fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জলাশয় সংস্কার না করা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির বাকযুদ্ধ, অসহযোগিতার বিরুদ্ধে তোপ পুর প্রশাসক জিতেন্দ্র তেওয়ারির

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: রেলের লোকো ট্যাঙ্ক(জলাশয়) সংস্কার নিয়ে রেলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন আসানসোল পুরনিগমের  পুরপ্রশাসক তথা বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি। এই জলাশয়ে রেলকর্মীদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছট পুজো পালন করে থাকেন প্রতিবছরই। কিন্তু পূর্ব রেলের  আসানসোল ডিভিশন স্থানীয় বাসিন্দাদের  আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় সেই ছট ঘাট পুরোপুরি সংস্কার করতে হয়েছে আসানসোল পুরনিগমকে।

কেন্দ্রীয় সংস্থা রেলের এই অসহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, বিহারের ছায়া এবার বাংলাতেও দেখা যাচ্ছে। যেভাবে সেখানে  বিজেপি সরকার ও নীতিশ কুমার ছট পালনে বাধা দিচ্ছেন,  সেভাবে এখানেও কেন্দ্রীয় সংস্থা রেল, সেল ও ইসিএল ছট পুজো পালনে অসহযোগিতা করছে। তারা নিজেদের জলাশয়গুলি এই বছর সংস্কার না করায় বোঝাই যাচ্ছে তারা ছট পুজোর  বিরোধী। আসানসোলে এই সমস্ত কেন্দ্রীয়  সংস্থার অধীনে থাকা  জলাশয়গুলি সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করেছে পুরনিগম।

বৃহস্পতিবার আসানসোল পুরনিগমের ১৯ নং ওয়ার্ডে ছট ঘাট পরিদর্শনে আসেন পুর প্রশাসক জিতেন্দ্র তেওয়ারি। তিনি করোনা কারণে স্বাস্থ্য বিধি ও হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সতর্কতার সঙ্গে ছট পালনের পরমার্শ দেন স্থানীয়দের।

কুলটির সীতারাপুরের লোকো শেডে বা রেলের জলাশয়ে যাওয়ার পরে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিহারে দেখলাম ভোটের আগে সব বিহারী বা ছট পুজো করা মানুষদের ভোট চাই বলা হলো। আর যেই ভোট শেষ হয়ে গেলো আর হিন্দিভাষী বিহারীদের প্রয়োজন নেই। বিহারের মতো আসানসোলেও যেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থা রেল, সেল ও ইসিএলে নিজস্ব জলাশয়গুলি ছিল সেখানে পরিষেবা তারা বন্ধ করে দিয়েছেন। পুরপ্রশাসকের আরো অভিযোগ, গোটা দেশে রাজনীতির সঙ্গে উৎসব  বা পুজোকে জুড়ে দিচ্ছে এই বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির সরকার।

অন্যদিকে,  পুরপ্রশাসক জিতেন্দ্র তেওয়ারির এই অভিযোগকে মিথ্যা বলে কড়া নিন্দা করেন বিজেপি জেলা সহ সভাপতি প্রশান্ত চক্রবর্তী। তিনি বলেন, সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার পরেও সংস্কার হয়নি ছট ঘাটের। তার দাবি, ঐ ছট ঘাটটি সংস্কার করার জন্য বাবুল সুপ্রিয় ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছেন। ২০১৯ সালের ৭ জুন পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসকের কাছে চিঠি আসে  সেই বরাদ্দ করা টাকার অনুমোদনের কথা জানিয়ে। জেলাশাসক পুরনিগম থেকে সাতদিনের মধ্যে সমীক্ষা রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সমীক্ষা রিপোর্ট জেলাশাসকের দপ্তরে না পৌঁছানোয় থমকে রয়েছে ছটঘাট সংস্কারের কাজ। এতে আসানসোল পুরনিগমের বিরু্দ্ধেই আঙুল তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রশান্তবাবু আরো বলেন,  বাবুল সুপ্রিয় উন্নয়নের জন্য টাকা  বরাদ্দ করেছেন। কিন্তু  উন্নয়ন থমকে রয়েছে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার জন্যই।

Related Articles

Back to top button
Close