fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হিংসার রাজনীতি করছে তৃণমূল: কৈলাশ বিজয়বর্গীয়

নিজস্ব প্রতিনিধি, (ঝাড়গ্রাম):  পশ্চিম বাংলায় লাগাতর হিংসার রাজ চলছে। আজও বীরভূমে একাজন কার্যকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। শেষ পনেরো দিনে আট জন কার্যকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়েছিল। আত্মহত্যায় রূপায়িত করা হয়েছে।আমি মনেকরি তৃণমূল কার্যকর্তারা আসামাজিক গুন্ডা। এদিন রবিবার ঝাড়্গ্রাম জেলা বিজেপির পার্টি অফিসে এসে সাংবাদিক সন্মেলনে এ কথা বলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়।
এদিন জেলার বিভিন্ন ব্লকের মন্ডল সভাপতিদের নিয়ে একটি বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ও রাজ্য বিজেপি নেতা মকুল রায়। এদিন দলীয় কার্যালয়ে ঢোকার মুখে দু জন কৈলাশ বিজয় বর্গিয় হাত ধরে বিজেপি যোগদন করেন। এদিন কৈলাশ বিজয় বর্গিয় বলেন বেশ কিছু লোক যারা সামাজের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে চাইছে। একই ভাবে এই জায়গাতেও মাওবাদী নেতা ছত্রধর মাহাতোকে মামতা জি সংরক্ষন দিয়েছেন। ওর জামানত করিয়েছে।তৃণমূলের জবাবদারি দিয়েছেন। আজ যে ব্যক্তি পুলিশের লিস্টে ওয়ান্টেড ছিল ওই ব্যক্তি পুলিশের কাসটিডিতে এই এলাকায় ঘুরে আতঙ্ক তৈরি করছে।যারা বিজেপিতে কাজ করছে তাদের উপর চাপ দিচ্ছে।তৃণমূলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।এই যে অপ্রজাতান্ত্রিক কাজ বাংলা চলছে নিশ্চিতভাবেই মমতাজির অনেক বড় হার হবে।আপনি যত দাবানোর চেষ্টা করবেন বিজেপির কার্যকর্তারা আরো দ্বিগুন উঁচুতে কার্যকর্তারা জাম্প করবেন  চাপ দেওয়া সত্তেও। এর জন্য মমতাজিকে চিতাবনি দিতে চাই ভারতীয় জনতা পার্টি কো প্রদেশের পার্টি নয়।কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, অটক থেকে কটক নরেন্দ্র মোদির মতো আমাদের দেশের প্রধান মন্ত্রী আমাদের নেতা।’
তিনি আরও বলেন, দুনিয়ার সব থেকে বড় দল।একে এই ভাবে দাবানোর চেষ্টা। মমতাজি চেষ্টা করবেন হিংসার মাধ্যমে।আমাদের কার্যকর্তা আরো তেজিতে মামতাজি বিরুদ্ধে কাজ করবে।আমরা ধমকানো কে ভয় পাই না।কার্যকর্তারাও ভয় পাবেন না।সদস্য সংগ্রহ চলছে।লাখ সংখ্যায় বিজেপিতে আসতে চাইছে।এটা খুবই ভালো সবাই মোদীজির নেতৃত্বে কাজ করতে চাইছেন।মোদী জি যবের থেকে প্রধান মন্ত্রী হয়েছেন দেশের অবস্থা একেবারে বদলে গিয়েছে।বিপরীত পরিস্থিতিতে যখন দুনিয়াতে হাহাকার চলছে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেই অবস্থায় মোদীজির নেতৃত্বে এই পরিস্থিতিতে দেশকে কি ভাবে সালাতে হয়,কি ভাবে আর্থিক অবস্থা মজবুত করা তাতে মোদীজি ঠিক কাজ করেছেন।এই অবস্থায় যখন লক ডাউন ছিল তখন সাহায্য করার জন্য কুড়ি লক্ষ কোটি টাকার যোজনা শুরু করেছেন।এতে সারা দেশে উদ্যোগ চলছে।বে রোজগারি হয় নি।কিন্তু মমতা জি তাতেও রাজনীতি করছেন। প্রধানমন্ত্রী যোজনার লাভ নিজের প্রদেশে নিতে চান না।কিন্তু যা ঘোষনা হয়েছে তা নিতে চান।আত্মত্যাগ করতে চান না। কেন্দ্র সরকার আর রাজ্য সরকারের মধ্যে যে তাল মিল থাকা উচিত। প্রধান মন্ত্রী পালন করেছেন।যখন তুফান এসেছিল এর হাজার কোটি টাকার চেক মমতাজির কাছে গিয়েছিল।কিন্তু তুফানের টাকা বাস্তবে যাদের ক্ষতি হয়েছে তাদের কাছে পৌছায়নি। তৃণমূল নেতাদের মধ্য বন্টন হয়েছে। তারপরেও নির্লজ্যতা দেখুন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যারা অতিরিক্ত টাকা পেমেন্ট নিয়েছেন তা ফেরৎ দিন।এমকি মমতাজি একবার বলেছিলেন যে সব নেতা কাঠমানি নিয়েছে সেই কাঠমানি ফেরৎ দিন। সব মিলয়ে রাজ্যে একটা অরাজক পরিস্থিতি রয়েছে। ব্যাঙ্কিং সিসটেমেও রাজ্য সরাকারে কেন্দ্র সরকারকে সার্পোট করা উচিত। উনি করছেন না। আমার মনে হয় মমতাজি অনেক বেশি অসফল হয়েছেন। আমি ওনাকে চিতাবনি দিতে চাই আমি বলতে চাই মোদিজি এক হাজার কোটি টাকা তুফানের জন্য দিয়েছিলেন যাদের ঘর ভেঙেছিল তাদের জন্য। আপনি সেটা দিয়েছেন।’
