fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তোলা চাওয়া নিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে তৃণমূল নেতার সংঘাত চরমে উঠল জামালপুরে

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান : হুমকি দিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তোলা আদায় করার পরেও তাদের বেকায়দায় ফেলার অভিযোগ উঠলো তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে । আর তা নিয়েই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের তৃণমূল নেতা প্রেমনাথ ঘোষালের সঙ্গে ঠিকাদারদের বিরোধ চরমে উঠেছে ।

উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন জামালপুর থানায় । পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে । এই ঘটনা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে জামালপুরের রাজনৈতিক মহলে। মান বাঁচাতে দায় এড়িয়েছেন জামালপুরের তৃণমূল নেতৃত্ব ।

জামালপুরের পাঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচড়া গ্রামে বাড়ি তৃণমূল নেতা প্রেমনাথ ঘোষালের । তাঁর স্ত্রী সোমা ঘোষাল তৃণমূল পরিচালিত জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। লিখিত অভিযোগে প্রেমনাথ ঘোষাল পুলিশকে জানিয়েছেন ,পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের দপ্তরের নানা দুর্নীতি নিয়ে পূর্বেও তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাঁচড়া পঞ্চায়েতের কয়েকটি কাজের বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়ে গত ৫ নভেম্বর তিনি তথ্য জানার আধিকার আইন মাফিক চিঠি করেন ।

প্রেমনাথ ঘোষালের অভিযোগ, তিনি আরটিআই করেছেন জানার পরেই ঠিকাদাররা তাকে ফোনে হুমকি দেয় । পরে জামালপুরের ঠিকাদার জ্যোতি চন্দ ,বাপি ঘোষ ও সমীরণ ঘোষ তার বাড়িতে চড়াও হয় ।আরটিআই করার জন্য ওই ঠিকাদাররা তাকে হুমকি দেয়। যাবার সময়ে ঠিকাদাররা বলে যায় আরটিআই করা চিঠি প্রত্যাহার করে না নিলে তারা তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী, পুত্রকে মেরে লাশ গুম করে দেবে ।

প্রেমনাথ ঘোষাল বলেন , ঠিকাদাররা এমন হুমকি দিয়ে যাওয়ায় তার স্ত্রী ও পুত্ররা আতঙ্কে রয়েছে । ঠিকাদারদের শাস্তির দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা প্রেমনাথ ঘোষাল ।

যদিও তৃণমূল নেতা প্রেমনাথ ঘোষালের আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ঠিকাদার জ্যোতি চন্দ । তিনি পুলিশের কাছে প্রেমনাথ ঘোষালের বিরুদ্ধে পাল্টা তোলা চাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন । জ্যোতি চন্দ ও তাঁর সহযোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে প্রেমনাথ ঘোষাল ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাঁড়িকাঁড়ি টাকা তোলা আদায় করে আসছেন । দুর্গা পুজোর আগে তাঁদের কাছে প্রেমনাথ ঘোষাল মোটা টাকা তোলা চায় । করোনা অতিমারির মধ্যে ব্যবসা থমকে থাকায় সেই টাকা তাঁরা দিতে অস্বীকার করেন । সেই কারণে ঠিকাদারদের বেকায়দায় ফেলতে প্রেমনাথ ঘোষাল পাঁচড়া পঞ্চায়েতের করানো পূর্বের কয়েকটি প্রকল্পের কাজ নিয়ে আরটিআই করেন ।

জ্যোতি চন্দ বলেন, আরটিআই করার জন্য তাদের বিল পেমেন্ট পেতে দেরি হবে । তাই প্রেমনাথ ঘোষাল আরটিআই করে তাদের বেকায়দায় ফেলতে চাইছে । অপর ঠিকাদার বাপি ঘোষ ও সমীরণ ঘোষ বলেন , আরটিআই প্রত্যাহার করে নেবার আবেদন জানাতে তাঁরা কয়েকদিন আগে প্রেমনাথ ঘোষালের বাড়িতে গিয়েছিলেন। আরটিআই প্রত্যাহার করার জন্য ওই দিনও প্রেমনাথ ঘোষাল তাঁদের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন । ওইদিন টাকা দিতে অস্বীকার করায় প্রেমনাথ ঘোষালের স্ত্রী তাঁদের মারতে আসে ।

ঠিকাদার জ্যোতি চন্দ সোমবারঅভিযোগে আরও বলেন , “প্রেমনাথ ঘোষাল শুধু ঠিকাদারদের কাছ থেকেই তোলা আদায় করেন না । রেশন ডিলার, ইট ভাটা মলিক , বালি খাদ মালিক সবার কাছ থেকে প্রেমনাথ ঘোষাল তোলা আদায় করেন । পার্টির নামে তোলা আদায় করে প্রোমনাথ ঘোষাল নিজের আখের গোছান বলে এই ঠিকাদারদের অভিযোগ । ”ঠিকাদার জ্যোতি চন্দ এমন অভিযোগ তোলায় তাঁকেও এক হাত নিয়েছেন প্রেমনাথ ঘোষাল ।

প্লাল্টা অভিযোগে প্রেমনাথ ঘোষাল বলেন ,“জ্যোতি চন্দ বাম আমলে সিপিএম পার্টির হয়ে নেতাগিরি করতো । বাম আমলে যারা জামালপুরের তৃণমূল করতো তাদের উপরে নির্মম অত্যাচার চালাতো জ্যোতি চন্দ ।এখন তৃণমৃলের কয়েকজনকে পটিয়ে ঠিকাদারি কাজ করে পয়সা লুঠছে । প্রেমনাথ ঘোষাল দাবি করেন, তিনি তৃণমূলের জন্ম লগ্ন থেকে তৃণমূল পার্টি করছেন । তৃণমূলের প্রতীকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়েই তাঁর স্ত্রী জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হয়েছে ।

প্রেমনাথ ঘোষাল মন্তব্য করেন , দলের কর্মসূচির জন্য তিনি বিভিন্ন জনের কাছে সাহায্য নেন ।লোকের কাছে টাকা নিয়ে তিনি নিজে কোনদিন আত্মসাৎ করেন নি । প্রেমনাথ ঘোষাল বক্তব্য ,দুর্নীতি ঢাকতে ঠিকাদাররা তাঁর নামে মিথ্যা অভিযোগ খাড়া করছেন । এই মিথ্যা অপবাদ বিষয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন । ”

জামালপুর ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি প্রদীপ পাল বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি । দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ।এই বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে । যদি কেউ তোলা আদায় করে থাকে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে । দল তার পাশে থাকবে না । ”

অন্যদিকে বিজেপির জামালপুর বিধানসভার আহ্বায়ক জিতেন ডকাল বলেন , “কাটমানি ও তোলা আদায়কারীরাই তৃণমূলের সম্পদ । ঠিকাদাররা যে অভিযোগ তুলেছে তা ১০০ শতাংশ সত্য । কাটমানি ও তোলা আদায় করেই তৃণমূল নেতারা যে বিত্তশালী বনে গিয়েছেন তা গোটা রাজ্যের মানুষই জানেন । “

Related Articles

Back to top button
Close