fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুজো করে ‘করানো মা’কে তুষ্ট করে সুন্দরবনের একশো দিনের কাজে আদিবাসী মহিলা শ্রমিকরা

ফিরোজ আহমেদ, সুন্দরবন: ভক্তিভরে পুজো করে করানো মা’কে তুষ্ট করার পর একশো দিনের কাজে যোগ দিলেন সুন্দরবনের কয়েকশো আদিবাদী মহিলা শ্রমিক। মঙ্গলবার থেকে তাঁরা নদী বাঁধ মেরামতির কাজে যোগ দিয়েছে। গ্রামের এক প্রতিবেশীর মৃত্যুর ঘটনার পর ওই গ্রামবাসীরা করোনার ভয়ে বাড়ি সিঁধিয়ে ছিলেন। গ্রামের মধ্যেই নিজেদের এক রকম কোয়ারেন্টাইনে ঘিরে রেখে ছিলেন। শেষমেষ রীতিমতো সোমবার ঢাকঢোল পিটিয়ে, কাঁসর-ঘন্টা বাজিয়ে, শাঁখ, সিঙা ফুলিয়ে এই ‘অনপড়’রা পান পাতায় সিঁদুর মাখিয়ে লাড্ডুর নৈবেদ্য সাজিয়ে ‘করোনা মা’কে পুজো করে গর্ত করে ‘কবর’ দিয়ে তবেই নিজেরদের সিদ্ধ করেছেন। সংস্কারাচ্ছন্ন এইসব ‘গাঁওয়ার’ মানুষের বিশ্বাস তাঁরা এখন করোনামুক্ত। এবার তাঁরা সর্বত্র যেতে পারবেন।

 

 

ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং-১ ব্লকের কিনারীঘাটা পঞ্চায়েতের জয়রামখালি গ্রামের। মাসখানেক আগে ওই গ্রামের এক বাসিন্দার কলকাতায় থাকালীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার পর এলাকায় করোনার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও সেই মৃত্যু সম্পর্কে ডাক্তার নিশ্চিত নয়। তবুও গ্রামের মানুষ করোনার আবহে আচ্ছন্ন ছিলেন। তাঁদের অভয় দিয়ে বারবার একশো দিনের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য নিকারীঘাটা পঞ্চায়েতের তরফ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছিল।

 

 

 

‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে শ্রমিক সংগ্রহ অভিযান’ও চালানো হয়েছিল। তারপরও তাঁদের কেই ঘর থেকে বাইরে উঁকি মেরেও দেখেননি। অভাবের তাড়নায় জর্জরিত এই মানুষজন অর্ধাহারেও দিন কাটিয়েছেন। কিন্তু জেদ থেকে অটল ছিলেন। শেষমেশ তাঁরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে তাদের কল্পিত ‘করোনা দেবী’ কে আরাধনা করে রুষ্ঠ দেবীকে শান্ত করেছেন। এই প্রসঙ্গে ক্যানিং-১ ব্লকের বিডিও নীলাদ্রিশেখর দে বলেছেন, ‘করোনা একটি ভাইরাসঘটিত সংক্রমন। এটা কোনও দেবদেবী নয়। জয়রামখালি সহজ-সরল মানুষজন কেবলমাত্র সংস্কারেরবশবর্তী হয়ে পুজো করেছেন। আমরা কারোর বিশ্বাসে আঘাত করতে পারি না। তবে আমরা খুশি ওই মানুষজনকে ‘একশো দিনের কাজ’ যোগ দেওয়ার পেরেছি।’

Related Articles

Back to top button
Close