fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মাটি মাফিয়াদের রাজত্ব রুখতে ব্যর্থ তৃণমূলের রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, স্বীকার খোদ বিধায়কের

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: নদীয়ায় দিন দিন বাড়ছে মাটি মাফিয়াদের রাজত্ব। আইনকে রীতিমত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রকাশ্যে চলছে চাষের জমি থেকে মাটি চুরি। একথা খোদ স্বীকার করলেন নদীয়ার কল্যাণী বিধানসভার তৃণমূলের বিধায়ক রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

 

 

অভিযোগ, খাতায়-কলমে কৃষিজমি, নিয়মের তোয়াক্কা না করে সেই জমিতেই পেল্লাই যন্ত্রের সাহায্যে মাটি কাটা চলছে। ডাম্পার-ট্রাকে সেই মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটায় বা নিচু জমি ভরাটের কাজে। দেখার কেউ নেই! এ ছবি দেখা যায় নদীয়ার হরিনঘাটা,কল্যাণী, চাকদা সহ বিভিন্ন জায়গায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন সব জেনেও ব্যবস্থা নেয় না। এই এলাকাতেই বেআইনি ভাবে দিনরাত মাটি কাটা চলে। তবে কিছু জমি ব্যক্তি-মালিকানাধীন। বাদবাকি বেশিটাই খাসজমি। বিধায়ক রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, নিয়ম না-মেনে যথেচ্ছ মাটি কাটার জন্য ভূগর্ভের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর জন্য জেল ও জরিমানা, দুই শাস্তিরই সংস্থান রয়েছে।

 

 

তবু কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে কই! মাটি বোঝাই ট্রাক-ডাম্পারের ধাক্কায় এ পর্যন্ত অনেক প্রাণ গিয়েছে। এই কারবারের বিরুদ্ধে জনরোষও প্রকাশ্যে এসেছে আগে। তা সত্ত্বেও মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম কমছে কই? সরকারি নিয়ম বলছে, কৃষিজমির চরিত্র বদল দূরস্থান, অনুমতি ছাড়া জমি থেকে মাটি কাটা যায় না। অন্য জমির ক্ষেত্রে কত মাটি কাটা হবে সে তথ্য জানিয়ে, রাজস্ব দিয়ে তবে মাটি কাটার অনুমতি পাওয়া যায়। এই বিষয়ে বিধায়ক বলেন, মাটি ব্যবসায়ীরা প্রায়শই বলে থাকেন তাঁদের কাছে বৈধতার কাগজ রয়েছে। কিন্তু সেই কাগজ আজ পর্যন্ত কোনো মাটি ব্যবসায়ী আমাকে দেখাতে পারেনি। আমি বহুবার সেই কাগজ দেখতে চেয়েছি। কিন্তু তাঁরা তা দেখায়নি।
তা হলে কী ভাবে চোখের সামনে অবাধে মাটি কাটা চলছে?

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও নেতাদের মদতেই চলছে কাজ। পুলিশের সঙ্গে মাটি কারবারিদের অলিখিত চুক্তিও হয়। কোটি টাকার মাটি কাটার কাজ করেন মাটি মাফিয়ারা। এই বিষয়ে বিধায়ক রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে আমাদের দলের কেউ যুক্ত রয়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখবো। তবে মাটি অবৈধভাবে কাটা হচ্ছে এটা একদম ঠিক কথা। বিষয়টি আমি বহুবার বন্ধ করতে চেয়েছি। কিন্তু আমি তা পারিনি।

 

 

এই বিষয়ে সিপিএম নেতা শান্তনু ঝা বলেন, শুধু কল্যাণী নয়, সারা রাজ্যে মাটি লুঠ হচ্ছে। চাষের জমি থেকে মাটি তুলে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, অবৈধভাবে মাটি তুলে ঈশ্বরগুপ্ত সেতুর ভীত নড়িয়ে দিয়েছে মাটি মাফিয়ারা। পাশাপাশি শহরের মাঝে রাস্তার ধার থেকেও অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। যার দরুন ঘূর্ণিঝড়ে পরে গিয়েছে বহু গাছ। তিনি আরো বলেন, কল্যানীতে বহু কারখানা বন্ধ। ফলে সেখান থেকে লুঠ হচ্ছে মাটি। বেআব্রু হয়ে গিয়েছে, এটা আর লুকোনো যাচ্ছে না। হতাশায় মাটি চুরির কথা স্বীকার করেছেন বিধায়ক। কারণ, তাঁর দলের লোকেরাই মাটি চুরি করছে।

 

 

নদীয়া জেলার বিজেপি সভাপতি অশোক চক্রবর্তী বলেন, বিধায়ক এই কথা স্বীকার করায় এটা স্পষ্ট রাক্ষসকুলে ভক্ত প্রহ্লাদ রয়েছে। নদীয়ার সবকটা বিধানসভায় অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। বিধায়ক যে এই কথা স্বীকার করেছেন তার জন্য রমেনবাবুকে ধন্যবাদ জানাই। উনি চেষ্টা করেছেন কিন্তু তাঁর দলের লোকই বিধায়কের কথা শুনছে না। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, এই কাজে প্রশাসন মদত দিচ্ছে মাটি মাফিয়াদের। চালচুরি, মাটি চুরি সবেতেই জড়িত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
বিধায়ক রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের এই স্বীকারোক্তি তে দল কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর বিরুদ্ধে দল কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা সেটাই এখন দেখার। এমনটাই দাবি বিরোধীদের।

Related Articles

Back to top button
Close