fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ফের তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে, সহ সভাপতির দুর্নীতির বিরুদ্ধে মিছিল

পাল্টা মিছিল প্রধানকে বহিষ্কারের দাবিতে

রাজকুমার আচার্য, নন্দীগ্রাম (পূর্ব মেদিনীপুর): নন্দীগ্রামে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। শনিবার মিছিল, পাল্টা মিছিল করল তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠী।  নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি ছাড়াও জেলা এবং রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা শেখ আবু তাহের। তাঁরই বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মিছিল হল নন্দীগ্রামে। ১ নম্বর ব্লকের ৩ নম্বর কেন্দ্যামারী-জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় হাজরাকাটাতে এই মিছিল হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা নিয়ে মিছিলে হাঁটেন বিক্ষোভকারীরা।

 

তাঁদের অভিযোগ, শেখ আবু তাহের এবং শেখ সানোয়ার আলী সা নয়াচরে গরীব মানুষদের তাড়িয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অবিলম্বে তাঁদের বিচার চাই। অপর দিকে তৃণমূলের অন্য এক গোষ্ঠী দলীয় পতাকা নিয়ে শেখ আবু তাহেরের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, ওই এলাকার প্রধান মানসুরা বিবি এবং তাঁর স্বামীকে তৃণমূল দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। শেখ আবু তাহের ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দলীয় সভাপতিও।

 

প্রসঙ্গত, আমফান দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেণ্ড করা হয়েছিল নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের ৩ নম্বর কেন্দ্যামারী-জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মানসুরা বিবি ও তাঁর স্বামী নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা শেখ শাহাউদ্দিনকে। পরে দল সাসপেন্ড তুলে নেয়। নতুন করে প্রধান নির্বাচনের জন্য সরকারিভাবে নোটিশ করা হয়। দল থেকে যাঁকে নির্বাচন করা হয় নির্বাচনের দিন তিনি ওই পদ নিতে অস্বীকার করেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জন সমর্থন করে ফের মানসুরাকে প্রধান করান। অভিযোগ ওঠে প্রধানের স্বামী শেখ শাহাউদ্দিন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাঁর স্ত্রীকে প্রধানের আসনে বসিয়েছেন। ব্লক সভাপতি মেঘনাদ পাল কোর কমিটির মিটিং করে প্রধানকে পদত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেন।

 

প্রধান পদত্যাগ করেননি। প্রধানের স্বামী শেখ শাহাউদ্দিন তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ মেম্বারের সমর্থনে প্রধান নির্বাচন হয়েছে। তাই পদত্যাগ করার কোনও মানে হয় না। শেখ আবু তাহের প্রথম থেকেই আমাকে পচ্ছদ করেন না। তাঁর প্রধান কারণ আমার জনপ্রিয়তা উনি সহ্য করতে পারেন না। জেলা স্তরে এবং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে সমস্ত বিষয় লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমি তৃণমূল কংগ্রেসকে ভালবাসি। জমি আন্দোলনের সময় আমি সিপিএময়ের হার্মাদদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছি। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। কয়েক মাস জেল খেটেছি। এই দল আমার প্রাণ।’  শেখ আবু তাহেরের বিরুদ্ধে মিছিলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকরা তাঁর বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন বলে শুনেছি।  শেখ আবু তাহের ও শেখ সানোয়ার আলী সা নয়াচরে গরীব মানুষদের তাড়িয়ে দিয়ে সেই জায়গা টাকার বিনিময়ে বিলি করছেন। কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এঁরা। সেই কারণে এলাকার মানুষজন পথে নেমেছেন।’

 

শেখ আবু তাহের বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনে এসে কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। প্রধান ও তাঁর স্বামীকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে। শুধু আমফানের টাকা নয়, খাল সংকার ঠিক মতো না করা, রাস্তার কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়া, বাড়ি নির্মাণের সরকারি সাহায্য পাইয়ে দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়া-সহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। অনেকে লিখিতভাবেও আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোনও দুর্নীতিগ্রস্তদের দলে রাখা হবে না। শনিবারই সাংবাদিক বৈঠক করে ব্লক সভাপতির ওঁদের বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করার কথা ছিল। তিনি অসুস্থ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। যা কিছু সিদ্ধান্ত দলই নেবে।’

তাঁর বিরুদ্ধে নয়াচরে টাকা আত্মসাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওঁরা আগেও এই অভিযোগ করেছিলেন। দল প্রমাণ চেয়েছিল। কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি। সবই মিথ্যে অভিযোগ। আমি ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছি। অনেকে নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। আমি পরিবহন দপ্তরের একজন ডাইরেক্টর, নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও একাধিক পদে রয়েছি। আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে কিনা তা মানুষ বিচার করবেন। এত মানুষ আজ আমার কাছে ছুটে এসেছেন অভিযোগ করতে কারণ আমাকে ভালবাসে বলেই।

Related Articles

Back to top button
Close