fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

ভারত-চিন সংঘর্ষের আবহে উপত্যকায় ৬টি সেতু উদ্বোধন করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

নয়াদিল্লি, সংবাদসংস্থা:  জম্মু-কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমানা এবং নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতে সড়ক এবং সেতুর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করে তুলতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে  ৬টি সেতু জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন। সীমান্ত সড়ক সংস্থা (বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন- বিআরও) এই সেতুগুলি রেকর্ড সময়ে নির্মাণ করেছে।

 প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বিআরও-র সমস্ত স্তরের কর্মী ও আধিকারিকদের রেকর্ড সময়ে এই ৬টি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করায় তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রতিকূল ভৌগলিক অবস্থান এবং আবহাওয়ার মধ্যেও এই সেতুগুলি নির্মাণ রেকর্ড সময়ে করা দারুন একটি ব্যাপার। সড়ক এবং সেতু, যেকোনও দেশের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়নে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি নিয়মিতভাবে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি করেন জানিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেছেন এই প্রকল্পগুলির জন্য অর্থের কোনো অভাব হবে না।

রাজনাথ বলেন, কোভিড মহামারীর কারণে সারা বিশ্বে সকলকে যখন দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে তখন এই সেতুগুলির উদ্বোধন করে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা একটি দারুন অভিজ্ঞতা।

 জম্মু-কাশ্মীরের জনসাধারণের সহযোগিতার জন্য তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আধুনিক সড়ক এবং সেতু নির্মাণ একটি অঞ্চলের সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। বর্তমান সরকার সীমান্ত এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নে দায়বদ্ধ। জম্মু এলাকায় ১ হাজার কিলোমিটার রাস্তা বর্তমানে তৈরি করা হচ্ছে।

 প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ২ বছর ধরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিআরও ৪ হাজার ২০০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৫ হাজার ৮০০ মিটার পাকা সেতু নির্মাণ করেছে। বিআরও-র প্রকল্পে তহবিলের কোনো ঘাটতি হবেনা জানিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর সত্ত্বেও সরকার বিআরও-র বাজেট কমায়নি।

 আজ যে ৬টি সেতু উদ্বোধন হয়েছে সেগুলির মধ্যে কাঠুয়া জেলায় তারনা নালায় দুটি এবং আখনোর-পালানওয়ালা সড়কে ৪টি সেতু  রয়েছে। এগুলি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৪৩ কোটি টাকা। ‘সম্পর্ক’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই সেতুগুলি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের যেমন যাতায়াত করতে সুবিধা হবে একইসঙ্গে এলাকার আর্থিক প্রবৃদ্ধিতেও এই সেতুগুলি সাহায্য করবে।

 ২০০৮-২০১৬ অর্থবর্ষে বিআরও-র জন্য আর্থিক বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা থেকে ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে এই বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে ৮ হাজার ৫০ কোটি টাকা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে সীমান্ত অঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নে ১১,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

 সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এম এম নারভানে, বিআরও-র মহানির্দেশক ডঃ অজয় কুমার সহ প্রতিরক্ষা দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Back to top button
Close