fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভার্চুয়ালেই ২১-র ডাক, তাই এবার রঙ-হীন ‘একুশের ময়দান’

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: করোনা আবহে যৌলুশহীন ফিকে একুশে জুলাই! প্রতিবারের মত যথাযথ সম্মানের সঙ্গে দিনটি উদ্যাপিত হলেও, এবার ছিল না কোন জাঁক যমক আড়ম্বর। জন সমগমের চিহ্ন মাত্র ছিল না ধর্মতলা চত্বরে। অন্যান্য কর উপচে পড়া মানুষের ভিড় দেখা যায়। কেউবা নেত্রীকে কাছ থেকে দেখার নেশায়, কেউ কেউ নিছকই দলের টানে, আবার কেউ মাংস ভাতের লোভে ছুটে আসেন ধর্মতলা একুশে জুলাই মঞ্চে। অনেকে আবার রথ দেখা কলা বেচা দুই করে থাকে। কলকাতায় এসে একুশে জুলাই মঞ্চে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি কেনাকাটাও সেরে ফেলেন। প্রতিবারই একুশে জুলাই মঞ্চ ঘিরে মেলার আবহ করে ওঠে। ডিম ভাজা, পাঁপড় ভাজা, মেলা কিছুই ছিল না।

আবার একুশে জুলাই কে কেন্দ্র করে অনেকের রুজি-রোজগার ও তৈরি হয়। কিন্তু এবার তাদের মাথায় হাত। এবারে সবটাই ম্লান। যা ছিল সবটাই ভার্চুয়াল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও সেই বিষাদের সুর শোনা গেল। একই সঙ্গে দলের কর্মী সমর্থকরাও অনেকাংশেই মর্মাহত। যদিও নেত্রী দাবি করেছেন অন্যান্যবারের তুলনায় অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌছে গিয়েছে ভার্চুয়াল সভা।
ধর্মতলার একুশে জুলাই সভাস্থলের সেই গমগমে ব্যাপারটা ছিল না। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ছোট্ট একটি শহীদবেদি তৈরি করা হয়েছিল। চারিদিক ফাঁকা। সভস্থলের ওপর দিয়ে দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে যানবাহন।

অন্যান্য বছর একদিন আগে থেকে রাস্তা জুড়ে মঞ্চ তৈরি করা হয়। তবে সকালের দিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হাজির হয়েছিলেন শহীদ বেদীতে মাল্যদান করতে। যথাযথ সম্মানের সঙ্গে তারা পতাকা তুলে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে মৃত ১৩ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ঋণ এদিন শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন দলের সহ-সভাপতি সুব্রত বক্সী মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ শান্তনু সেন সংসদ মালা রায় পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সহ প্রমুখ।

ইতিমধ্যেই রজ্যজুড়ে গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।করোনা আবহে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যেই এই ভার্চুয়াল জনসভা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে মঞ্চের খুঁটি পোতার দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রহর গোনা। সমাবেশের দিন তিনেক আগে থেকেই কলকাতার ধর্মশালা, অতিথিআবাসগুলো হাউসফুল হয়ে যেত তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে। প্রায় এক মাস আগে থেকেই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাট-আউটে ‘ধর্মতলা চলো’ ডাক জানান দিত, একুশে জুলাই আসছে।

কিন্তু এদিন বেলা দুটোয় ভার্চুয়াল মঞ্চে তৃণমূলনেত্রীর বক্তৃতা শোনার সুযোগ থাকছে সবারই। কিন্তু তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে সমস্বরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগটা থাকছে না অনুগামীদের। যাঁরা অন্য বার রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল সাতটা থেকে জাগয়া দখল করেন নেত্রীর মঞ্চের সামনে। আর তিনি মঞ্চে এসে ‘আমরা কারা’ স্লোগান তুললেই গর্জে উঠতেন। তাঁদের নিয়েই জীবনে বহু অসাধ্যসাধনের সংকল্প গ্রহণ এবং সফল করেছেন মমতা। ভার্চুয়াল মঞ্চ থেকেই সেই কর্মীদের একুশের মন্ত্র দেন দলনেত্রী। বিধানসভা ভোটের আগের বছর হওয়ায় ধর্মতলার সমাবেশ নিয়ে বিপুল প্রত্যাশা ছিল অনুগামীদের। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই।
হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা স্টেশনের বাইরে কর্মীদের স্বাগত জানাতে তৈরি হয়নি ক্যাম্প-অফিস। কলকাতার রাজপথে ডালা পেতে বসে নেই ছবিওয়ালার দল। যাঁরা প্রত্যেক বছর একুশের আগে থেকেই তৃণমূলনেত্রীর ফটোফ্রেম থেকে শুরু করে ঘাসফুল চিহ্নের চাবির রিং, টি শার্টের পসরা নিয়ে বসে পড়েন বিক্রির আশায়। কিছুই নেই ।

সমাবেশে তৃণমূলনেত্রীর বক্তৃতার আগে সুমন-নচিকেতার গান যেমন বিশেষ আবহ রচনা করেছে বহু বার, ঠিক তেমনই প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘আমি বাংলার গান গাই’ও একুশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছিল। এবার সমাবেশ হচ্ছে না। তাই শিল্পী-সমাবেশও হয় নি। তবে দেব, মিমি, নুসরতকেও এবার একুশে জুলাই দেখা অধরা থেকে গেল অনেকের।

একুশে জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বে শহীদ দিবস পালিত হল। তবে এই বছর বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর আবহে প্রত্যেক বছরের মতো কেন্দ্রীয় সমাবেশ ধর্ম তলায় অনুষ্ঠিত হয্নি। তার বদলে সারা রাজ্যের প্রতিটি জেলা প্রতিটি বুথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দলনেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী বেলা ১টা থেকে ২টোর মধ্যে আমরা শহীদ দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয।

প্রতিটি বুথে একটি শহীদ বেদী নির্মাণ করে দলীয় পতাকা ও কালো পতাকা লাগিয়ে শহীদ দিবস পালন করা হয। যে ১৩ জন শহীদকে ১৯৯৩ সালে একুশে জুলাই মৃত্যু বরং করতে হয়েছিল তাদের নাম লেখা ফ্লেক্স টাঙিয়ে পালন করা হয।
বেলা দুটো থেকে দলনেত্রীর ভাষণ শুরু করেন। সেই ভাষণ যাতে প্রত্যেকটি মানুষের কাছে পৌঁছায় তার ব্যবস্থা করার জন্য মাইকিং এর ব্যবস্থা করা হয়। যাতে প্রতিটি মানুষ ঘরে বসে দলনেত্রীর ভাষণ শুনতে পারেন । এছাড়াও যাদের স্মার্ট ফোন আছে তারা ফেসবুক লাইভ মাধ্যমে দলনেত্রীর ভাষণ শোনেন।

প্রতিটি ভারপ্রাপ্ত দলীয় সদস্যদের কাছে , প্রতিটি ব্লকের ব্লক সভাপতি দের কাছে , অঞ্চলের অঞ্চল সভাপতিদের কাছে ,মাননীয় বিধায়কদের কাছে , মাননীয় জেলা পরিষদ সদস্যদের কাছে, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের কাছে,গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে , এই কর্মসূচি ১০০% সফল করার নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছিল। সকলকেই নিজের নিজের এলাকার অনুস্থানের ছবি তুলে ফেস বুকে পোস্ট করেন।

Related Articles

Back to top button
Close