fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

গাঁজা ও চরস বিপজ্জনক মাদক নয়, UNO’র ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সায় ভারতের

ভিয়েনা, সংবাদসংস্থা: প্রায় ৫৯ বছর পর গাঁজা ও চরসকে বিপজ্জনক মাদকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। গত বুধবার ইউএন কমিশন অব নারকোটিক ড্রাগস (সিএনডি)-এর ৬৩ তম অধিবেশনের নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সদস্য দেশ ভারত। তবে, সিএনডির ৫৯ সদস্য দেশের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে চিন, পাকিস্তান, রাশিয়ারসহ ২৫ টি দেশ। একমাত্র ভোটদানে বিরত থেকেছে ইউক্রেন।

এদিন রাষ্ট্রপুঞ্জের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কমিশন অব নারকোটিক ড্রাগসের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, গাঁজাকে ১৯৬১ সালের সিঙ্গল কনভেনশন অব নারকোটিক ড্রাগসের চার নম্বর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। ওই তালিকায় হেরোইনের মতো মাদককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অর্থাৎ রাষ্ট্রপুঞ্জ এতদিন মনে করত, গাঁজা হল হেরোইনের মতোই বিপজ্জনক মাদক।’ সূত্রের খবর, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে গাঁজাকে বিপজ্জনক মাদকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য স্বয়ং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) প্রস্তাব দেয়। এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসে হু’র প্রস্তাবটিকে কমিশন অব নারকোটিক ড্রাগসের সামনে পেশ করা হয়। যার পরিপেক্ষিতেই এদিন দীর্ঘ আলোচনা ও ভোটাভুটির মাধ্যমে গাঁজা ও চরসকে বিপজ্জনক মাদকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রপুঞ্জের এই সংস্থাটি।

একদা ব্রিটিশ সরকার ১৭৯৮ সালে গাঁজা, ভাঙ এবং চরস ব্যবহারের উপর শুল্ক বসানোর জন্য ভারতে আইন পাস করে। তারা এই সকল দ্রব্যগুলিকে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য একাধিক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বর্তমানে, ভারতের নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যানসেস অ্যাক্ট (এনডিপিএস), ১৯৮৫ অনুযায়ী গাঁজা উৎপাদন, কাছে রাখা বা পরিবহণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গন্য করা হয়। এই আইনের বলে সম্প্রতি অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পরে তাঁর বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী, রিয়ার ভাই শৌভিককে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনের ২৭এ, ২১, ২২, ২৯, ২৮ ধারায় মামলা করা হয়। যে আইনের ২১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তির কাছে বেআইনি মাদক দ্রব্য পাওয়া গেলে, বেআইনি মাদক দ্রব্য কেনা বা বেচা, উৎপাদন কিংবা তৈরি করতে দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। ৬ মাস পর্যন্ত জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। আটক করা মাদকের পরিমাণ বেশি হলে ১০ বছর পর্যন্ত হাজতবাস ও ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

কিন্তু, ভারতে বিগত কয়েক বছর ধরে গাঁজা এবং চরসকে মাদক তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়। আম আদমি পার্টির সাংসদ ধর্মবীর গান্ধি, অভিনেতা সাংসদ বিনোদ খান্নাসহ একাধিক সাংসদ গাঁজাকে বৈধ করার দাবিতে সরব হন। কেননা, পাঞ্জাব সহ একাধিক রাজ্যে অনেক কৃষক রয়েছেন যারা গাঁজা চাষ করেই জীবিকা অর্জন করেন। রাজনৈতিক এই কারণ ছারাও ভারতের সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে গাঁজার উপস্থিতি অত্যন্ত স্পষ্ট। হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রধান দেবতা শিবকে তো ‘ভাঙের প্রভু’ হিসেবেও দেখা হয়। কথায় আছে শিবকে সন্তুষ্ট করতে হলে ‘গাঁজা মাস্ট’।

একইসঙ্গে, গাঁজার ঔষধি ও আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ বৈদিক সাহিত্যে ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়। যেমন অথর্ব বেদে অসুস্থতা নিরাময়ের জন্য এবং ভূতদের বিরুদ্ধে মানসিকভাবে লড়াইয়ের গাঁজার ব্যবহারের প্রশংসা করা হয়েছে। অধ্যাপক মার্কএস ফেরারার তাঁর বই ‘পবিত্র পরমানন্দ: গাঁজার আধ্যাত্মিক ইতিহাস’ গ্রন্থে বেদের একটি স্তবক উল্লেখ করেছেন। এমনকী প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্র হিসেবে যে বইটিকে মান্যতা দেওয়া হয় সেই ‘সুশ্রুত সংহিতা’ বইতেও গাঁজার ঔষধি গুণাগুণ বর্ণনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া, বাংলার আদি সংস্কৃতি বাউল-ফকিরদের সাধনার একটা অঙ্গ গাঁজা।

Related Articles

Back to top button
Close