fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুকুর থেকে তৃণমূল নেতার মৃতদেহ উদ্ধার,  চাঞ্চল্য বারুইপুরে

বাবলু প্রামাণিক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বাড়ি থেকে কিছু দূরে পুকুরে পঞ্চায়েতের এক তৃণমূল নেতার দেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় রহস্য ছড়াল। পুকুরের এক প্রান্তে পড়ে ছিল ওই নেতার জুতো, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কাগজপত্র। আর তার বিপরীত প্রান্তে দেহ পাওয়া যায়। মঙ্গলবার রাতভর তল্লাশির পর ভোরে জাল ফেলে দেহ তোলা হয়। ঘটনাটি ঘটে বারুইপুরের মদারাট পঞ্চায়েতের আটঘড়া ঘোষ পাড়ায়। মৃতের নাম সুবীর ঘোষ (৬৩)। বারুইপুর থানার পুলিশ এলাকায় গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ,কেউ খুন করে বা ধাক্কা মেরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়।  যদিও দেহে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বারুইপুর পুলিশ জেলার কর্তারা জানিয়েছেন,ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই আসল কারণ জানা যাবে। তদন্ত চলছে। এদিকে,বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যান বারুইপুর এস ডিপিও ও আই সি। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর,ঘোষপাড়ায় বাড়ি সুবীরবাবুর। তাঁর এক মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।

সুবীরবাবু মদারাট পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন সদস্য ও পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সদস্য ছিলেন। বর্তমানে ওই এলাকায় বুথ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর স্ত্রী উমা ঘোষ বলেন, মঙ্গলবার বিকাল ৪-৩০ এর পর দলের কাজ আছে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। স্বাস্থ্যসাথি কার্ড বিলির কাজ করছিলেন। বাড়ি থেকে দূরে নায়েবের মোড়ে চায়ের দোকানেও গিয়েছিলেন। রাত ৯-৩০টায় ফোনে জানায় নায়েবের মোড়েই আছেন,বাড়ি যাচ্ছেন। এরপর ১০টার পর থেকে আর তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তারপরে অনেক খোঁজাখুঁজি হয়। রাতে পুকুরের কাছে জুতো ও স্বাস্থ্যসাথীর কাগজ দেখতে পাওয়া যায়। তখনও দেহ পাওয়া যায়নি। ভোরে জাল ফেলে দেহ তোলা হয়।

আরও পড়ুন: করোনা টিকাকরণ বাধ্যতামূলক প্রসঙ্গে সায় নেই বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা, ‘who’-এর

উমাদেবীর অভিযোগ, পুকুরের একদিকে জুতো,কাগজ পাওয়া যাচ্ছে। বিপরীত দিকে ঝোপের কাছে দেহ পাওয়া যাচ্ছে। যা ভাবা যাচ্ছে না। সন্ধেহ কেউ খুন করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। তাঁর কোন শত্রু ছিল না।কে এমন কাজ করতে পারে জানি না।  এলাকার বাসিন্দারা বলেন,উনি মদ্যপান করতেন। কিন্তু মদ্যপান করে পুকুরে পড়ে গেলেও তার জুতো জলে ভিজল না,কাগজ রাস্তার পাশে পড়ে থাকল কি করে। এদিকে,এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন বারুইপুর পশ্চিমের তৃণমূল নেতৃত্ব। বারুইপুরের পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য গৌতম দাস অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। ওকে খুন করা হয়েছে। এই খুনের ঘটনায় এক বিজেপি সমর্থক জড়িত বলে আমাদের অনুমান। গত দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর সময় ওই সমর্থকের সাথে বিদ্যুৎ খুঁটি বসানো নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। সে খুনের হুমকিও দিয়েছিল। যদিও বিকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ জমা পড়েনি বলে পুলিশ জানায়।

Related Articles

Back to top button
Close