fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

“তৃণমূলের শত্রু তৃণমূলই” -জনসভার মঞ্চ থেকে মন্তব্য সাংসদ সুনীল মণ্ডলের

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: “তৃণমূলের শত্রু তৃণমূল-ই। আর এমনটা না হলে আগামী ১০০ বছরেও কোন বিরোধী দল বাংলার রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারত না। ”মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের সাহাপুরে অনুষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভা মঞ্চ থেকে এমনই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ব্যক্ত করলেন বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডল। আর কয়েকমাস বাদ পশ্চিমবঙ্গে হবে বিধানসভার নির্বাচন। তার প্রাক্কালে সুনীল মণ্ডলের এমন মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলা তৃণমূল শিবিরে। যদিও এদিনের জনসভায় উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের দাবি সুনীল মণ্ডল বাস্তব সত্যটাই জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।

পূর্ব বর্ধমানের ২৬২ জামালপুর (তপঃ) বিধানসভা আসনটিকে এবার পাখির চোখ করেছে বিজেপি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জামালপুরের বামদূর্গে ঘাসফুল ফুটলেও উলটপুরাণ ঘটে যায় ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে। সেবার গোটা রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ভালো ফল করলেও ভরাডুবি হয় জামালপুর বিধানসভা আসনে। বাম প্রার্থী সমর হাজরার কাছে পরাজিত হন তৃণমূল কংগ্রের প্রার্থী উজ্জ্বল প্রামাণিক। এবার জামালপুর বিধানসভা আসন ছিনিয়ে নিতে মরিয়া বঙ্গ বিজেপি।

স্বয়ং রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষও কিছুদিন আগে জামালপুরের সাহাপুরে জনসভা করে যান। ওই দিন দিলীপ ঘোষের কনভয়ের পথ আটকে কালো পতাকা দেখানো নিয়ে অশান্ত হয় জামালপুরের জৌগ্রাম এলাকা। সংঘর্ষ বাঁধে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে। সেদিন সাহাপুরের জনসভা মঞ্চ থেকেই দিলীপ ঘোষ ঘোষণা করেন, এবার জামালপুর আসনে পদ্ম ফুটবেই।

দিলীপ ঘোষের দাবিকে নস্যাৎ করতে এদিন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান ও ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি ভুতনাথ মালিক সাহাপুরে পাল্টা জনসভার আয়োজন করেন। তাঁদের হাত ধরে প্রায় ৪ শতাধিক বিজেপি নেতা ও কর্মী এদিন তৃণমূলে যোগদান করেন। এদিনের জনসভায় বিপুল জনসমাগম হয়। সেই জনসভায় বক্তব্য রাখতে উঠে সাংসদ সুনীল মণ্ডল দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।

তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডল এদিন আরও বলে, দলের যারা সেদিন পথে নেমে দিলীপ ঘোষের বিরোধিতা করতে গেলেন তারা ঠিক করেননি। আমি মনে করি যারা ওইসব করেছেন তারা রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নেই। দিলীপ ঘোষের সঙ্গে এইসব করার জন্যই ওই দিন বিজেপির জনসভায় লোক বেড়ে গেল। বিজেপি ঝামেলা চাইছে। আর সেই ফাঁদেই পা দিয়ে ফেললে যা হয় তাই ওই দিন হয়েছে।

সুনীল মণ্ডল ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময়কার কথা উল্লেখ করে এদিন বলেন, লোকসভা ভোটে সৌমিত্র খাঁ যখন বিজেপির প্রার্থী হয় তখন ওকে প্রচার করতে দেওয়া হল না। সৌমিত্রকে যদি প্রচার করতে দেওয়া হত তাহলে ও গোহারা হারত। যারা সৌমিত্রকে সেদিন বাঁধা দিয়েছিলেন তারা আখেরে সৌমিত্রকেই মাইলেজ পাইয়ে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:অবস্থার সামান্য অবনতি ‘ফেলুমিত্তিরের’, ফের চালু হচ্ছে স্টেরয়েড থেরাপি

জামালপুর বিধানসভায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও বিরুদ্ধ গোষ্ঠীকে একহাত নেন সুনীল মণ্ডল। তিনি বলেন, গত লোকসভা নির্বাচনে জামালপুরের তৃণমূলের একটি গোষ্ঠী যদি বিরোধিতা না করত তাহলে তিনি ৪০- ৫০ হাজার ভোটের লিড পেতেন। মেহেমুদ খানের বিরোধী গোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করে সুনীল মণ্ডল বলেন, যাদের সাংগাঠনিক শক্তি নেই, জনসভায় জনসমাগম ঘটানোর মুরোদ নেই তাদের গোষ্ঠী করার কি আছে। ওই সব গোষ্ঠীর নেতাদের কেরামতি কেউ মানবে না।  সুনীল এদিন সাফ জানিয়ে দেন,আগামী বিধানসভা ভোটে জামালপুরে সাপ, কেউটে, নেউটেদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গত বিধানসভা নির্বাচনে জামালপুরে হার হলেও এবার আর হার নয়। জামালপুর আসনে এমন একজনকে প্রার্থী করা হবে যিনি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি হবেন। জামালপুরবাসীর মনের মানুষ হবেন। জামালপুর বিধানসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থীকে জিতিয়ে তৃণমূল নেত্রীকে উপহার দেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button
Close