fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

একুশে তৃণমূলই সরকার গড়বে, শহিদ মঞ্চে হুঙ্কার মমতার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  একুশের ভোটের আগে আজ অন্য ২১ পালনে মমতা। একুশে জুলাইয়ের সভা এবার ভার্চুয়াল। করোনার কারণে এবার জেলায় জেলায় ব্লকে, ব্লকেও পালন করা হচ্ছে এই ভার্চুয়াল সভা। অন্যবারের মতো বিশাল সভা নয়, অগণিত মানুষের সমাবেশ নয়, এবারের সভা হৃদয় দিয়ে তৈরি । বললেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।  কালীঘাটে এবার ভার্চুয়াল মঞ্চ থেকেই ২০২১ সালের ভোটের দামামা বাজিয়ে দেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মঞ্চে উঠে  কেন্দ্র সরকারকে তোপ দেগে তিনি বলেন, রাজ্যজুড়ে অপপ্রচার চলছে। বহিরাগতরা বাংলা চালাবে না।  বহিরাগতরা বাংলা চালাবে না। বাংলার প্রতি বঞ্চনা করছে কেন্দ্র। এই বঞ্চনার বদলা আমরা নেব। তৃণমূলকে দুর্বল ভাবেন না। কেন্দ্র  ক্ষমতায় আছে বলে গায়ের জোর দেখাছে। সবাইকে আক্রমণ করা হচ্ছে। দিল্লিতে কি ভাবে খুন করা হল ভুলিনি। আমরা এনআরসি-র লড়াই ভুলিনি। মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক জন্ম কোথায় আপনাদের, কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছেন বলে ক্ষমতা দেখাচ্ছেন। সবাইকে আক্রমণ করছেন আপনারা। ভুলে যায়নি এনপিআর, এনআরসি’র লড়াই।

বাংলার সরকার ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিজেপিকে সমর্থন করলে ঠকবেন। জীবন যাবে জীবিকাও যাবে। বিজেপির আমলে টাকা লুঠ হয়েছে। টাকা দিয়ে রাজ্যে রাজ্যে সরকার ভাঙছে বিজেপি। সবার স্বাধীনতা কাড়ছে বিজেপি। বাংলাকে কব্জা করা যাবে না। বাংলা ভারতকে পথ দেখাবেন। একুশে তৃণমূলই সরকার গড়বে। তৃণমূলকে মনে রাখুন, পাশে থাকুন।নতুন বাংলা গড়াবে, নতুন দেশ গড়বে। আমাদের নেতা গান্ধিজি, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ, ক্ষুদিরাম, স্বামী বিবেকান্দ, রামকৃষ্ণ পরমহংস। ২১ জুলাই দিচ্ছে ডাক, বিজেপি বাংলা থেকে নিপাত যাক। ২১ মানে লড়াই, সংকল্প, বাংলার পথ দেখাবে। দিল্লির তাবেদার বলছে উপাচার্যদের গায়ে হাত দেব, বলেছি একবার হাত দিয়ে দেখুন কী হয় অবস্থা। ছাত্র আন্দোলন কী হয়।

মমতা বলেন, ‘কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে বলে গায়ের জোর? কখনও বলছে এনকাউন্টার করো, কখনও বলছে হিংসা করো, আপনাদের রাজনৈতিক জন্ম কোথায়? অনেকের তো নামই শুনিনি। কবে রাজনীতিতে এল ভাই! আমফান হল, বিজেপির কী নাচানাচি বাপরে!’ আমফান দুর্যোগের পর রাজ্যে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গে মমতা এদিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এলেন এক ঘণ্টার জন্য দয়া করে। আমরা কৃতজ্ঞ ওঁনার কাছে। এক হাজার কোটি টাকা দিলেন, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সে টাকা খরচ করে দিয়েছি।’ বিজেপি একটা তুচ্ছ রাজনৈতিক দল বলে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ট্রেনের পর এবার স্টেশনগুলিকে বেসরকারিকরণের ভাবনা কেন্দ্রের

২১শের মে মাসে বিজেপির জামানত বাজেয়াপ্ত করে বাংলা ছাড়া করতে হবে। বিজেপি ভোটের আগেই টাকা ছড়িয়ে জাল বিছাবে। আমার বুথের কর্মীরা ভয় না পেলে আমরা ভয় পাই না। আমি বন্দুক-গুলি কিছুতেই ভয় পাই না। কারও স্বাধীনতা নেই। সবার স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছেন। কিছু বললেই গায়ের জোরে এনকাউন্টার করছেন। কোনও ঘটনা ঘটলে রাস্তায় বসে পড়ছে, গাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে। পুলিশকে মারধোর করছে। দাদা-ভাই হয়েছে, তারাই সব করবে, সেটা হবে না। গুজরাত সারা দেশ শাসন করবে, সেটা হবে না। তাহলে রাষ্ট্রপতি শাসন করে দিন না। তাহলেই হয়ে যাবে।

