fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তৃণমূলের শ্রমিক নেতার দাদাগিরিতে বন্ধ হিমঘর খালি করার কাজ, নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: সরকার দ্রত হিমঘর খালি করার নির্দেশ দিলেও তৃণমূলের শ্রমিক নেতার ‘দাদাগিরি’তে বেকায়দায় পড়ে গিয়েছেন হিমঘর কর্তৃপক্ষ। ওয়েস্টবেঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক ও কৃষিবিপনন দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছে । তাঁদের অভিযোগ,“তৃণমূল শ্রমিক নেতা সেখ মইনুদ্দিনের দাদাগিরিতে জামালপুরের বেশ কয়েকটি হিমঘরে আলু বের করার কাজ করা যাচ্ছে না । এমনকী দু’টি হিমঘরও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।”

কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন ছাড়াও ‘পশ্চিমবঙ্গ শ্রমিক ঠিকাদার কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন’ও তৃণমূলের শ্রমিক নেতা সেখ
মইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে ।তাঁরা অভিযোগ করেছেন ,“ তৃণমূল নেতা সেখ মইনুদ্দিন হিমঘরে তাঁদের শ্রমিকদের কাজ করতে দিচ্ছে না।শ্রমিকরা কাজ করতে চাইলে তাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে । ”
যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সেখ মইনুদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে চাননি ।তবে জামালপুরের অন্য সকল তৃণমূল নেতারা চাইছেন সেখ মইনুদ্দিনের দাদাগিরি রুখতে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিক ।

জামালপুর থানার জানকুলি গ্রামে বাড়ি তৃণমূল শ্রমিক নেতা সেখ মইনুদ্দিনের । তিনি নিজেকে আইএনটিটিইউসির জেলা নেতা বলে দাবি করেন।সম্প্রতি তিনি তাঁর সহযোগী কয়েকজনকে নিয়ে জামালপুরের চকদিঘি এলাকার একটি হিমঘরে দাদাগরি করতে যান বলে অভিযোগ।দাদাগিরি নিয়ে ওইদিন ওই হিমঘরের মালিকের সঙ্গে তৃণমূল শ্রমিক নেতার চুড়ান্ত তর্কাতর্কি বেঁধেযায় । সেই তর্কাতর্কির ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

ওই ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে তৃণমূল শ্রমিক নেতা সেখ মইনুদ্দিনকে হিমঘরের মালিক বলছেন, ‘বারবার হিমঘরের ভিতর ঢুকে শ্রমিকদের হুমকি দিয়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে আসলে আপনার নামে এফআইআর করতে বাধ্য হব। আপনি এ ভাবে হিমঘরের ভিতর ঢুকে হুমকি দিতে পারেন না। যা করার বাইরে করুন। আপনার কোন সমস্যা বা দাবি থাকলে সেটা অ্যাসোসিয়েশনকে জানান’।ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় আরো দেখা যাচ্ছে হিমঘর মালিকের

পাশে থাকা অপর এক প্রবীণ ব্যক্তি সেখ মইনুদ্দিনকে বলছেন, ‘আপনিতো অনেকবার এসে টাকা নিয়ে গেছেন। তাসত্ত্বেও কেন হিমঘরে এসে এইভাবে কাজ বন্ধ করে দিচ্ছেন । ’ তর্কাতর্কির সময়ে পাল্টা জবাবে তৃণমূল নেতা সেখ মইনুদ্দিনকে বলতে দেখাযায়, “জেলার আইএনটিটিইউসি নেতাদের সঙ্গে কোন আলোচনা হল না । কলকাতা থেকে সবকিছু ঠিকঠাক হয়েগেল ।আমরা কিছু জানতে পারলাম না। আমরা বাইরে গেটে দাঁড়িয়ে থাকলে আপনারা বেরতে পারবেন না। কাজও বন্ধ থাকবে । ”

