fbpx
কলকাতাহেডলাইন

শহরে সবুজায়ন ফেরাতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস থেকেই গাছ লাগানো শুরু হবে

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘গাছ শুধু ছায়া নয় আমাদের নিশ্বাস নিতে সাহায্য করে, বাঁচিয়ে রাখে। তাই গাছ আমাদের মায়ের সমান। এই মুহূর্তে প্রায় ১৫০০০ মা শহর থেকে উপরে গিয়েছে। তাদেরকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। না হলে শহরের অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।’ মন্তব্য করলেন পুর মন্ত্রী তথা পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। শনিবার বনদপ্তর, পরিবেশ দপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পুরসভার বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমে এমনটাই জানালেন।

শহরের সবুজায়ন ফিরিয়ে আনতে বিশেষ কমিটি গঠন করল কলকাতা পুরসভা। শনিবার এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়েছেন পুরসভার বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম। পুরসভায় বনদফতরের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক সারেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম।প্রশাসকের সঙ্গে এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও শহরের পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।এই বৈঠকে বন দফতরের সাহায্যও চাওয়া হয়।

সবুজ শহরকে প্রায় ধূসরে পরিণত করেছে সুপার সাইক্লোন আমফান। শহর তথা রাজ্য জুড়ে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে সে। এই সুপার সাইক্লোনের জেরে শহর জুড়ে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার গাছ পড়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। এদিনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভা, পরিবেশ বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানান, “কলকাতা সবুজায়নের সুনির্দিষ্ট নীতি প্রয়োজন। সবুজায়নে বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩-৪ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে এই কমিটি। রিপোর্টের ভিত্তিতে বনদফতরের থেকে চারা কেনা হবে। শহরের সবুজ ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা বনদফতরের সাহায্য চেয়েছি।”

শহরে কোথায় কোন গাছ লাগানো হবে এই সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে তিন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি। ফিরহাদ বলেন, “৫ জুন পরিবেশ দিবস। ঐদিন থেকে আমরা বৃক্ষরোপণ শুরু করব। যেখানে গাছ ছিল সেখানে গাছই লাগাতে হবে। তবে সেটা প্ল্যান করে করতে হবে। কোথায় কি গাছ লাগানো যায়, রাস্তার ধারে কি ধরনের গাছ লাগালে তা ভেঙে পড়বে না, কোন গাছ থেকে ভালো অক্সিজেন পাওয়া যায় সব বিষয়ে জানার জন্য কমিটি তৈরি করা হয়েছে। জায়গা অনুযায়ী বিশেষ বিশেষ গাছ লাগাতে হবে।”

এবিষয়ে এদিন বৈঠকে উপস্থিত বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “শহরের সবুজায়ন রক্ষার কথা মাথায় রেখেই ঝড়ের আগের থেকেই এক লক্ষ পুরনো গাছ মজুদ করে রাখা হয়েছিল। নিম, দেবদারুর মত গাছ এক্ষেত্রে মজুত রাখা হয়েছিল। এছাড়াও তিন বছরের বয়সের মধ্যে সাড়ে ১২ হাজার গাছ মজুদ করে রাখা হয়েছিল। এই গাছগুলির উচ্চতা ১৮ফুটের মধ্যে”। অন্যদিকে সাড়ে চার হাজার গাছ মজুদ করে রাখা হয়েছিল, যেগুলির উচ্চতা কুড়ি থেকে ত্রিশ ফুটের মধ্যে। এই সমস্ত গাছগুলি শহরে পুনঃপ্রতিস্থাপন করা হবে বলেও এদিন জানান বনমন্ত্রী।

Related Articles

Back to top button
Close