fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দিনহাটার কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার জন্য উদ্যোগী প্রশাসন, আন্দোলনে নামল তৃণমূল নেতৃত্ব

সোমা কর, দিনহাটা: দিনহাটার কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার জন্য দিনহাটা মহকুমা প্রশাসন উদ্যোগী হতেই প্রতিবাদে আন্দোলনে নামল স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর থেকে শুরু করে দলের নেতারা। পাশাপাশি শহরের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও প্রতিবাদে নেমেছেন।

শনিবার শহরের মদনমোহন বাড়ি এলাকায় কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ দেখায় তারা। সরকারী এই উদ্যোগের বিরোধীতা করে এদিন এই বিক্ষোভে ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর নমিতা অধিকারী, তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কোচবিহার জেলা সহ-সভাপতি বিশু ধর, পুলক বোস থেকে শুরু করে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা আন্দোলনে নামলে ব্যপক আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে । মহকুমা প্রশাসন সূত্রে অবশ্য জানা গেছে মানুষকে বিপদে ফেলার জন্য এটা করা হচ্ছে না। যারা বাইরে থেকে আসছেন তাদেরকে নজরে রাখার জন্যই দিনহাটার কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

 

বিষয়টি নিয়ে কাউন্সিলর নমিতা অধিকারী বলেন , প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা যেমন ঠিক তেমনি জনবসতি এলাকায় কোয়রান্টিন সেন্টার করা নিয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করায় কাউন্সিলর হিসেবে তাকে থাকতে হয়েছে।

 

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের দেবাদৃতা চক্রবর্তী, পুলক বোস থেকে শুরু করে স্থানীয়ারা বলেন, বছর খানেক আগেই জনবহুল এই এলাকাতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠে। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন দিকে যেমন জনবসতি রয়েছে তেমনি রয়েছে দোকানপাট। করোনা ভাইরাস যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে তখন এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হলে সমস্যায় পড়তে হবে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের। স্থানীয়রা আরো বলেন যাদের এই কোয়রান্টিন সেন্টারে রাখা হবে তাদের মধ্যে কেউ সংক্রমিত হলে তা কোন না কোনভাবে ছড়িয়ে পড়বে গোটা এলাকায়। জনবসতি এলাকায় কোনোভাবেই তাই তারা কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খুলতে দেবেন না।

এদিকে করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । রোগ প্রতিরোধে প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় কোয়রান্টিন সেন্টার খুলে পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে সন্দেহজনক দের রাখা হচ্ছে । শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কে কোয়রান্টিন সেন্টার করার জন্য মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ শুরু হতেই শাসক দলের কাউন্সিলার থেকে শুরু করে নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয়রা প্রতিবাদ আন্দোলনে নামায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। এই আন্দোলনে স্থানীয়দের পাশাপাশি কাউন্সিলর থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতারা যুক্ত থেকে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে বলেও অভিযোগ।

বিষয়টি নিয়ে মহকুমা শাসক শেখ আনসার আহমেদ বলেন মানুষকে বিপদ থেকে রক্ষা করাই তাদের কাজ। তিনি বলেন এলাকার মানুষকে প্রশাসনের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। করোনা এমন একটি রোগ সেটি হাওয়ার থেকে ছড়ায় না। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে যথেষ্ট প্রটেকশন রয়েছে। সেখানে যারা থাকবে তারা কোনভাবেই বাইরে বের হতে পারবে না। এই সংকটকালে বিক্ষোভ না করে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্যও তিনি আবেদন জানান। সকলের সহযোগিতা করলে এই রোগ মোকাবেলা করা অনেকটাই সহজ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Related Articles

Back to top button
Close