fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লোহার অ্যাঙ্গেল বোঝাই ট্রেলার হাইজ্যাক করতে চালককে খুন, দুই অভিযুক্তের যাবজ্জীবন সাজা শোনালো আদালত

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: চালককে নৃশংস ভাবে খুন করে লোহা বোঝাই ট্রেলার ছিনতাইয়ের দায়ে দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বর্ধমান আদালত। সাজাপ্রাপ্তরা হল রাজকিশোর রায় ও ছবি রায় ওরফে উপেন্দর।

তাদের বাড়ি বিহারের বক্সার জেলার নওয়ানগর থানার বিচলিভারৌলিতে ।শুক্রবার বর্ধমান ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক দীপ্ত ঘোষ তাঁদের এই সাজা শুনিয়েছেন । একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্তদের ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে সাজাপ্রাপ্তদের আরও ১ বছর কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক । সাজাপ্রাপ্তরা যদিও এই রায়ে খুশি নয়। তারা উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা শুনিয়েছে ।

বর্ধমান আদালতের সরকারি আইনজীবী শিবরাম ঘোষাল জানিয়েছেন ,২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবরের ঘটনা । ওই দিন ট্রেলার চালক পিন্টু যাদব দুর্গাপুরের কোকওভেন এলাকার একটি কারখানা থেকে তাঁর ট্রেলারে লোহার অ্যাঙ্গেল বোঝাই করেন। সেই ট্রেলার চালিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগণায়। ট্রেলারে খালাসি হিসাবে ছিলেন তাঁর ভাই বিশ্বকর্মা যাদব।তাঁদের বাড়ি বিহারের জিবি নগর থানার ভরতপুরায়। ট্রেলারে লোহার অ্যাঙ্গেল লোড করার সময়ে পিন্টুর সঙ্গে পরিচয় হয় তিন যুবকের ।

তারা নিজেদের লরিচালক বলে পিন্টুর কাছে পরিচয় দেয় ।ওই তিন যুবক তাদের কলকাতায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য পিন্টুকে অনুরোধ করে । পিন্টু সেই অনুরোধ ফেরিয়ে না দিয়ে তিন অপরিচিতকেই তাঁর ট্রেলারে তুলে নেন। ওই দিন ২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরেই ট্রেলার চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল পিন্টু । রাত ৮টা নাগাদ খাবার খাওয়ার কথা বলে তিন অপরিচিত পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার মশাগ্রাম ফ্লাইওভারের কাছে একটি হোটেলের সামনে ট্রেলারটি দাঁড় করানোর জন্য পিন্টুকে বলে ।

সেইমতো পিন্টু ট্রেলারটি সেখানে দাঁড় করায়।ওই সময়েই তিনজন কৌশল করে খালাসী বিশ্বকর্মাকে জল আনতে পাঠায় । কিছুক্ষণ পর ট্রেলারে স্টার্ট দেওয়ার শব্দ শুনে বিশ্বকর্মা দৌড়ে ট্রেলারের কাছে পৌঁছান । সেখানে পৌছে বিশ্বকর্মা দেখেন, ট্রেলারের কেবিনে ওই তিনজন বসে আছে অথচ তার দাদা কেবিনে নেই । সন্দেহ হয় বিশ্বকর্মা ট্রেলারে চেপে পড়ে তাঁর দাদার কথা জিজ্ঞাসা করতেই তিনজন বিশ্বকর্মাকে ভয় দেখায়। ট্রেলার ছিনতাই করতে তিন জন কেবিনে চেপেছে বুঝতে পারার পরেই বিশ্বকর্মা চলন্ত ট্রেলার থেকে ঝাঁপ দিয়েদেন ।

এরপরেই ওই তিনজন লোহার অ্যাঙ্গেল বোঝাই ট্রেলার নিয়ে চম্পট দেয় । নিরুপায় হয়ে খানিকটা এগিয়ে গিয়ে একটি হোটেলে পৌঁছে বিশ্বকর্মা। তিনি হোটেলের মালিককে সব কথা খুলে বলেন । ততক্ষনাৎ হোটেলের মালিক ও হোটেলের অন্যান্য কর্মীরা হোটেল ছেড়ে পিন্টুর খোঁজ করতে শুরু করেন ।তাঁরা ২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে ড্রেনের মধ্যে রক্তাত ও জখম অবস্থায় পিন্টুকে পড়ে থাকতে দেখেন । তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।পিন্টুকে উদ্ধার করৈ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার সবিস্তার জানিয়ে বিশ্বকর্মা পরদিন জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে খুন ও ডাকাতির ধারায় মামলা রুজু করে জামালপুর থানার পুলিশ ট্রেলারের খোঁজ চালানো শুরু করে । অভিযোগ দায়েরের পরেরদিন লোহা সহ ট্রেলারটি মেমারি-তারকেশ্বর রোডে জামালপুর থানার আঝাপুর হাইস্কুলের কাছ থেকে উদ্ধার হয়। তদন্তকারী পুলিশ অফিসার জানতে পারেন চালক পিন্টুর তিনটি মোবাইল ফোনই দুষ্কৃতিরা হাতিয়ে নিয়েছে ।

Related Articles

Back to top button
Close