fbpx
অন্যান্যঅফবিটবিনোদনহেডলাইন

ভারতীয় সংগীত জগতের মুকুটহীন সম্রাট ‘কিশোর কুমার’, জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য 

বিশেষ প্রতিবেদন: আজ ভারতীয় সংগীত জগতের মুকুটহীন সম্রাট কিশোর কুমারের জন্মদিন। ১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট মধ্যপ্রদেশের খান্ডোবাতে এক বাঙালি গাঙ্গুলী পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কুঞ্জলাল গাঙ্গুলী ছিলেন একজন উকিল। তার মার নাম ছিল গৌরী দেবী। কিশোর কুমারের জন্মনাম ছিল আভাস কুমার গাঙ্গুলী। চার ভাই বোনের ভিতর কিশোর ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।


তিনি ভারতীয় সংগীত জগতের মুকুটহীন সম্রাট, একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, অভিনেতা, চিত্র নাট্যকার, গীতিকার, চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী  ছিলেন কিশোর। কিশোরের শৈশবকালীন সময়েই তার বড়দা অর্থাৎ জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা অশোক কুমার মুম্বইতে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে বড় সাফল্য পান। এই সফলতা ছোট্ট কিশোরের উপরে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। ছোটবেলা থেকেই কিশোর বিখ্যাত গায়ক কুন্দন লাল সায়গলের একজন বড় ভক্ত হয়ে উঠেছিলেন। তিনি সায়গলের গানগুলো অনুকরণ করতেন বা নকল করে গাইতেন। এছাড়াও তার বাড়ির লোক তাকে দাদা অশোক কুমারের বিখ্যাত গান “মেঁ বন কে পঞ্ছী বন বন কে” বার বার গাইতে বলতেন। জানা যায়, কিশোরের যখন ন’বছর বয়স তখন স্কুলের ছুটি কাটাতে তিনি বোম্বাই এলেন। ঠিক সেই সময় ‘অচ্ছুতকন্যা’ ছবির..সাফল্যের কারণে একটা পার্টি দিয়েছিলেন রায়বাহাদুর চুনিলাল।  ওই পার্টিতে রাজ্যপাল আসার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর আসতে দেরি হচ্ছিল বলে অশোককুমার তাঁর ছোট ভাই কিশোরকে গান গেয়ে সেদিনের পার্টির সবাইকে মুগদ্ধ করে দেয়।  এদিনের এই পার্টিতে হাজির ছিলেন হিমাংশু দত্ত, দেবিকারানি, শশধর মুখার্জির মতো সিনেমা ব্যক্তিত্ব। বলা হয়, জওহরলাল, তার মেয়ে ইন্দিরা ও সরজিনি নাইডু ‘অচ্ছুতকন্যা’ দেখতে এসেছিলেন। সরজিনী নাকি গানের সময় জানতে চেয়েছিলেন এই ছেলেটি কে? বড় ভাল গাইছে তো…! বম্বে টকিজের ‘জীবন প্রভাত’, ‘ভাবি’, ‘কঙ্গন’,  ‘বন্ধন’, ‘ঝুলা’প্রভৃতি ছবির সুরকার ছিলেন তিনি।


কিশোর কুমারের অভিনয় খুব একটা পছন্দ ছিল না। তিনি গান গাইতেই চাইতেন। কিন্তু তার গানের কোন ধরাবাঁধা শিক্ষা ছিল না। দাদা অশোক কুমারের ফিল্ম জগতে অনেক পরিচিতি থাকার ফলে কিশোর বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান কিন্তু সেগুলিতে দর্শকদের মনে তেমন সাড়া জাগাতে পারেননি। তবে এই চলচ্চিত্রগুলোয় তিনি গান গাইবার সুযোগ পেতেন। এই প্রাথমিক অবস্থায় তিনি কুন্দন লাল সায়গেলের গলা নকল করে গাইতেন।