বিজেপি তুচ্ছ রাজনৈতিক দল, সিপিএম-এর ৩৫ বছরের সরকার ফেলে দিলাম। বিজেপি টাকা দিয়ে সরকার ভাঙে। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটকে টাকা দিয়ে সরকার ফেলে দেয়। আমিও মানুষ। আমার লাঞ্ছনা, অসম্মান, চক্রান্ত, অপমান, সন্ত্রাস করা হয়। এই লড়াই হবে। এটা বরদাস্ত করব না। এর বিরুদ্ধে লড়াই করব। শান্তিতে কতদিন কাজ করেছি, কেন্দ্র অপমান করেছে, কেন্দ্র লাঞ্ছনা করেছে। ৬০ বছর পেরিয়ে গেলে সকলেই পেনশন পাবেন। হকার, ঠেলাওয়ালা, নির্মাণ কর্মী সকলেই এটা পাবেন।

বাংলায় বেকারত্ব কমেছে ৪৫ শতাংশ, সারা দেশে তা বেড়েছে ৪০ শতাংশ। এটা প্রশংসা করবেন না। এটাতেই নিন্দা করবেন। পে কমিশন আমরা চেষ্টা করেছি। মাইনে কত বেড়ে গিয়েছে। সকলকেই দেখেছি। আর কত করব বলুন তো। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এত ভাল পরিবেশ কোথায় আছে। তপশিলি, নমশ্রুদ্র, আদিবাসী সবার জন্যই রাজ্য বিশেষ পেনশন, স্কলারশিপ দেয়। এটা রাজ্য দেয় কেন্দ্র দেয় না এসব টাকা। ভাল চাল আমরা দিই, খারাপ চাল কেন্দ্রীয় সরকার দেয়। ওটা পচা চাল।বাংলা সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে, প্রথম স্থানে রয়েছে।  একমাত্র বাংলাতেই সব কাজ করার পরেও সরকারি কর্মীদের নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়।  রেল, কোল ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া সব টোটাল বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে পাঁচ বছরের জন্য ছুটি নিন। এটা কী হচ্ছে সারা দেশে।

আরও পড়ুন: পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রতি নজর দিচ্ছেন না, তাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছেন, রাজ্যপাল

যান বিজেপিশাসিত রাজ্যে যান। ত্রিপুরা-অসমে কী হয়েছে এনআরসি’র নামে। সবার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সারা রাজ্যেই শান্তির ও উন্নয়নের সরকার। কী চলছে উত্তরপ্রদেশে। মানুষকে দাসে পরিণত করেছে। পুলিশ স্টেশনে গিয়ে ডাইরি করবেন, পুলিশকেই খুন করা হচ্ছে। যে খুন করল, তাঁকেও খুন করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে কেউ উন্নয়নের কথা বলে না। ২০১৯-এ কয়েকটা সিট পেয়ে যেন সারা পৃথিবী দখল করে নিয়েছে। দিল্লির সরকার, চক্রান্তের জোরদার, দিল্লির সরকার, চক্রান্তের হাহাকার।

মৃত্যু হার ২.৬ শতাংশ। এটা কমাতে হবে। রোগীদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশের অবস্থা কঠিন। সেটা দেখছি আমরা। কী করে এটা কমানো যায়। এখন কোভিডের বেড রয়েছে ১৮ হাজার, এটা আগস্টের মধ্যে ২৬ হাজার হয়ে যাবে। ১৫ অগস্টের মধ্যে নমুনা পরীক্ষাও বেড়ে হয়ে যাবে ২৫ হাজার দৈনিক। কোভিড বাড়ছে, তা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আস্তে আস্তে করে দিচ্ছি সব ঠিক। মাটি সৃষ্টি বলে প্রকল্প করছি আমরা, যে মাটি রুক্ষ, কাজে লাগে না। তা নিয়ে কাজ হচ্ছে। ৫০ হাজার একর জায়গা নেওয়া হয়েছে। তাতে আড়াই লক্ষ লোক কর্মসংস্থান পাবেন।  আমরা সব উদ্বাস্তু ভাইবোনেদের নাগরিকত্ব দিয়েছি। ওঁরা শুধু বিভেদ করতেই জানে। সবার সঙ্গে সবার ঝামেলা লাগিয়ে দেয়। হিন্দু-মুসলমান-জৈন-শিখ-খ্রীষ্টান সকলেই আমাদের শরীরের অংশ।

দেশে কেউ কথা বলতে পারছে না, সবার মুখ বন্ধ, সারা দেশজুড়ে তাণ্ডব হচ্ছে, তাতে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদেরও স্মরণ করছি আমরা। প্রত্যেক শহিদ পরিবারের কাছে দোলা সেনকে পাঠিয়েছিলাম, সবার কাছে কৃতজ্ঞতা ও চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল শুধু আর ধর্মতলায় নেই, আজ ৬২ হাজার বুথেই পৌঁছে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও জোড়াফুল। আগামী বছর ২১ জুলাই সর্ববৃহৎ সভা হবে, সেবার সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সভা হবে। তার প্রস্তুতি এখনই শুরু হয়ে যাবে।

Related Articles

Back to top button
Close