fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সালিশি জরিমানা পছন্দ না হওয়ায় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস‍্যের বাড়িতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ

মিল্টন পাল, মালদা: ট্রাক দূর্ঘটনায় আহত হওয়ায় গাড়ি আটক করে গ্রামের বাসিন্দারা। তার পর বসে গ্রাম্য সালিশি। আর সেই সভায় জরিমানার টাকা পছন্দ না হওয়া দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। এরপর খোশালপুর গ্রামের বাসিন্দারা মারা ডাঙ্গী গ্রামের নির্বাচিত পঞ্চায়েত মেম্বার সেহেরুনা খাতুনের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়, লুটপাট করে, এমনকি অগ্নিসংযোগও করে বলেও অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের মারা ডাঙ্গী গ্রামে। ঘটনার খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।

জানা গিয়েছে, সোমবার রাত্রিবেলা গাড়ির ধাক্কায় আহত হয় একজন। এরপর গাড়ি আটকায় গ্রামের বাসিন্দারা। এরপর মারা ডাঙ্গি ও খোশালপুর দুই গ্রামের বাসিন্দারা সমস্যা সমাধানের জন্য সালিশী সভা হয়। সেখানে জরিমানার টাকা পছন্দ হয়নি গ্রামের বাসিন্দাদের। শুরু হয় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংর্ঘষ বাঁধে। এরপর খোশালপুরের প্রায় ৩০০ লোক এসে এই গ্রামে হামলা চালায়। এলাকার মানুষদের মারধর করে তারা তৃণমূল মেম্বারের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন লাগিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে এলাকায় ছেড়ে পালিয়ে যাই তারা। এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয় গ্রামের মেম্বার শাসক দলের। মূলত এই দুই মেম্বারের অনুগামী দের পারস্পরিক বিবাদের কারণে এই গণ্ডগোলের সূত্রপাত।

পঞ্চায়েত মেম্বারের স্বামী নুরুল ইসলাম জানান, সালিশি সভায় টাকার অংক পছন্দ না হওয়াতেই আমার বাড়িতে হামলা চালায় খোশালপুর বাসিন্দা। আমরা ভয়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়। সে সময় বাড়িতে ভাঙচুর চালায় লুটপাট করে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিসংযোগ করে তারা। আমি পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।

খোশালপুর গ্রামের মেম্বার রহানুল হক বলেন, আমি শুনতে পাই যে মারা ডাঙ্গী এলাকায় একটি ট্রাক দুর্ঘটনা হয়েছে। ওই এলাকার লোকেরা ট্রাকের চাবি এবং মোবাইল ফোন আটকে রেখেছে। আমি এক সিভিক পুলিশ কে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় মেম্বার এর কাছ থেকে ওইসব জিনিসও উদ্ধার করি এবং পুলিশের হেফাজতে করে দি। আমি ওখানে যতক্ষণ ছিলাম তখন কোন গণ্ডগোল হয়নি।

খোশালপুর এক বাসিন্দা তথা ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত আসাদ আলী জানান, খোশালপুর কোন লোকই ওই এলাকায় গন্ডগোল করেনি। মারা ডাঙ্গী লোকেরা নিজেরাই আগুন লাগিয়ে খোশালপুর এর নামে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেছে।ওদের অভিযোগ সমস্থটা ভিত্তিহীন।

চাঁচল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সজল কান্তি বিশ্বাস জানান, দুই পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীরা ছাড়া পাবে না। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close