এই গোটা ঘটনা বিষয়ে ওয়েস্টবেঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের’ রাজ্য সম্পাদক তরুণকান্তি ঘোষ গত সোমবার জেলাশাসক
কে চিঠি লেখেন।চিঠিতে তিনি জেলাশাসককে জানিয়েছেন, “সরকার হিমঘর খালি করার নির্দেশে দিয়েছে ।সেই নির্দেশ মেনে এখন হিমঘরগুলি থেকে আলু বের করার কাজ চলছে। সহায়কমূল্যে আলু পাঠানো হচ্ছে সুফল বাংলা স্টলে। এই অবস্থায় হিমঘর খালি করার কাজে এক নেতা শ্রমিকদের বাধা দিচ্ছে। ফলে, আলু বের করতে সমস্যা হচ্ছে।”

ওই চিঠির সঙ্গেই তরুণকান্তি বাবু ‘পশ্চিমবঙ্গ শ্রমিক ঠিকাদার কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের’ অভিযোগ পত্রটিও জুড়ে দেন। তরুণবাবু দাবি করেন বুধবারও জামালপুরের দুটি হিমঘরে কাজ হয়নি । ঠিকাদার কল্যাণ সংগঠনের তরফে মধুসূদন দাস জানিয়েছেন, “গত ২৫ নভেম্বর রাজ্যস্তরে দক্ষিণবঙ্গের হিমঘর শ্রমিকদের নিয়ে একটি চুক্তি হয়। সেই চুক্তি মানতে চাইছেন না জামালপুরের আইএনটিটিইউসি নেতা শেখ মইনুদ্দিন। এমনকি তিনি শ্রমিকদের মারধরের হুমকিও দিচ্ছেন। ”যদিও অভিযুক্ত তৃণমূলের শ্রমিক নেতা সেখ মইনুদ্দিন এইসব অভিযোগ
মানতে চাননি । ওই নেতার বক্তব্য ,“তাঁদের বাদদিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগণার কোন এক শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করেছে হিমঘর মালিকরা।তাই শ্রমিকদের কাজের দাবি, মজুরি বৃদ্ধি ও বোনাসের দাবি নিয়ে তিনি নাকি হিমঘরে কথা বলতে গিয়েছিলেন। সেটাই হিমঘর মালিকরা মেনেনিতে পারেনি । তাঁর নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।“

এইসব ঘটনা সামনে আসার পর জামালপুর ব্লক তৃণমূলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নড়ে চড়ে বসেন ।খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন সেখ মইনুদ্দিনের দাদাগিরির জেরে জামালপুরের তিনটি হিমঘরে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে রয়েছে। সেই হিমঘর গুলিতে কাজ শুরুর ব্যপারে বুধবার থেকে তৎপরতা শুরু করেদেন ব্লক তৃণমূল নেতারা। ব্লক তৃণমূলের এক নেতা বলেন ,সেখ মইনুদ্দিনের জন্য বার বার দলের মুখ পুড়েছে । পুলিশ ওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে দলের কারুর কিছু যায় আসে না। এদিন চকদিঘির হিমঘরের মালিক অনির্বাণ কুণ্ডু বলেন ,“আমরা ওই নেতার হুমকির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছি ,প্রতিবাদ করেছি। সে জন্যে আমরা কাজ চালু রাখতে পেরেছি । অন্যরা প্রতিবাদ করতে না পারায় তাঁদের কাজ হচ্ছে না।বছর বছর ধরে ওই নেতার দাদাগিরির জন্য আমরা অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি ।“

জেলাশাসক এনাউর রহমান বলেন,“চিঠি পাওয়ার পর তিনি কৃষি বিপণন দফতরকে খোঁজ নিতে বলেছিলেন। ওই দফতর থেকে তাঁকে জানিয়েছে, কোনও সমস্যা আর নেই। এখন হিমঘর খোলা রয়েছে।“

Related Articles

Back to top button
Close