fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

৫ তৃণমূল নেতাকে শোকজ হাওড়ায়, মেদিনীপুরে ৮, ত্রাণ দুর্নীতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ত্রাণ বা রেশন নিয়ে দুর্নীতি অভিযোগে সরগরম বিভিন্ন জেলা। আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা তৈরি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে এবার হাওড়ায় পাঁচজন দলীয় নেতাকে শো-‌কজ করল তৃণমূল। মঙ্গলবার এ ব্যাপারে তৃণমূলের হাওড়া জেলা (সদর) সভাপতি, সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় জানান, ‘‌আমফানে দুর্গতদের নামের তালিকা তৈরি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনকে শো-‌কজ করা হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।’

মগরাহাটে দলের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণের টাকা ফেরত দিলেন স্থানীয় নেতা। কুলতলিতেও ত্রাণ দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য। আমপান বিধ্বস্তদের জন্য সরকারি ত্রাণের একাংশ চলে যাচ্ছে দলের নেতা-কর্মীদের কাছে। বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা। শীর্ষ স্তরে অভিযোগ যেতেই কড়া অবস্থান ঘাসফুল শিবিরের। প্রায় প্রতিদিনই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। আমপানের ক্ষতিপূরণ বিলি নিয়ে দলের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে। খতিয়ে দেখে জেলার পাঁচ নেতাকে শোকজ করল হাওড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। কিছুদিন আগে মাকড়দহ ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতে লাঠি জুতো নিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। দলীয় তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, দুই ক্ষতিগ্রস্তর ত্রাণের টাকা পকেটে পুড়েছেন স্থানীয় নেতা।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করা হল মগরাহাটের  গোকর্ণী পঞ্চায়েত এলাকার নেতাকে। খবর জানাজানি হতেই বিক্ষোভ দেখিয়েছিল গ্রামবাসীরা।পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি। প্রধানকে পঞ্চায়েত অফিসের মধ্যে তালা মেরে বিক্ষোভ দেখায় গ্রামবাসীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কুলতলী জালাবেরিয়া টু গ্রাম পঞ্চায়েতে।

এছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুরেও দুর্নীতির জন্য ৮ জনকে শো-‌কজ করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে ত্রাণের টাকা ফেরত দিয়েছেন ১০৫ জন, ফিরেছে ২১ লাখ টাকা। নামখানায় ফেরত এসেছে ১০ লক্ষ। সাগর ব্লকে ১০ লক্ষের বেশি। সব মিলে, ওই জেলায় ৪২ লক্ষ টাকা ফেরত পেয়েছে প্রশাসন। দেগঙ্গায় এদিন টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন আরও ৯ জন। ঝাড়গ্রামে হুল দিবসের অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি বলেছেন, বিভিন্ন জায়গায় আমফানে দুর্নীতি নিয়ে হইচই করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন, দুর্নীতির প্রশ্নে কাউকে ছাড়া হবে না।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে পানীয় জলের দাবিতে কলসি নিয়ে অবরোধ মহিলাদের

পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেছেন, ‘‌দুর্নীতির জন্য দল আটজনকে শো-‌কজ করেছে। আমফান-‌ত্রাণের টাকা আত্মীয়দের পাইয়ে দিয়েছেন তঁাদের কয়েকজন। অবিলম্বে টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছেন। কয়েকজন খারাপ ব্যবহার করেছেন। জেলা জুড়ে ঝাড়াই-‌বাছাই চলছে। আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি, আর বিজেপি নেতারা দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন।’‌

মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন আমফান-‌ক্ষতিপূরণের ৪২ লাখ টাকা ফেরত পেয়েছে। মথুরাপুর, নামখানা ও সাগর ব্লক থেকে ওই টাকা ফেরত পাওয়া গেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পঞ্চায়েতে ত্রাণ কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার থেকে এই কমিটি পঞ্চায়েত ধরে কাজ শুরু করেছে। এই কমিটিতে পঞ্চায়েত, পুলিস ও ব্লকের একজন করে প্রতিনিধি আছেন। তারাই প্রত্যেক গ্রামে গিয়ে দুর্গতদের তালিকা খতিয়ে দেখছেন। কেউ ভুয়ো নাম তুলে টাকা পেলে ফেরতের কথা জানিয়ে দিচ্ছে এই কমিটি। সেই কমিটি এক সপ্তাহ ধরে এই কাজ করে সংশোধিত তালিকা তৈরি করবে। পাশাপাশি টাকা ফেরতের তালিকাও তৈরি করবে।

Related Articles

Back to top button
Close