fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মদ্যপ অবস্থায় পুলিশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা

মিল্টন পাল, মালদা: পুলিশ ব্যারিকেড না খোলায় পুলিশের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ ওই নেতাকে গ্রেফতার করে। ধৃতকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশকে বাধা দেয় তৃণমূলের কর্মী সর্মথকেরা। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধ্বস্তাধ্বস্তি লেগে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠি চার্জ করে পুলিশ। ঘটনার জেরে দুজন তৃণমূল নেতা আহত হন। আহতরা চাঁচোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার চাঁচল থানার শান্তি মোড় এলাকায়। ধৃতদের বিরুদ্ধে সুয়োমোটো মামলা রজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে ধৃত ওই ছাত্র নেতার নাম বিমল ঝা। সে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা।পূজো উপলক্ষে মালদার চাঁচোল এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় ড্রপ গেট তৈরি করে পুলিশ। সেইমতো দশমীর দিন ড্রপ গেট গুলিতে ডিউটি করেছিল পুলিশ কর্মী ও সিভিক ভলেন্টিয়াররা। সেই সময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা বিমান বাইক নিয়ে পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে। সেই সময় সিভিক ভলেন্টিয়ার এর সঙ্গে বচসা শুরু হয়। এরপর ওই সময় সেখানে কর্তব্যরত অবস্থায় ছিলেন এক এএসআই। ঘটনা দেখতে পেয়ে সে ঘটনাস্থলে গেলে তার সঙ্গেও অভব্য আচরণ ও ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে।

   আরও পড়ুন: সামনেই ছট পুজো-দীপাবলি, আরও ৪৬টি বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা রেলের

মদ্যপ অবস্থায় পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ব্যারিকেডের ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চাচল থানার বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এরপর পুলিশ ওই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতার বিরুদ্ধে সুয়োমোটো মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এরইমধ্যে মঙ্গলবার সকাল বেলা ওই ছাত্র নেতাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে চাঁচোল থানা এলাকায় পুলিশের পথ আটকায়। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের বচসা ও ধস্তাধস্তি। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ঘটনায় ২ ছাত্র নেতা আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনায় এক ছাত্র নেতা সুমন সাহা জানান, পুলিশ যেভাবে লাঠিচার্জ করেছে আমাদের অপর । এছাড়াও পুলিশ লকআপে ছাত্রনেতা বিমান ঝাকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে তারই জন্য এদিন আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলাম। অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। না হলে এরপর এই ঘটনা নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব ।

উত্তর মালদার বিজেপির সংসদ খগেন মুর্মু বলেন,তৃণমূল কংগ্রেস পুলিশ প্রশাসন মানে না আইন কানুন মানে না। তৃণমূল কংগ্রেস মানে একটি ব্যভিচারী ব্যাপার। পুজোর সময় মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য পুলিশ ব্যারিকেড দিয়েছিল। ব্যারিকেড ভাঙ্গার অভিযোগে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। সাধারণ মানুষ আর তার মধ্যে কোন কিছু আলাদা রয়েছে যে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। পুলিশ সঠিক কাজ করেছে অবিলম্বে ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। শাসক দলের নেতা বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে পথে নামবে জেলা বিজেপি।

জেলা তৃণমূলের মখপাত্র শুভময় বসু বলেন গতকাল চাঁচোল একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। আমরা দল থেকে স্থানীয় নেতৃত্বকে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছি। আমরা সেই রিপোর্টটা ও নেব পাশাপাশি প্রশাসনিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। দুই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে যা বাবস্থা নেওয়ার তৃণমূল কংগ্রেস তা দেখবে ।প্রশাসনিক ও দলীয় স্তরে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে দল।

Related Articles

Back to top button
Close