এরপরে পরে এস.ডি. পরমর্শে তিনি নিজের গাইবার কায়দা পাল্টান। তার গানের বৈশিষ্ট্য ছিল গলাকে ভেঙে গান গাওয়া যা আগে কখনও শোনা যায়নি। তবে এই কায়দা খুবই জনপ্রিয় হয়। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত কমেডি নায়ক হিসাবে জনপ্রিয় হন। তার অভিনয়ের কায়দা ছিল অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সেই সময়ের প্রবল জনপ্রিয় এবং ক্ষমতাশালী তিন নায়ক – রাজ কাপুর, দেব আনন্দ ও দিলীপ কুমার বলিউড শাসন করা সত্ত্বেও কিশোর কুমার নিজের এক পৃথক জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হন। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে তিনি ছিলেন এক প্রবল ব্যস্ত, সফল নায়ক এবং গায়ক। এছাড়াও তিনি সুরকার, গীতিকার এবং প্রযোজকের ভূমিকাও পালন করতে লাগেন।

এরপর খেমচাঁদ প্রকাশের সুর জিদ্দি চলচ্চিত্রের গান গেয়ে কিশোর গায়ক হিসাবে পায়ের নিচে মাটি পান। এছাড়া অন্যান্য সুরকার যেমন রবি এবং দুই বিশিষ্ট গীতিকার –  কিশোরের ভক্ত হয়ে ওঠেন। এই সময়ের তার গায়ক হিসাবে অন্যতম চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে আছে পেয়িং গেস্ট (১৯৫৭), চলতি কা নাম গাড়ি (১৯৫৮), তিন দেবিয়াঁ। ষাটের দশকে কিশোরকুমারের বেশকিছু চলচ্চিত্র ব্যবসায়িকভাবে অসফল হয়ে পড়ে, এই সময় তিনি পাকাপাকিভাবে গানের জগতে নিজেকে যুক্ত করে ফেলেন মনে রাখার মত। মুনিমজি (১৯৬২), গাইড (১৯৬৫) এবং জুয়েল থিফ (১৯৬৭) চলচ্চিত্র তিনটিতে তার গাওয়া গান তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়।

১৯৬৬ সালে সুরকার হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে আর.ডি.বর্মনের। তার প্রথম দর্শকপ্রিয়-ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র তিসরি মঞ্জিলে কিশোর কোনও গান গাননি। কিন্তু ১৯৬৮ সালে ‘পড়োসান’ সিনেমায় রাহুল দেবের সুরে কিশোর বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান গান।

১৯৬৯ সালে আরাধনা মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রের নায়ক ছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা রাজেশ খান্না। রাজেশ খান্নার জন্য এই চলচ্চিত্রে কিশোর তিনটি গান গেয়েছিলেন – ‘কোরা কাগজ থা ইয়ে মন মেরা’ লতা মঙ্গেশকারের সঙ্গে -আর দুটি হোলো- রূপ তেরা মস্তানা এবং ‘মেরে সপনো কি রানী’। তিনটি গানই বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং কিশোর কুমারের সঙ্গীতজীবনকে আবার উপরে উঠিয়ে দেয়। এই চলচ্চিত্রে রূপ তেরা মস্তানা গানের জন্য কিশোর প্রথম বার ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার পান।

পরবর্তী বছরগুলোতে কিশোর গায়ক হিসাবে ব্যাপক সাফল্যতা লাভ করেন। সে সময়ে বলিউডে প্রতিষ্ঠিত সব নায়ক যেমন রাজেশ খান্না, শশী কাপুর, ধর্মেন্দ্র, রণধীর কাপুর, দেব আনন্দের জন্য তিনি গান গেয়েছেন। সেইসময় কিশোর ও লতার বেশ কিছু ভাল দ্বৈত গান তৈরি হয়। তবে চলচ্চিত্র জগতে কিশোর কুমারের অবদান ভোলার নয়।

Related Articles

Back to top button
Close