fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আদিবাসী যুবকদের মারধর ও আক্রমনের প্রতিবাদে পানাগড়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ আদিবাসীদের

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: কাঁকসার গোপালপুরের ঘটনার জের। অভিযুক্তদের সকলকে গ্রেফতারের দাবীতে ও আদিবাসীদের ওপর আক্রমনের প্রতিবাদে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কাঁকসা। শুক্রবার কাঁকসার দু-দুটি সড়ক অবরোধ করল আদিবাসীরা। দুপুর থেকে অবরোধে অবরূদ্ধ হয়ে পড়ল ২ নং জাতীয় সড়ক ও পানাগড়- মোরগ্রাম রাজ্য সড়ক। শেষপর্যন্ত জেলার উচ্চ পদস্ত আধিকারিকদের আশ্বাসে বিকাল নাগাদ অবরোধ ওঠে।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই কাঁকসার গোপালপুর পঞ্চায়েতে বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবী জানাতে গিয়েছিল এলাকার কয়েকজন অদিবাসী যুবক। অভিযোগ ওই সময় পঞ্চায়েত প্রধান ও আধিকারিকদের সঙ্গে আদিবাসী যুবকদের বচসা হয়। সেখানে পঞ্চায়েতের গেট বন্ধ করে আদিবাসী যুবকদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও পঞ্চায়েতে প্রধান, আধিকারিককে মারধর ও ভাঙচুর  করা হয় বলে পাল্টা অভিযযোগ করে গোপালপুর পঞ্চায়েতের প্রধান। ঘটনায় ওই দিন আদিবাসীদের বিক্ষোভকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করলে ওইদিন রাত্রে বিক্ষোভ তুলে নেয় আদিবাসীরা। এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চরম হুঁশিয়ারী দেয়। এদিকে ওই ঘটনায় আদিবাসীদের মারধরে একটি ভিডিও ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওতে অভিযুক্তদের মধ্যে রমেন মন্ডল নামে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এক যুবককে কাঠ দিয়ে মারধর করছেন। যদিও পুলিশ গত ৮ জুলাই রমেন মন্ডল সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। এদিকে বাকি অভিযুক্তদের মধ্যে গোপালপুর পঞ্চায়েত প্রধান ও আরও একজন গ্রেফতার না হওয়ায় আবারও প্রতিবাদে সরব হয় আদিবাসীরা। শুক্রবার কাঁকসায় বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও দুদুটি সড়ক অবরোধ করে। এদিন দুপুরে কাঁকসার ডাকবাংলো মোড় থেকে তাদের মিছিল বের হয়। মিছিলের নেতৃত্বে ছিল আদিবাসী গাঁওতা সংগঠন। প্রায় হাজারখানেক আদিবাসী লোকজন পানাগড় বাজার দিয়ে বুদবুদের রেল ওভারব্রীজ এলাকায় ২ নং জাতীয় সড়কে ওঠে। সেখান থেকে জাতীয় সড়কের একটি লেন ধরে কাঁকসার দিকে রওনা দেয়। জাতীয় সড়কের কাঁকসার শেরপুর এলাকায় ও পানাগড়-মোরগ্রাম রাজ্য সড়কের ওপর অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। ফলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আদিবাসী গাঁওতা সংগঠনের সুনীল সোরেন প্রশ্ন তুলে বলেন,” বারবার মাস চারেক আগে দুর্গাপুরের কমলপুরে আমাদের একটি পরিবারের ওপর আক্রমন হয়। তাতেও রাজ্যের শাসকদলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হামলা করে। তারও আগে কাঁকসার বিডিও অফিস এলাকায় আদিবাসীদের ওপর আক্রমন হয়। সম্প্রতি গোপালপুরের ঘটনায় আরও একবার প্রমান করল। রাজ্যে গনতন্ত্র নেই। বার বার আদিবাসীদের ওপর আক্রমন কেন? গোপালপুরের ঘটনায় সব অভিযুক্তদের পুলিশ  গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আগামীদিনে রাজ্যব্যপী এই আন্দোলন হবে।” এদিন বিকাল নাগাদ পশ্চিম বর্ধমান জেলার উচ্চপদস্থ কর্তাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় আদিবাসীরা। এসিপি (কাঁকসা) শ্বাশতী শ্বেতা সামন্ত বলেন,” ঘটনার তদন্ত চলছে।”

Related Articles

Back to top button
Close