fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সুপারভাইজার পদের দখল নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে দলীয় কোন্দল থেকে রক্তারক্তি, ধৃত ২

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: যুব তৃণমূলের বুথ সভাপতির ১০০ দিনের কাজের সুপারভাইজার পদে থাকা নিয়ে দলের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল বিরোধ। তার জেরে তৃণমূলের বুথ সভাপতিকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে।হামলাকারীরের হাত থেকে বুথ সভাপতিকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর মা, স্ত্রী ও শ্যালিকাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি ১ ব্লকের দলুইবাজার ২ পঞ্চায়েতের মহেশপুর এলাকায়।

ঘটনার বিষয়ে দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মেমারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সেখ রজব আলি ও শেখ সাবির আলি মল্লিক। পুলিশ বুধবার দুই ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে। বিচারক রজবের জামিন মঞ্জুর করলেও সাবিরকে বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চালাচ্ছে।

মেমারির মহেশপুর গ্রামে বাড়ি আজগর আলির। তিনি ওই এলাকার যুব তৃণমূলের বুথ সভাপতি। আজগর আলি বলেন, বিগত ৭ বছর ধরে তিনি এলাকার ১০০ দিনের কাজের সুপারভাইজার রয়েছেন। কিন্তু ইদানীং অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সেখ সফিউর রহমান মল্লিক তাঁকে ১০০ দিনের কাজের সুপারভাইজার পদ থেকে সরানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। তাঁকে সুপারভাইজার পদ থেকে সরানোর জন্য পঞ্চায়েতে গিয়েও চাপ সৃষ্টি করছেন।

কিন্তু এত কিছুর পরেও তাঁকে সরাতে না পেরে মঙ্গলবার রাতে সফিউর রহমান দলবল নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। তাঁকে মারধের করে মাথা ফাটিয়ে দিয়ে রক্তাক্ত করে। এমনকি তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর মা, স্ত্রী ও শ্যালিকাকেও আক্রান্ত হতে হয়েছে। হামলাকারীরা তাঁর বাড়িতে থাকা ট্র্যাক্টর ও আসবাবপত্রেও ভাঙচুর চালিয়েছে। প্রতিবেশীরা তাঁদের উদ্ধার করে রাতে মেমারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায়।
আজগর আলি বলেন,মারধর হামলার ঘটনায় জড়িত অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সফিউর রহমান মল্লিক সহ ৮ জনের নামে মেমারি থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

যদিও আজগরের তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যাবলে জানিয়েছেন অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সফিউর রহমান মল্লিক। তিনি বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাঁর নামে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য ১০০ দিনের কাজের জবকার্ড শ্রমিকরা আজগরের উপর ক্ষুব্ধ ছিল বলে তিনি জানতেন। জবকার্ড শ্রমিকদের সঙ্গে আজগরের কোনও অশান্তি হয়ে থাকলে তার দায় তাঁর নয়।

এই ঘটনা বিষয়ে মেমারি ১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মধুসুদন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন ,
ঘটনার কথা তিনি এদিন জেনেছেন। দলীয় স্তরে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে প্রকৃত কি ঘটনা ঘটেছে। কেউ আইন হাতে তুলে নিয়ে থাকলে প্রশাসন তার ব্যবস্থা নেবে।

Related Articles

Back to top button
Close