fbpx
কলকাতাহেডলাইন

১০ বছরে কাজের মূল্যায়নে তৃণমূল, রিপোর্ট কার্ড দফতর ধরে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ১০০ দিন ১ কোটি মানুষের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা। ৯৫০টি দলে দলীয় কর্মীদের ভেঙে নিজেদের রিপোর্ট কার্ড দেওয়ার কাজ আজ থেকেই শুরু করছে তৃণমূল। বাংলায় ক্ষমতায় এসে মানুষকে যা যা করার কথা দিয়েছেন তার কতখানি তিনি করতে পেরেছেন আর কী-ই বা পারেননি তা বৃহস্পতিবার আমজনতার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

কী থাকছে এই রিপোর্ট কার্ডে? সূত্রের খবর, গত দশ বছর ধরে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার কি কাজ করেছে বাংলার মানুষের জন্যে, তার যাবতীয় খতিয়ান তুলে ধরা হবে এই রিপোর্ট কার্ডের মাধ্যমে। ‘দিদিকে বলো’, ‘বাংলার গর্ব মমতা’র পরে চালু হচ্ছে নয়া প্রকল্প ‘বঙ্গধ্বনি’। যার মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে পৌছবেন জনপ্রতিনিধি থেকে সাংগঠনিক পদের ব্যক্তিরা। তারাই মানুষের কাছে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে দেবেন। সেই উন্নয়নের চেহারাই প্রকাশ পাবে এই রিপোর্ট কার্ড পেশের মাধ্যমে।

গত ১০ বছরে রাস্তা থেকে পানীয় জল, বিদ্যুত্‍ থেকে সকলের জন্যে খাদ্য, স্বাস্থ্যসাথীর মতো বিশেষ সুবিধাও এনেছে রাজ্য সরকার। বিরোধীরা উন্নয়ন ইস্যুতে একাধিকবার আক্রমণ শানালেও মমতা বন্দোপাধ্যায় বা তাঁর দলের নেতা মন্ত্রীরা একপ্রকার নিশ্চিত মানুষের কাছে তাদের উন্নয়নের খতিয়ান পৌঁছে যাবে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ আস্থা রাখবে সেই উন্নয়নের উপরেই। তাই আজ থেকেই এই প্রচারে কোমর বেঁধে নেমে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। পেশ করা হবে ১০ বছরের রিপোর্ট কার্ড। এরপর কলকাতায় দফতরের মন্ত্রীরা সাংবাদিক সম্মেলন করে সেই রিপোর্ট কার্ডের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন। কলকাতায় ও জেলার মন্ত্রীরা সেই কাজ করবেন। এরপর জেলা নেতৃত্ব সেই বিষয়ে নিজেদের জেলায় কেন্দ্রীয় ভাবে প্রচার করবেন।

শুক্রবার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে সাংবাদিক সন্মেলন এবং মিছিল করে শুরু হবে ‘বঙ্গধ্বনি’ যাত্রার প্রচার অভিযান। আগামী ১০ দিনে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে তিন থেকে পাঁচটি দল যাত্রা শুরু করবে ধারাবাহিক ভাবে। জানা গিয়েছে ওই যাত্রায় চার হাজার নেতা ৯৫০টি দলে ভাগ হয়ে ২৭ হাজার ৫০০ এলাকায় যাবেন। রাজ্যের প্রায় আড়াই লক্ষ কিলোমিটার জুড়ে ১ কোটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবেন ওই প্রচারের দায়িত্বে থাকা নেতানেত্রীরা। তৃণমূলের দশ বছরের রিপোর্ট কার্ড বাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়াই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। সেই সঙ্গে দেওয়া হবে ২০২১ সালের ‘দিদিকে বলো’ পকেট ক্যালেন্ডার।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের আল্পস পর্বতাঞ্চলে ভেঙে পড়ল হেলিকপ্টার, মৃত ৫

এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত করতে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে তিনটি করে দল গঠন করা হয়েছে। যারা নিজেদের এলাকায় সমগ্র প্রচারের কাজ সম্পন্ন করবেন। এই তিন দলের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর দল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জেলা সভাপতি বা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের রাখা হয়েছে এই তালিকায়। মূলত তাঁরাই সমগ্র অভিযান পরিচালনা করবেন। এই প্রচার অভিযানের প্রতিটি মুহূর্তের উপরে নজরদারি চালাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রতিটি মিনিটের রিপোর্ট পাঠাতে হবে দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে। প্রচারের জন্য বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থাও করতে হবে। যেখানে দলীয় প্রতীক এবং নেত্রীর বড় ছবি থাকবে।

সম্প্রতি রাজ্য শুরু হয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি। রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে তার জন্য ক্যাম্প করা হচ্ছে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জেলায়। কোথাও আবার মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি প্রতিনিধিরা মানুষের কাছে জানতে চাইছেন কোন সরকারি প্রকল্পের সুবিধে তাঁরা পেয়েছেন আর কোন প্রকল্পের সুবিধা তাঁরা চেয়েও পাননি। সেটি তাদের কাছে যাতে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায় সেই চেষ্টাও করা হচ্ছে। তবে এনিয়ে অভিযোগও রয়েছে বিরোধীদের। রাজ্য বিজেপি নিরন্তর অভিযোগ করে চলেছে, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কৃষক সম্মান নিধি যোজনা লাগু করতে দেয়নি। চালু করা হয়নি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা। এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক অভিযোগ। সেসবের জবাব দিতেই আগামিকাল ইস্যু ধরে ধরে সরকারের কাজের খতিয়ান প্রকাশ করা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close