fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অগ্নিগর্ভ সবং! চরম উত্তেজনা এলাকায় টহল দিচ্ছে বিশাল পুলিশ বাহিনী

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবংয়ের বুড়ালে সদ্য সংসদে পাশ হওয়া কৃষি আইনের সমর্থনে সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সহ সভানেত্রী ও প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ। বিজেপির এই সভাকে ঘিরে উত্তপ্ত সবং, জ্বলল আগুন! বিজেপি আর তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি। আগুনে পুড়ল তৃণমূলের পার্টি অফিস, আগুন লাগানো হয় প্রায় ২০টিরও বেশি বাইকে। উত্তেজনায় সবংয়ে মোতায়েন হয়েছে বিরাট পুলিশ বাহিনী।

সভায় প্রথমে উপস্থিত হয়েছিলেন ভারতী ঘোষ তার কিছুক্ষণ পরে আসেন দিলীপ ঘোষ। ভারতী ঘোষের সভা চলাকালীনই গন্ডগোলের খবর আসে। সভায় খবর আসে মোহাড়ে কাঁটাখালির দিক থেকে আসা বিজেপি সমর্থকদের পথ আটকানো হচ্ছে, মারধর এমন কি তৃণমূলের পার্টি অফিসে বিজেপি সমর্থকদের আটকে রাখার ঘটনাও ঘটছে।

ভারতী ঘোষের সভা তখন শুরুর মুখে। ভারতী ঘোষকে বলতে শোনা যায় “রাবনের সৈন্যরা আমাদের কর্মীদের ওপর অত্যাচার করছে, ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এরাই কদিন আগে মোহাড়ে আমাদের কর্মী দীপক মন্ডলকে বোমা মেরে খুন করেছিল। এই সবংকে লঙ্কা বানিয়ে রেখেছে এখানকার রাবন। সেই রাবনই তার সৈন্যদের নামিয়ে দিয়েছে আমাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করার জন্য। রাবন যেমন লঙ্কার বাইরে বের হয় না ভয়ে, তেমনই এই রাবনও সবংয়ের বাইরে বের হয়না। শুধুই এখানে বসে বসে অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাবনের দিন শেষ হয়ে আসছে কারন রামের সেনারা লঙ্কায় নেমে পড়েছে। ২০২১ এ এর জবাব পাবেন।” জানা যায় এই বক্তব্যের মধ্যেই সভায় খবর আসে যে বিজেপি কর্মীদের আটকানো হচ্ছে। খবর পেয়ে সভাস্থল থেকেই কিছু বিজেপি কর্মী যায় বেগতিক দেখে তৃণমূলের কর্মীরা নিজেদের পার্টি অফিস ছেড়ে পালায় তারা। পার্টি অফিসে আটকে রাখা এক বিজেপি কর্মীকে পার্টি অফিস থেকে বের করে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

যদিও বিজেপি এই দাবি অস্বীকার করেছে।  সবং এর বিজেপি নেতা শান্তনু সাহু বলেন  “সভায় আসার পথে তৃণমূলের কর্মীরা আমাদের কর্মীদের পথ আটকান, আমাদের কিছু কর্মীদের আটকে রেখে ব্যাপক মারধর করে। খবর পেয়ে আমাদের কিছু কর্মী গিয়ে ওদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। পরে কী হয়েছে আমাদের জানা নেই।”

আরও পড়ুন: ঐতিহাসিক মুহূর্ত, ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় অটল টানেল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
মানস ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের কর্মীদের ব্যাপক মারধর করা হয়। প্রচুর কর্মীকে মারধর করেছে বিজেপির কর্মীরা। যার মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে পাঠাতে হয়েছে। একজন সবং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অন্য কোনো দলের কর্মীদের মারধর করাটা তৃণমূলের সংষ্কৃতি নয়। পার্শ্ববর্তী জেলার বাকচা এলাকা থেকে সমাজ বিরোধীদের এনে বিজেপির লোকেরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এই বক্তব্যের পর  ভারতী ঘোষ পাল্টা অভিযোগ করেন – ‘আমরা মারব কী করে? আমাদের কর্মীরা আজ অসহায় , পুলিশ তো ওঁদের সঙ্গে আছে । পুলিশ এখন লাইসেন্স প্রাপ্ত গুন্ডা। ‘

উল্লেখ্য কয়েকদিন আগেই মোহাড়ে খুন হয়েছিলেন ময়না থানার বাকচা এলাকার বিজেপি কর্মী দীপক মন্ডল। তারপর শুক্রবারের সন্ধ্যে বেলার এই ঘটনায় রীতিমতো ফুঁসছে মোহাড় এলাকা। নতুন করে অশান্তির ভয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী  টহল দিচ্ছে এলাকায়। পুলিশের টহলকে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা শান্তনু সাহু বলেছেন, “গতকাল সারা রাত ধরে সবংয়ের গ্রামে গ্রামে বোমাবাজি করেছে তৃনমূলের দুষ্কৃতীরা, যাতে কেউ বিজেপির সভায় আসতে না পারে। বুড়ালে সভা স্থলের পাশের গ্রাম গুলিতেও বোমাবাজি চলে। সারা রাত আমাদের কয়েকশো সমর্থক সভাস্থল ঘিরে রেখেছিল যাতে না ওরা মঞ্চ ভেঙে দিতে না পারে। আমরা পুলিশকে জানিয়েছিলাম সেই কথা কিন্তু গতকাল পুলিশের দেখা মেলেনি। অথচ আজ পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। এই ঘটনার পর থেকেই এখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে মোহাড় সহ সবং এর বিস্তীর্ণ এলাকা ।

 

Related Articles

Back to top button
Close