fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

পিংলায় মদের নেশায় মর্মান্তিক পরিণতি! গৃহবধূকে কুপিয়ে খুন করে পলাতক স্বামী

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: মদের নেশায় ভয়াবহ নৃশংসতার শিকার হলেন এক গৃহবধূ। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা থানার ক্ষীরাই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত রামপুরা গ্রামে। মাথার কপাল এবং করোটি থেঁতলে দেওয়ার পাশাপাশি ভ্রু কুপিয়ে অমানবিক নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে ওই গৃহবধূকে। নিহত ওই মহিলার নাম রাধারানী পাল(২৮)। মৃতার ৭ বছরের এক শিশু সন্তান রয়েছে। পাশবিক বর্বরতার শিকার ওই গৃহবধূকে তাঁর স্বামীই খুন করেছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। ঘটনার পর থেকেই পলাতক মৃতার স্বামী ভোলানাথ পাল। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ প্রাথমিক অনুমান করছে যে গভীর রাত অথবা ভোরের দিকেই ঘটনাটি ঘটেছে। সাত সকালেই মৃতার শিশু সৌম্যদীপ মাকে বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে ডাকাডাকি করে কিন্তু মায়ের কোনও সাড়া না পেয়ে ছুটে যায় পাশেই তার কাকুর বাড়িতে। এরপরই সবাই ছুটে এসে দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানাতেই পড়ে রয়েছেন রাধারানী। প্রতিবেশীরা খবর দেন থানায়। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, মৃতার স্বামী ভোলানাথ অত্যন্ত ভাবে মদের নেশায় আসক্ত ছিল। এই নিয়ে সংসারে প্রায়ই অশান্তি হত এবং ভোলানাথ রাধারানীকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে যুক্ত বলে মনে করতেন। যদিও এসম্পর্কে কোনও উপযুক্ত প্রমাণ তার নিজের, এমনকি প্রতিবেশীদের কাছেও নেই। বারংবার সালিশি বসেও এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি হতভাগ্য পরিবারটি।

ভোলানাথের এক নিকট আত্মীয়র কাছ থেকে জানা যায়, বছর দশেক আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। বেলদা থানার তুতরাঙা এলাকায় বাপের বাড়ি রাধারাণীর। বিয়ের প্রথম দিক ভালই চলছিল। পিংলার জামানা বাজারে ভোলানাথের একটি চালু স্বর্ণালংকারের দোকান ছিল, কিন্তু এক রাতে সেই দোকান চুরির পরই সংসারে বিপর্যয় নেমে আসে। সর্বশান্ত হয়ে যান ভোলানাথ। মাথার ওপর লক্ষাধিক টাকার দেনা চাপে। এরপরও একটি ধাবা চালিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন কিন্তু তাতেও ভাগ্য সায় দেয়নি। বিপর্যস্ত ভোলানাথ ক্রমশ মদের নেশার প্রতি আসক্তি বাড়তে থাকে। মাঝখানে বেশ কয়েক মাস নিখোঁজও হয়ে যান তিনি। সংসারের ভার কাঁধে তুলে নিতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ রাধারানী নিজে চাকরির চেষ্টা করতে থাকেন। চাকরির জন্য দালালের পেছনে তিনিও বেশ কিছু অর্থ খুইয়েছেন।

শোনা যায় এই চাকরি খোঁজার সূত্রেই হয়ত রাধারানীর বাইরে বেরিয়েছেন, কারও সাথে যোগাযোগ করেছেন। সেখান থেকেই সন্দেহ উঠে এসেছে স্বামী ভোলানাথের। একে মানসিক বিপর্যস্ততা তার ওপর মদ আর সর্বশেষে সন্দেহ, যা ভোলানাথকে নিয়ে গেছে এই পাশবিকতার পথে। পুলিশ এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে দেখা যাচ্ছে কপালের মাঝখানে, কপালের বাঁ দিকে, মাথার পেছনের একাধিক জায়গায় থেঁতলে দেওয়া হয়েছে ভারী কোনও বস্তু দিয়ে। এছাড়াও বাঁ দিকে ভ্রুর ওপরে একটি কাটা চিহ্ন রয়েছে। মাথার খুলি কার্যত ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুনের বীভৎসতা প্রমান করছে প্রচন্ড রাগ থেকেই অপরাধী এই ঘটনা ঘটিয়েছে অথবা মদের ঘোরে আঘাত করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়েই ছুটে এসেছেন রাধারানীর বাবা হীরালাল জানা। তিনি জামাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় খুনের অভিযোগ করেছেন। হীরালাল বাবু বলেন, “প্রায়ই অত্যাচার করা হত মেয়ের ওপর। অনেকবার আলোচনায় বসেছি। জামাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এমন এই নির্মম পরিণতি যে হবে তা ভাবতেই পারিনি। আমার মেয়ের খুনের উপযুক্ত বিচার চাই।” ইতিমধ্যেই ভোলানাথের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close