fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

খড়্গপুরকে করোনা হাব বানিয়েছে তৃণমূল: দিলীপ ঘোষ

জেলা প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: খড়্গপুর পৌর এলাকাতে বর্তমানে প্রাক্তন পুরপ্রধান সহ ১২ জন করোনাতে আক্রান্ত রয়েছেন। সংশ্রবে থাকায় কোয়ারেন্টাইনে গিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষী সহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, মহকুমা শাসক সহ স্থানীয় ২০ জন কাউন্সিলার। এই পরিস্থিতির জন্য টিএমসিকে দায়ী করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য- খড়্গপুরকে করোনা হাব বানিয়েছে টিএমসি, সেই দলের নেতাদের চামচাগিরি করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরাও কোয়ারেন্টাইন হয়েছে৷ বিপাকে পরিষেবা না পেয়ে খড়্গপুরের লোকজন৷ মস্তিষ্ক বিকৃতি রয়েছে বলে পাল্টা কটাক্ষ তৃণমূল জেলা সভাপতির৷

আরও পড়ুন:কালীঘাট ও চিংড়িহাটা সেতু সারাইয়ে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করতে চায় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর

শুক্রবার মেদিনীপুর শহরে কেরানীতলাতে স্থানীয়দের জন্য করোনা প্রতিরোধী হিসেবে হোমিওপ্যাথি ওষুধ আর্সেনিক অ্যালবাম বিলি করেন দিলীপ ঘোষ সহ বিজেপি জেলা নেতারা। পরে সেখান থেকে বিজেপি জেলা দলীয় কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। সেখানে মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজনকে বিজেপিতে যোগদান করান। বিজেপির দাবি এরা টিএমসি ও অন্যান্য দলের থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

এদিন দিলীপ ঘোষ হোমিওপ্যাথি ওষুধ বিলির সময়ে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে করোনা প্রতিরোধী হিসেবে কি করতে হবে পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেন- “করোনা ঠাকুরের জন্য বর্তমানের বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলুন৷না হলে করোনার করুণা পাওয়া যাবেনা ৷ মায়ের দয়া হলে শুনেছি, কিন্তু করোনা-র দয়া হলে শেষ হতে হবে। তবে করোনা ঠাকুর কতোদিন থাকবে কেউ জানে না। এর পুজোর কোনো বিধি নেই , অনেক সময় লাগতে পারে। মা দুর্গা এসে ৫ দিনে বিদায় হন, এই ঠাকুর কতোদিনে যাবেন জানি না ৷ থাকলে থাকুন, আমাদের বাড়িতে কুকুর বিড়াল সবই থাকে, এটাই থাকুক৷ তবে আমার যা ধারনা চিনের মাল বেশিদিন টেকে না,ওদের যন্ত্রাংশ বেশিদিন চলে না, ওদের অসুখও বেশিদিন যাবে না। চিনা কমিউনিস্ট টেকেনি, ভাইরাসও টিকবে না। আমরা চিনকেও আটকাবো, চিনের ভাইরাসকেও আটকাব৷”

আরও পড়ুন:শ্বশুরের কেনা ফ্ল্যাটেই বন্দুক লুকিয়ে রেখেছিল অমিত, হিটলিস্টে ছিল শ্যালকও

এদিন খড়্গপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন- ” খড়্গপুরটাকে করোনা হাব বানিয়েছে টিএমসি। সেখানকার বিধায়ক দিনের পর দিন নিয়ম না মেনে রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছেন।তার সঙ্গে সেখানকার ওসি, আইসি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা শাসক নেতাদের চামচাগিরি করেছেন বলে করোনা হয়ে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়েছে। যে কারণে প্রশাসন ঠিক করে চলছে না ৷ রাস্তা পরিষ্কার থেকে সব স্থগিত। ময়লা ফেলার স্থানে লাশ লুকিয়ে ফেলে দিয়ে এসেছে ওরা।পুরো শহরের প্রশাসন ভেঙে পড়েছে৷সবাইকে বিপদে ফেলে পালিয়েছেন৷ ওখানকার চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলার, পুলিশ অফিসার সবার নামে এফআইআর করা উচিত৷তারা লকডাউন থেকে দুরত্ব কিছুই মানেনি। ওদের জন্য মানুষ ভুল পথে যাচ্ছে৷ আর দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর করছে ওরা৷এই অকর্মণ্য নিকম্মা অসত নেতাদের চামচাগিরি করে সবাইকে বিপদে ফেলেছে৷ আমরা করোনা ফাইটারদের সম্মান জানালাম, এখানে টিএমসি নেতারা করোনা কেরিয়ার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ রাজনীতি করতে গিয়ে রাজ্যকে বিরাট বিপদের সামনে ফেলে দিয়েছে৷ ”

তবে তার বক্তব্যকে খন্ডন করে টিএমসি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন-“ওই ভদ্রলোকের মাথার সুস্থ্যতা সমন্ধে রীতিমতো সন্দেহ রয়েছে৷ মুখ খুললেই ভুল কথা ও লোকের খুত দেখে বেড়ায়৷পুলিশি নিরাপত্তায় থেকে পুলিশকে গালি দেন, পুলিশ সরলেই ওর লোকেরাই ওর ওপরে হাত তুলবে। এতোদিন করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে আসেননি এখন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে এসেছেন৷ পাগলের প্রলাপ বলছেন। টিএমসি ওদের মতো নয়, করোনার ভয়ে কলকাতার অফিসে বসে থাকবে৷ টিএমসি মানুষের সেবা করেছে। মানুষকে সাহস দিতে প্রতি পাড়ায় গিয়েছে করোনা টিএমসি ছড়ায়নি৷ ছড়িয়েছে কেন্দ্র সরকারের ভুল পদক্ষেপ৷ সেটাকেই চাপা দিতে মিথ্যা বলে চলেছেন ওরা৷ “

Related Articles

Back to top button
Close