fbpx
কলকাতাহেডলাইন

আজ মহাষ্টমী, প্রথা মেনেই বেলুড়ে কুমারী পুজো

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: আজ মহাষ্টমী। প্রতি বছরের মতো এ বারেও মহাষ্টমীতে সাড়ম্বরে কুমারী পুজো শুরু হয়েছে বেলুড় মঠে। ‘সুভাগা’ রূপে পুজো করা হচ্ছে এক নাবালিকাকে।বেলুড় মঠে দুর্গাপুজো শুরু করেন স্বামী বিবেকানন্দ। সারদা দেবীর নামে দুর্গাপুজোর সঙ্কল্প করা হয়েছিল। সেই প্রথা মেনে এখনও চলছে সেই পুজো। প্রথম বর্ষেই ন’জন কুমারীকে একসঙ্গে পুজো করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাদের মধ্যে এক জনকে নিজের হাতে পুজো করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।

মণ্ডপে মণ্ডপে নো এন্ট্রি। করোনা প্রবেশাধিকার কাড়লেও কাড়েনি উত্‍সাহ। নিউ নর্মালে প্রথা মেনেই চলছে পুজো। আজ মহাষ্টমীতে প্রথা মেনে কুমারীপুজোর সাক্ষী থাকছে বেলুড়মঠও। এই প্রথার শুরু অবশ্য একদিনে নয়। তার বীজ প্রথিত ইতিহাসের অনেক গভীরে।

প্রথা মেনে প্রতি বছর মহাষ্টমীতে বেলুড় মঠের মূল মন্দিরে আত্মারামের কৌটো বার করে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের মহাস্নান করানো হয়েছে। শনিবার সকালে বেলুড় মঠের মূল মন্দিরের পাশে পুজোর মণ্ডপে কুমারী পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়। অন্যবার পুজোর পরে দর্শনার্থীর মধ্যে ভোগপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। সকাল থেকে বেলুড় মঠে ভক্ত সমাগম হয়। অন্যবার এইদিনে প্রায় কয়েক লক্ষ ভক্ত সমাগম হয় বলে জানা যায় বেলুড় মঠ কর্তৃপক্ষের সূত্রে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থলপথে-জলপথে কড়া নজরদারি চালানো হয় । স্পিডবোটে জলপথে নজর থাকে পুলিশের । এবারে সব বন্ধ। তাই অনালাইনে দেখানো হচ্ছে তাঁদের কুমারী পূজা। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে কুমারী পূজা।

৪ঠা কার্তিক (২১শে অক্টোবর) সোমবার ভোরবেলা সন্ধিপুজোর সময় স্বামীজী মণ্ডপে আসলেন। সেবার মোট নয়জন কুমারীকে প্রথমবারের জন্য পুজো করা হয় বেলুড়মঠে। স্বামীজী সেই সব কুমারী নির্বাচনের ভার অর্পণ করেছিলেন রামকৃষ্ণের মন্ত্রশিষ্যা, সারদেশ্বরী আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা গৌরী মায়ের উপর। নয়জন কুমারীকে শঙ্খবলয়, রক্তচন্দন, বস্ত্রাদি দিয়ে পুজো করছেন স্বামীজী, এই দৃশ্য ছিল নয়ানাভিরাম। ওই দিন সধবাদের এয়োরানি পুজোও হয় বেলুড়ে। মহানবমীর সন্ধ্যেয় নাকি গলাখুলে ভজন গেয়েছিলেন স্বামীজী। পরের বছরেই মৃত্যু হয় সারদাদেবীর। সে বছর ছেদ পড়লেও আর কখনও বাদ পড়েনি বেলুড়ের দুর্গাপুজো।

আরও পড়ুন: সন্ধিপুজোই চণ্ডীপুজো

১৯০১ খ্রিস্টাব্দে স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠে দুর্গাপুজো করলেন। শোনা যায় তিনি নাকি বেলুড়ে দুর্গাপুজো হচ্ছে এমনটা স্বপ্ন দেখেন। নিজেই কুমোরটুলিতে গিয়ে মূর্তি পছন্দ করে আসেন। ষষ্ঠীর দিন সকালে বাগবাজার থেকে শ্রীশ্রীমা তাঁর অন্যান্য ভক্তদের নিয়ে বেলুড়মঠে চলে এলেন। তাঁর থাকবার ব্যবস্থা হয়েছিল নীলাম্বর মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে। বলা হয় যে সন্ন্যাসীদের কোনও পুজো বা বৈদিক ক্রিয়াকাণ্ডে অধিকার নেই। কেননা তাঁরা সর্বত্যাগী। তাই শ্রীশ্রীমায়ের নামেই পুজোর সংকল্প করা হয়েছিল। আজও বেলুড়মঠের পুজোয় শ্রীশ্রীমায়ের নামেই সংকল্পের প্রথা চালু রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close