fbpx
অন্যান্যঅফবিটগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্তের ১১১তম জন্মদিবস পালনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন

শান্তনু অধিকারী, সবং: তিনি ছিলেন অগ্নিযুগের বীর বিপ্লবী। দুঃসাহসের ডানায় উড়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বিপ্লবের আগুন। তাঁর ছোঁড়া গুলিতেই কলিজিয়েট স্কুলের প্রদর্শনী কক্ষে প্রাণ হারিয়েছিলেন অত্যাচারী পেডিসাহেব।কলকাতায় আরেক অত্যাচারী সাহেব ভিলিয়ার্সকেও হত্যা করার লক্ষ্যে চালিয়েছিলেন গুলি। অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় তাঁর সেই দুঃসাহসী প্রচেষ্টা। তিনি মেদিনীপুরের বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্ত।

তবে মেদিনীপুর ছিল না তাঁর জন্মভূমি। কবিরাজি চিকিৎসক বাবার হাত ধরেই বরিশাল থেকে তাঁর মেদিনীপুরে আসা। পরবর্তীকালে এই মেদিনীপুরের মাটিই হয়ে উঠেছিল তাঁর কর্মভূমি তথা বিপ্লবের তীর্থভূমি। বহু বছর দ্বীপান্তরের শাস্তি ভোগ করেও ফিরে এসেছিলেন মেদিনীপুরেই। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আঁকড়ে ছিলেন মেদিনীপুরের মাটিকেই। এই লকডাউনের মধ্যেও গতকাল মেদিনীপুর শহরে পালিত হল তাঁর ১১১তম জন্মদিন। ‘মিদনাপুর ডট ইন’-সহ ‘বিমল দাশগুপ্ত স্মৃতিরক্ষা কমিটি’, ‘যাদের দেখে না কেউ’ নামের সংগঠনগুলো এগিয়ে আসে তাঁদের প্রিয় বিপ্লবীর জন্মদিন উদযাপনে। মেদিনীপুর শহরে অবস্থিত বিপ্লবীর দু’টি মূর্তিতেই মাল্যদান করা হয় সংগঠনগুলির তরফে।

‘মিদনাপুর ডট ইন’-এর কর্ণধার অরিন্দম ভৌমিক, সংগঠনের আরেক সদস্য সুব্রত দে-কে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন কলিজিয়েটের মাঠে। এখানেই রয়েছে বিপ্লবীর পূর্ণাবয়ব মূর্তি। অরিন্দমবাবু জানালেন, ‘লকডাউনের জন্য পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পালন করতে পারিনি। সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে যতটা সম্ভব, ততটাই করেছি। ধূপ জ্বেলে মালা দিয়েছি।’ এরপর অরিন্দমবাবুরা হাজির হন শহর লাগোয়া রাঙামাটিতে অবস্থিত বিপ্লবীর আবক্ষমূর্তিতে মাল্যদান করতে। এখানে উপস্থিত ছিলেন ‘যাদের দেখে না কেউ’-এর তরফে সুশান্ত ঘোষ, দেবব্রত পাত্র প্রমুখরা। সুশান্তবাবু জানালেন, ‘বিমল দাশগুপ্ত মেদিনীপুরের অহংকার। তাঁর আপোষহীনতা, চরিত্রের বলিষ্ঠতা সকলের কাছেই শিক্ষণীয়।’ ‘বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্ত স্মৃতি রক্ষা কমিটি’র সদস্যরাও এদিন কলিজিয়েটের মাঠে উপস্থিত হয়ে বিপ্লবীর পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে মাল্যদান করেন।

স্বাধীন দেশে তিনি একটি মিষ্টির দোকান দিয়েছিলেন। মেদিনীপুর কলেজ লাগোয়া সেই দোকানটিকে পরবর্তীকালে পেটের দায়ে করেছিলেন ভাতের হোটেল।দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেও গ্রহণ করেননি স্বাধীনতা সংগ্রামীর পেনশন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিজের শর্তেই বেঁচেছেন তিনি। সব রাজনৈতিক দলই এই ‘চির উন্নত শির’ মানুষটিকে নিয়ে টানাটানি করেছে। কিন্ত মনেপ্রাণে বামপন্থী হলেও কোনও রাজনৈতিক দলেই তিনি নাম লেখাননি কোনওদিন। হয়তো সেজন্যই তিনি রয়ে গেছেন প্রচারের আড়ালে। ২০০০ সালের ৩মার্চ, তাঁর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত জুটেছে কেবল অবহেলা।

যথার্থই বললেন অরিন্দম, ‘পরাধীন ভারতবর্ষে তিনি দ্বীপান্তরের শাস্তি ভোগ করেছিলেন। আন্দামানের সেলুলার জেলে কাটিয়েছিলেন জীবনের অমূল্য প্রায় ন’টা বছর। স্বাধীন দেশে তাঁর বিরল ব্যক্তিত্বই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছিল। তিনি প্রচার চাননি, সুযোগও চাননি কোনওদিন। সুযোগসন্ধানীদের ভিড়ের মাঝে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি তাই বিপ্লবীই থেকেছেন!’ কতিপয় সংগঠন বাদে বিপ্লবের ধাত্রীভূমি মেদিনীপুর কি সত্যিই মনে রেখেছে, বিপ্লবী দীনেশ গুপ্তের হাতে গড়া, তার এই প্রিয় বিপ্লবীকে?

Related Articles

Back to top button
Close