fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষ ঘিরে এখনও উত্তপ্ত বর্ধমানের গলসি, জখম ১০

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে সোমবার ফের উত্তপ্ত হল পূর্ব বর্ধমানের গলসি। এদিন গলসির পারাজ মোড়ে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে এক গ্রামবাসী সহ উভয় পক্ষের দশ জন জখম হন। খবর পেয়ে গলসি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় গলসির পুরসা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। আঘাত গুরুতর থাকায় বিজেপি কর্মী সমরেশ নায়েক, তৃণমূল কর্মী সেখ রিপন ও গ্রামবাসী সন্তোষ বাগদিকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফের যাতে সংঘর্ষ না বাঁধে তার জন্য পারাজ এলাকায় জারি রয়েছে পুলিশি তৎপরতা। শুরু হয়েছে ধরপাকড়।

বিজেপি কর্মী মঙ্গল কেশ জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সূত্রপাত রবিবার দুপুরে। পারাজ এলাকায় বিজেপির পতাকা বাঁধাতে গেলে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা বাঁধা দেয়। বিজেপি কর্মীদের লক্ষকরে তৃণমূল কর্মীরা বোমা ছোড়া শুরু করে দেয়। এই ঘটনা বিষয়ে বিজেপির তরফে গলসি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

বিজেপির অভিযোগ থানায় তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর কারণে পারাজ মোড়ে থাকা বিজেপি কর্মী মঙ্গল কেসের খাবারের দোকানে ভাঙচুর করে তৃণমূল সমর্থকরা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন সোমবার বিজেপি কর্মীরা ওই দোকান ঠিক করতে গেলে ফের গোলযোগ বাঁধে। দুইপক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা। পরে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
যদিও তৃণমূল কর্মী রিপন সেখ দাবি করেছেন, এদিন তারা কয়েকজন তৃণমূল কর্মী পারাজ মোড়ে বসেছিলেন। ওই সময়ে বিজেপির লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে বিজেপি কর্মীরা রড লাঠি দিয়ে তাদের মারধোর করে। তারা পাল্টা প্রতিরোধে নামলে সংঘর্ষ বাধে। জানা গিয়েছে উত্তেজনা থাকায় এলাকায় জারি রয়েছে পুলিশ টহল। শুরু হয়েছে ধরপাকড়।

তৃণমূলের পারাজ অঞ্চল সভাপতি সেখ বাপি বিজেপির তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রবিবার হওয়া বোমাবাজির ঘটনায় তৃণমূলের কেউ জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রবিবার মুসলিম পাড়ায় গিয়ে বিজেপির লোকজন সাম্প্রদায়িক উস্কানি মূলক শ্লোগান দিচ্ছিল। গ্রামফাসীরা তার প্রতিবাদ করে।
সেখ বাপি বলেন, কারা বোমাবাজি করেছে সেই বিষয়েও তিনি কিছুই জানেন না। অন্যদিকে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি রমন শর্মা বলেন, রবিবার পারাজ এলাকায় দলের পতাকা লাগাতে যাওয়া বিজেপি কর্মীদের বাধা দেয় তৃণমূল। এরপর তৃণমূলের কর্মীরাই বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমাবাজি করে। তা নিয়ে তাঁরা থানায় অভিযোগ জানান। থানায় অভিযোগ জানানোর বদলা নিতে তৃণমূলের বালি মাফিয়া নেতা বাপি সেখ ও তার পোষা গুণ্ডা বাহিনী এদিন ফের বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালায়।

Related Articles

Back to top button
Close