fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বছর খানেক ধরে বিকল ট্রান্সফরমার, তবুও বিদ্যুৎ বিল আসার বিরাম নেই!

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যায় বছর খানেক আগে। তার পর থেকে বিকল ট্রান্সফরমার মেরামত কিংবা নতুন ট্রান্সফরমার লাগানো কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। সেই কারণে আজও সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ঢুবে থাকে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের ওর গ্রামের চারটি জনবসতি। তবু কোনও হেলদোল নেই প্রশাসনের। হেলদোল নেই বিদ্যুৎ দফতরেরও। অথচ বিদ্যুৎ বিল এসেই চলেছে।

গ্রামবাসীরা বলেন, এই ঘটনা বিষয়ে তারা স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিস, ব্লক প্রশাসনের দফতর এমনকী বিদ্যুৎ দফতরে গিয়ে বহু আবেদন নিবেদন করেছেন। কিন্তু ওর গ্রামের দুই আদিবাসীপাড়া, হাফেজপাড়া ও ডিস্কোপাড়ার মানুষজন বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিতই রয়ে গিয়েছেন। গ্রামে আর কোনও দিন বিদ্যুৎ পরিষেবা মিলবে কিনা তার উত্তরও সবার কাছে আজানাই রয়ে গেছে।

হাফেজ পাড়ার বাসিন্দা সেখ আলম শনিবার বলেন, বিকল ট্রান্সফরমার বদলে দেওয়ার জন্য তাঁরা বহুবার বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসে গিয়ে আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও আবেদনে কাজ হয়নি। অথচ প্রতিমাসে বিদ্যুতের বিল ঠিক এসে চলেছে। পরিষেবা না পেয়েও সেই বিল মেটাতে হচ্ছে। ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাবার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের তারও ছিড়ে পড়ে গিয়েছে । অপর বাসিন্দা প্রদ্যুৎ ঘোষ বলেন, গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকায় হারিকেন কিংবা লম্ফোর বাতি জ্বালিয়ে গ্রামের ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করতে হয়। সমস্যার কথা জানাতে তাঁরা বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। এমনকী বিদ্যুৎ দফতরের অফিস থেকে তাঁদের বেরও করে দেওয়া হয়।মাসের পর মাস বাড়িতে আলো না জ্বালিয়ে, পাখা না চালিয়েও তাঁদের বিদ্যুৎ বিল মেটাতে হচ্ছে। এটাই সবচাইতে আশ্চর্যের। বিদ্যুৎ পরিষেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত গ্রামবাসীরা এদিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন

বিদ্যুৎ না মিললে তাঁরা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রমুখী হবেন না ।
গ্রামবাসীদের সমস্যার কথা এদিন স্বীকার করেনিয়েছেন ভাতারের সাহেবগঞ্জ ২ পঞ্চায়েতের প্রধান বিনয় ঘোষ। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিষেবা না মেলায় ৫০ – ৬০ ঘর বাসিন্দা খুব কষ্টে আছে। বিকল ট্রান্সফরমার বদলে নতুন ট্রান্সফরমার যাতে বসানো হয় তার চেষ্টা আমরা চালাচ্ছি’।

আরও পড়ুন:মহিলাকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় অভিযোগকারিণীকে লক্ষ্য করে গুলি, একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট

ভাতারের বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল বলেন, এই বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া বলেন, ‘গোটা বিষয়টি তিনি শুনেছেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই চারটি পাড়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা যাতে স্বাভাবিক করা যায় তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

Related Articles

Back to top button
Close