fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সামাজিক দূরত্ব না মেনেই প্রকাশ্যে সভা তৃণমূল বিধায়কের, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয়রা

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: করোনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে “সমাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, ভিড় এড়িয়ে চলুন”। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার বারবার এই আবেদন রেখে চলেছে দেশবাসীর কাছে। কিন্তু সেই আবেদন রাখতে পারলেন না খোদ শাসক দলের জনপ্রতিনিধি। প্রকাশ্যে করলেন জনসভা। হল জমায়েত। সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই।

 

শনিবার বিকেলে রানাঘাটের পানিখালী বাজারে সবুজ শিবিরের পক্ষ থেকে একটি স্টেজ করে মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। বিষয়, দলবদল। তৃণমূলের দাবি, প্রায় হাজার জন বিজেপি কর্মী তৃণমুলে যোগদান করে। রং বদলের খেলা দেখার জন্য সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। সভাটিকে সাফল্যমণ্ডিত করতে সেখানে হাজির হয়েছিলেন নদীয়ার রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক সমীর পোদ্দার মহাশয়। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সভার চিত্র যেন এক জনসভায় পরিণত হয়।

 

 

সবকিছু দেখেও সেখানে যোগদানের খুশিতে বক্তব্য রাখলেন বিধায়ক। এই বিষয়ে টেলিফোনে সমীরবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জমায়েতের কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, মিথ্যা কথা বলবো না। সোশ্যাল ডিস্টেন্স মানা সম্ভব হয়নি।
নদীয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৫০ ছুঁই ছুঁই। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, রানাঘাট মহকুমায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮। যে ভাবে জেলায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে তাতে বেশ চিন্তিত জেলার স্বাস্থ্য দফতরও।

 

 

 

আক্রান্তের সংখ্যা কমানোর যথেষ্ট প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। বারবার ঘোষণা করা হচ্ছে সোশ্যাল ডিস্টেন্স বজায় রাখার জন্য। তা সত্ত্বেও হুঁশ ফেরেনি বিধায়কের। উল্টে দায় চাপালেন বিজেপি ঘাড়ে। বিধায়ক বলেন, বিজেপির দেখানোর পথেই হাঁটছি। কদিন আগেই গেরুয়া শিবির একই জায়গা থেকে একটি সভার আয়োজন করে, সেখানেও সোশ্যাল ডিস্টেন্স ছিল না। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তিনি বলেন, আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই সভা করি।

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে কোনো সভার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না কোনো রাজনৈতিক দলগুলিকে। এই বিষয়ে রানাঘাট জেলা পুলিশ সুপার অনন্তনাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি এসএমএস-র কোনো উত্তর দেননি।
সামনে বিধানসভার নির্বাচন। এখন চলবে রংবদলের খেলা। তাই বলে, এইভাবে জমায়েত করে রাজনৈতিক দলগুলির প্রকাশ্যে মিটিং একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, এরকম জমায়েত হলে কিভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমবে? এই সভাগুলি থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তার দায় কার? অবিলম্বে বন্ধ করা হোক প্রকাশ্য সভা। দাবি তাঁদের।

Related Articles

Back to top button
Close