fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কাটমানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই কৃষি বিলের বিরোধিতা করছে তৃণমূল: অর্জুন সিং

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ বিজেপির সবচেয়ে বড় ইস্যু হবে বাংলার মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতি। এই রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের সব স্তরের নেতা ও মন্ত্রী দূর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারও এই দূর্নীতিতে রয়েছে। বাংলার মানুষেরা এইসবের বিরুদ্ধেই ভোট দেবেন। শুক্রবার সকালে আসানসোলে শহরে জেলা বিজেপির ডাকে কৃষি বিলের সমর্থনে একটি মিছিলে অংশ নিতে এসে এইভাবেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং৷

 

আসানসোল স্টেশন থেকে এদিন শুরু হয় কৃষি বিলের সমর্থনের মিছিল। সেই মিছিল বিএনআর মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানে একটি ছোট সভাও হয়। আসানসোল শিল্পাঞ্চল তথা জেলার বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা করোনা সংকট উপেক্ষা করেই এই মিছিলে যোগ দেন। মিছিলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন জেলা সভাপতি লক্ষণ ঘোড়ুই , উপাসনা উপাধ্যায়, সুব্রত মিশ্র, শিবরাম বর্মন, কাউন্সিলর আশা শর্মা, ভৃগু ঠাকুর।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে অর্জুন সিং বলেন, কেন্দ্র সরকারের আনা কৃষি বিল যা আইন পরিণত হয়েছে তা বাংলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের কাটমানি নেওয়া বন্ধ করবে। তাদের কোটি টাকার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে, তাই তারা এই বিলের বিরোধিতা করছেন। কংগ্রেস ও সিপিএমের নেতারাও এই বিল নিয়ে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের বিভ্রান্ত করছেন ও ভুল বোঝাচ্ছেন। তাই আমরা বিলের জন্য কৃষকরা ও সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত ও লাভবান হবেন, তা বোঝাতেই বাংলা জুড়ে মিছিল ও সভা করছি। বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতা আরো বলেন, গোটা বাংলা জুড়ে সিন্ডিকেটরাজ চলছে। যা পুলিশের সাহায্য নিয়ে চালাচ্ছে তৃনমুল কংগ্রেসের নেতারা। এখানে সরকারি সন্ত্রাস চলছে। জোর করে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস করানো হচ্ছে। না করলে তাদের নামে কেস দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিজেপি করলে। রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশের সন্ত্রাসবাদ আটকানো ও অপরাধের কমানোর দিকে কোন নজর নেই। পুলিশ এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাডার হিসাবে কাজ করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা পুলিশের নিরাপত্তায় গুন্ডামি করছে।

তিনি রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করে বলেন, তৃণমূলের কারণে বঞ্চিত বাংলার কৃষকরা। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিষান সম্মান নিধি দেওয়ার কথা বলছেন। তবে ঐ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ টাকা রাজ্য সরকারকে দেওয়ার দাবি করছেন। যখন সারা দেশের কৃষকদের কাছে এই প্রকল্পের টাকা পাঠানো হচ্ছে, কেন বাংলার কৃষকদের টাকা রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে? তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা যাতে তার থেকে কাটমানি পায়, তাই মমতা বন্দোপাধ্যায় এটা চাইছেন।

অর্জুন সিং বলেন, বিরোধী দলগুলি কৃষকদের বিভ্রান্ত করছে। লোকসভা ও রাজ্যসভায় কৃষি বিলটি পাস হয়েছে । দেশের রাষ্ট্রপতি তাতে সই করেছেন। স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যে কোনও শিল্পপতি তার পণ্য দেশের যে কোনও জায়গায় পাঠাতে পারেন। কিন্তু কৃষকদের এই স্বাধীনতা ছিল না। কৃষকদের স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও তাদের জিনিস দালাল বা ফোঁড়েদের কাছে বিক্রি করতে হত। তবে এখন কৃষক দেশের যে কোনও জায়গায় তাদের ফসল বিক্রি করতে পারবেন। বিরোধীরা মিথ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে যে মান্ডি ও এমএসপি বাতিল করা হচ্ছে। বিরোধীদের এই কথা একদমই ঠিক নয়। কৃষক চাইলে তিনি মান্ডিতে বিক্রি করতে পারেন। যেখানে সে বেশি দাম পাবে সেই জায়গায় বিক্রি করতে পারবে। মোদী সরকার কৃষকদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার কাজটি করে দেখিয়েছে। একইভাবে এনআরসি নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের বিভ্রান্ত করছে রাজ্যের শাসক দল।

আসানসোলের বিএনআর মোড়ে মিছিল শেষে সভার পরে অর্জুন সিং বার্নপুরে দীনদয়াল উপাধ্যায় লাইব্রেরীতে আরো একটি সভায় উপস্থিত হন৷ সেখান থেকে তিনি কলকাতা অভিমুখে রওনা হয়ে যান।

Related Articles

Back to top button
Close