fbpx
কলকাতাহেডলাইন

করোনা আক্রান্ত পরিবারকে একঘরে! কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার করোনা আক্রান্ত পরিবারকে একঘরে করার অভিযোগ উঠল আট নম্বর বরোর যুব তৃণমূলের সভাপতি শান মিত্রর বিরুদ্ধে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই যুব তৃনমূলের সভাপতি। এদিকে পুরসভার তরফ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নিগৃহীত পরিবারকে।
উত্তর কলকাতার বাগবাজারের রাজবল্লভপুর এলাকায় ২১ জুলাই এক পরিবারের বয়স্ক এক সদস্যের মৃত্যু হয়। ওই প্রবীণ সদস্যের জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকায় তার করণাতে মৃত্যু হয়েছে কিনা সেই নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। এর পরেই ২৩ জুলাই পরিবারের বাকি ৯ জন সদস্য ৩২ হাজার টাকা খরচ করে বেসরকারি লেবোটারি থেকে করোনা পরীক্ষা করায়। সেখানে বাড়ির পাঁচজন সদস্যের নমুনা পজেটিভ আসে এবং বাকি চারজনের রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। এরপরেই করোনা পজেটিভ সদস্যরা গৃহ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। পাশাপাশি যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে তারা রয়েছেন পাশেই আলাদা বাড়িতে। এর মধ্যেই সপ্তাহ খানেক কেটে যাওয়ার পর বাড়ির করোনা নেগেটিভ সদস্যরা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানে গেলে সেখানে তাদের জিনিস দেওয়া হবে না বলে মানা করে দেওয়া হয়। কারণ জানতে চাইলে দোকানদাররা জানান এলাকার যুব তৃণমূলের সভাপতি শান মিত্র তাদের ফতোয়া জারি করে ওই পরিবারকে জিনিস বিক্রি করতে বারণ করেছেন।
এরপরেই একপ্রকার বাধ্য হয়ে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন তারা। সেখান থেকে ওই পরিবারকে জানানো হয় এলাকার সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর কে বিষয়টি জানাতে। তার পরেও কাজ না হওয়ার কথা জানানো পুরসভা তখন পরামর্শ দেয় গোটা বিষয়টি স্থানীয় থানায় অভিযোগ হিসেবে নথিবদ্ধ করতে। ইতিমধ্যেই ওই পরিবার তাদের আইনজীবীর পরামর্শ নিচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানাবেন কিনা সে বিষয়ে পর্যালোচনা করছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। এদিকে এই গোটা বিষয়টি কার্যত অস্বীকার করেছেন এলাকার ওয়ার্ড কো অর্ডিনেটর পার্থ মিত্রর ছেলে তথা ওই বরোর যুব তৃণমূল সভাপতি শান মিত্র।
শান মিত্র এই প্রসঙ্গে জানান, ‘করোনা আক্রান্তের পরিবারের সুস্থ এবং অসুস্থ প্রত্যেক সদস্যই হোম আইসোলেশনের নিয়ম মানছেন না। বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ছেন তাঁরা। তার ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে। তাই বাড়ি থেকে অসুস্থদের বেরতে বারণ করেছিলাম। কোনওভাবেই সুস্থ সদস্যদের সেকথা বলিনি। আর তাছাড়া কোনও জিনিসের প্রয়োজন হলে আমাদের ফোন করে চাইতে বলা হয়েছে।’

Related Articles

Back to top button
Close