নেতার বক্তব্য, কোভিড ১৯ সারা দেশ ,বিশ্ব তোলপাড়।আমাদের প্রধান মন্ত্রী বাংলার জন্য কভিট ১৯ এর জন্য যে পয়সা দিয়েছিলেন সেটা পুরোপুরি খরচ করেছেন।যদি অমিত সাহাজি কভিট ১৯ এর সমস্যা হাতে না নিতেন দিল্লী বরবাদ হয়ে যেত।আমাদের গৃহমন্ত্রী অমিত সাহা জি নিজে পুরো পরিস্থিতিতে চক আউন করেছেন।হাসপাতাল তৈরি করেছেন।সিআরপিদের নজরদারি,সেবার জন্য পুরো ফোর্স প্রস্তুত রেখেছেন।সেনাদের ওখানে এনে আমিত সাহা জি চিকিৎসা করানোর কাজ করছেন। কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না এই প্রসঙ্গে কৈলাশ বিজয় বর্গীয় বলেন “ এই বছর ব্যবসা কভিটের কারনে হয় নি।সরকারের কোষাগারে টাকা আসেনি।কেন্দ্র বলেছে রাজ্যের যা অধিকার তা পাবে।এর আগে তো বরাবার সবথেকে বেশি জিএসটির লাভ কোন প্রদেশ পেয়েছে তো সেটা পশ্চিমবঙ্গ।ইউপিএ সরকারের সময় কত টাকা পেয়েছিল।৩৫ শতাংশ টাকা আমাদের সরকার হওয়ার পর বাংলা বেশি পেয়েছে।মোদীজি উদারবাদী।আমরা অরাজনৈতিকভাবে কেন্দ্রে সরকার করেছি। দূর্ভাগ্যের কথা হল বাংলা মুখ্যমন্ত্রী প্রতি কদমে রাজনীতি করছে।আর এর জন্য প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে চলতে চায় না।আলাদা থাকতে চান। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজের প্রদেশের বিদ্যার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা নেই।ওড়িশা পাশের প্রদেশ যেখানে সব বিদ্যার্থীদের জন্য ভোজনের ব্যবস্থা,থাকার ব্যবস্থা নবীন পট্টনায়েক জি করেছেন।সবাই জানে ওই পরীক্ষা সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে,আদেশে হচ্ছে।এখানেও ইনি রাজনীতি করছেন।ওনাকে বলতে চাই আপনি সব বিষয়ে রাজনীতি করবেন না।প্রায় নয় বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী।বলুন তো এখশো শতাংশো জনতার রাজ করেছে,দিল জিতেছেন?না ত্রিশ শতাংশ লোকের চিন্তা,উৎসবের চিন্তা করেন।সত্তর শতাংশ লোকের মুখ্যমন্ত্রী নন মমতাজি।আমাদের সরকার একশো শতাংশ লোকের সরকার চালাবে,সবার বিকাশ করবে।”
মন কি বাত-এর লাইক কমেছে এই প্রসঙ্গে “ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা শুধু দেশ নয় সারা বিশ্বে।দুনিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতার মধ্যে একজন।”ছত্রধর মাহাতোকে কেন্দ্রীয় সংস্থার জেরা প্রসঙ্গে বলেন “তৃণমূল সরকার তাকে সুরক্ষা দিয়েছে। এখন মাওবাদীকে সুরক্ষা দেওয়া তার মধ্যমে পুরো এলাকা জুড়ে বিজেপির নেতা কর্মীদের সঙ্গে দাদাগিরি করা। ওকে জোর করে বাধ্য করা হয়েছে তৃণমূলে যোদদান করতে।আমি মনে করি এটা রাজনীতি হওয়া উচিত নয়।”অন্যদিকে এদিন মুকুল রায় ঝাড়গ্রামে পোস্টার প্রসঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন।তিনি বলেন “ আমি অত্যন্ত দায়িত্বের সাথে বলছি যারা এই ধরনের কাজ করেছে এর একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।তাতে যদি কোনভাবে বিজেপির যোগ প্রমানিত হয় বা জানা যায় তহলে নত মস্তকে এই অভিযোগ মেনে নেব।”

Related Articles

Back to top button
Close