fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিজেপি সাংসদের চিঠির খোঁচায় আসরে নেমেও হতাশ করলেন পর্যটন মন্ত্রী

কোভিড হাসপাতালে ডাক্তারের অভাব মেটাতে হাত পড়ছে ব্লক হেল্থ সেন্টারে

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: আড়াই মাস সময় পেয়েও উত্তরবঙ্গে করোনা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারিনি রাজ্য সরকার। এখনও জেলায় জেলায় কোভিড হাসপাতাল তৈরি হয়নি। ফলে চাপ বাড়ছে শিলিগুড়ির কোভিড হাসপাতালে উপর। এই সংকটের মাঝেই দেখা দিয়েছে ডাক্তার ও নার্সের অভাব। উত্তরবঙ্গের করোনা চিকিৎসা পরিকাঠামোর এই হতাশাজনক চিত্র নিয়ে রাজ্যের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত চিঠি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসরে নামলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। কিন্তু তাতে অবস্থা পরিবর্তনের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।

সোমবার পর্যটন মন্ত্রী দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এস পুন্নমবলমের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলার কোভিড পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যাপারে। কিন্তু বৈঠক শেষে তিনি উৎসাহব্যঞ্জক কিছু শোনাতে পারেননি। পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘ শিলিগুড়িতে বেসরকারি নার্সিংহোমগুলি যাতে টাকার বিনিময়ে করোনা চিকিৎসা শুরু করে সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এনিয়ে জেলাশাসক নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।’

এর বাইরে তিনি জানিয়েছেন, পাহাড়ের জন্য ত্রিবেণীতে একটি কোভিড হাসপাতাল খোলা হচ্ছে এবং প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে কোয়ারান্টাইন সেন্টার তৈরির কথা ভাবা হয়েছে।’ কিন্তু প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও নার্সের ব্যাপারে এদিন পর্যটনমন্ত্রী কিছু জানাতে পারেননি। আর ত্রিবেনীতে কোভিড হাসপাতাল তৈরীর কথা গত একমাস ধরে শুনিয়ে আসছেন জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।

শিলিগুড়ির কোভিড হাসপাতালে যে ডাক্তার ও নার্সরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন তাদের পর্যায়ক্রমে কোয়ারান্টাইনে যেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আরও ডাক্তার ও নার্সের প্রয়োজন। জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা ভবিষ্যতের কথা ভেবে ডাক্তার ও নার্সের সেকেন্ড লাইন তৈরি করেননি বলে অভিযোগ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে ডাক্তারের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য ব্লক হেলথ সেন্টারগুলি থেকে ডাক্তারদের তুলে আনা হচ্ছে। এতে ব্লক হেল্প সেন্টারগুলি বন্ধ হওয়ার মুখে। বর্ষার সময়ে গ্রামেগঞ্জে সাপে কাটা ও পেটের নানা ধরনের রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সে ক্ষেত্রে সেখান থেকে ডাক্তার কোভিড হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে গ্রামের মানুষ এই ধরনের বিপদে চিকিৎসা পাওয়ার ব্যাপারে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।।

যদিও এ ব্যাপারে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকরা মন্তব্য করতে চাননি। আর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্যকে ফোন করা হলেই তিনি বলেন, ‘মিটিংয়ে রয়েছি’। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এত মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকার পরও কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পরিকল্পিতভাবে ডাক্তার ও নার্সদের প্যানেল তৈরি হল না কেন?

Related Articles

Back to top button
Close