলাকায় সংখ্যাটা বেশী। সমস্যা আর বঞ্চনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিলেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের সর্ব ভারতীয় সাংগঠনিক  সম্পাদক স্বপন গোঁসাই।

 

তিনি জানান, “ভোটাধিকার ছাড়া কিছু সেভাবে কিছু জোটেনি। কারন ভোটের স্বার্থে ব্যাবহার করবে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানে ছিটেফোঁটাও উন্নয়ন জোটেনি জেলার মতুয়াদের। ধর্মীয় কারনে উদ্বাস্তু পরিবারগুলো এখনও রেল লাইন, কিম্বা সেচক্যানেলের পাশেই বসবাস করে। ৭০ বছরেরও বেশী সময় বসবাস করলেও জোটেনি বসত জমির পাট্টা। ভবিষ্যত প্রজন্মকে নিয়ে আজও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে হয়। কোথায় থাকবে তারা।” তিনি বলেন, “বেশ কিছু এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কটে দুর্বিশহ হয়ে উঠেছে জীবন। তার ওপর বেহাল রাস্তায় ওষ্ঠাগত প্রান। একই অবস্থা রাজবাঁধ, মেমারী, বাঁকুড়ার কৃষ্ণনগর, সোনাইচন্ডীপুর।”

তিনি দাবি করে আরও জানান,” দেশভাগের পর এপর্যন্ত ৮ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ৭ জনই পুর্ব বঙ্গের। অথচ পুর্ববঙ্গে থেকে আশা উদ্বাস্তুদের কথা কেউ ভাবেনি। এমনকি বর্তমান শাসকদলেও ভাবেনি। তবে উন্নয়ন হয়েছে। সেটা শুধু ঠাকুরনগরে। আর সেটা নিয়েই আমরা আশা দেখি। বাকি মতুয়াদের চতুর্থ শ্রেনীর মর্যাদায় রাখা হয়।” তিনি আরও বলেন,” ইমাম ভাতা, পুরোহিত ভাতা চালু হয়েছে, অথচ মতুয়াদের দলপতি ভাতা চালু হয়নি। জেলার মতুয়া পরিবারগুলো বসত জমির পাট্টার জন্য এখনও কোন সুরাহা হয়নি। হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন ছুটির দাবী করা হয়েছিল। সেটাও হয়নি। হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে দু বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলান্যাস হলেও এখনও একটা ইটও পড়েনি। এককথায় মতুয়াদের সামগ্রিক উন্নয়ন হয়নি।” তবে বঞ্চনার পরও আগামী ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে জেলার মতুয়ারা কোন পথে? সেবিষয়ে স্বপনবাবু জানান,” রাজ্যের ৬৫ টি বিধানসভায় মতুয়ারা রয়েছে। বঞ্চনাকে বুকে আঁকড়ে গত লোকসভা ক্ষোভ আঁছড়ে পড়েছিল। এবারেও ভোটে কি হবে বলা মুশকিল।”

 

কাঁকসা ২ নং কলোনীর মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত রিনা দাস জানান,” তিনবার আবেদন করেছি। তারপরও পাট্টা জোটিনি। তাই আস্থা হারিয়ে গেছে এই সরকারের ওপর।  কি হবে ওসব দুয়ারে সরকারের শিবিরে গিয়ে? শান্তনা ছাড়া কিছু নেই। তাই যায়নি। এবার সরকার যখন আমাদের চিন্তাভাবনা করেনি। তখন আমরাও চিন্তাভাবনা করে নিয়েছে।” মতুয়াদের ক্ষোভের মাঝে পদ্ম ফোটার আশা দেখছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি লক্ষন ঘড়ুই জানান,” বামফ্রন্ট, তৃণমূল সবাই মতুয়াদের ব্যাবহার করেছে ভোটের স্বার্থে। সরকারের নুন্যতম পরিষেবাটুকুও দিতে ব্যার্থ হয়েছে তৃণমূল। কেন্দ্র সরকর নাগরিকত্ব আইন গতবছরই পাশ করেছে। তাই উন্নয়নের স্বার্থে মতুয়ারা এবারও বিজেপিকে ভোট দেবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস।” শিপ্রা সরকার দুর্গাপুরের একমাত্র মতুয়া সম্প্রদায় থেকে তৃণমূল কাউন্সিলার। তিনি অবশ্য জানান,” বসত জমির পাট্টা এখনও হয়নি। তবে আশাবাদী।  উন্নয়ন পর্ষদ হয়েছে। এবার জেলার মতুয়াদের মধ্যে উন্নয়ন হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close