fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোলাঘাটে বেআইনিভাবে সরকারি বৃক্ষছেদন, নির্বিকার প্রশাসন

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : একসময় এখানে ছিল সারি সারি আকাশমনি ও ঝাউগাছ। আজ শেষের মুখে। না, আমফান ঝড়ে নয়। এক শ্রেনীর মুনাফাখোর মানুষ অবৈধভাবে কেটে নিচ্ছে সব। তাঁদের আগ্রাসী খিদে আমফানকেও হার মানায়! সাধারণ মানুষ সরব হলেও হেলদোল নেই প্রশাসনের।

রূপনারায়ন নদীর ধারে কোলাঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যে ইনটেক পাম্প হাউস রয়েছে, ঠিক তার পরে কোলাঘাট থেকে তমলুক নদীবাঁধ ধরে যাওয়ার পথে বামদিকে আমলহান্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দেনান থেকে বাঁপুর পর্যন্ত বেশ কিছুটা জায়গা জুড়ে এখন মরুভূমির প্রস্তুতি। নদীর চরে প্রচুর আকাশমনি ও ঝাউ গাছের বন ছিলো। একটা সময় শোনা যায়, পঞ্চায়েত থেকে এই গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। বহু গাছ চর ভাঙার ফলে নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন যে গাছগুলো অবশিষ্ট রয়েছে সেগুলির অধিকাংশ বেশ কয়েকদিন ধরে কেটে নেওয়া হচ্ছে চুপিসাড়ে।

মেচেদা, কোলাঘাট সহ জেলার অন্যান্য প্রান্তের মানুষজন শীতকালীন পিকনিক এখানে করতে আসেন। প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য নিভৃতে সময় কাটানোর একটা মনোরম পরিবেশ এটাই। সেই অপরূপ সৌন্দর্য ক্রমশঃ হারিয়ে যাচ্ছে। নিভৃতস্থান আর থাকবেনা। কিছু অসাধু লোক ও স্থানীয় প্রশাসনের গোপন সহযোগিতায় এই গাছ নিধনযজ্ঞ চলছে। কোনও বাধা নেই প্রশাসনের।

জায়গাটা দেনান ইনটেক পাম্প হাউস থেকে বাঁপুর নদীর পাড়ের মধ্যে কাউরচণ্ডী শ্মশান এর কাছে। স্থানীয় বাসিন্দা দেবোপম দাস জানান, বেশ কিছু কাটা গাছ স্থানীয় এক ইঁট ভাটার ভেতরে জমা করা হয়েছিল। আর কিছু কাঁউরচন্ডী শ্মশানের সামনে আছে। রাতের অন্ধকারে ইঁট ভাটা ও শ্মশানের বহু গাছ আর নেই। সব পাচার করে দিয়েছে।

কোলাঘাটের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাছগুলো বনের ভেতরের অংশ থেকেই কাটা হচ্ছে। বাইরে থেকে চট করে বোঝা যাবে না কত পরিমাণে গাছ কেটে ফাঁক করে দিয়েছে।

ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে মেছেদা কোলাঘাট প্রতিবাদ মঞ্চ। প্রত্যেকেই চান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হোক। এভাবে গাছ কাটা হচ্ছে, অথচ প্রশাসন নীরব – বিষয়টি ভাববার আছে। আসলে এলাকার বেশকিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি পঞ্চায়েতের যোগসাজশে একাজ করছে বলে অভিযোগ। সবুজ ধ্বংস করার খেলায় মেতে উঠেছে তাঁরা।

Related Articles

Back to top button
Close