fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

মঙ্গলবার যুগশঙ্খ সংবাদপত্রের উল্লেখযোগ্য খবরগুলো পড়ুন (দ্বিতীয় অংশ)

কলকাতা মেডিক্যালে মৃত্যু মিছিল
৪৮ ঘণ্টায় ১৬ দেহ সংরক্ষণে অতিরিক্ত ৬ ফ্রিজার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ১৮ মে: আচমকাই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বেড়ে গেল রোগীর মৃত্যু সংখ্যা। সূত্রের খবর, গত ৪৮ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জন রোগীর। যদিও সকলেই করোনা রোগী নন। সূত্রের খবর, অল্প সময়ে অনেক রোগীর মৃত্যু হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে। একই সঙ্গে মৃতদেহ সংরক্ষণে কেনা হচ্ছে ৬ টি ফ্রিজারও।

প্রসঙ্গত, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে যা ক্ষমতা ছিল, মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সেখানে আর মরদেহ রাখার জায়গা নেই। তাই মৃতদেহ রাখার বাড়তি ব্যবস্থা করতে আবেদন জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয় স্বাস্থ্য ভবনকে। আবেদন পাওয়া মাত্রই দ্রুত ৬টি ফ্রিজার দেহ রাখার জন্য বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। যদিও মৃতদের মধ্যে কে করোনা রোগী ছিলেন, আর কে সাধারণ জ্বরের রোগী, তা নিয়ে অন্ধকারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রের খবর, অ্যানাটমি বিভাগে এই ফ্রিজারগুলি বসানো হচ্ছে। আপাতত সেখানে ৬টি দেহ রাখা যাবে। মর্গ এবং অ্যানাটমি বিভাগের অন্য জায়গায় মোট ৫টি মৃতদেহ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে সোমবার অথবা মঙ্গলবার থেকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মোট ১১টি মৃতদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মৃতদেহ সংরক্ষণ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নবান্ন নিযুক্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে।

মেডিক্যাল কলেজে বর্তমানে দেহ সংরক্ষণের জন্য ৫টি ফ্রিজার রয়েছে। তবে গত শনি ও রবিবার যা ঘটেছে তারপর আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে কন্ট্রাক্ট সংস্থার অধীনে কাজ করা ঠিকা কর্মীদের অনেকেই এত মৃত্যুর ঘটনা দেখে ভয় ওয়ার্ডে রোগীদের কাছে যাচ্ছেন না বা কাজে আসছেন না। পরিস্থিতি সামাল দিতে নগদ  টাকা গুনে প্রতিদিন চুক্তিভিত্তিক নতুন নতুন কর্মী নিয়োগ করার কাজ চলছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

 

বাংলার মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকেই পরিযায়ী করে দেবেন: ভারতী

শংকর দত্ত, কলকাতা,১৮ মে: পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে এবার মুখ খুললেন বিজেপির দাপুটে রাজ্য সহ-সভানেত্রী ভারতী ঘোষ। সোমবার যুগশঙ্খকে দেওয়া এক সখ্যাটকারে তিনি জানান, ‘ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের যে দুর্দশা,তাঁদের যে অবর্ণনীয় কষ্ট,এর জন্য সমূর্ন দায়ী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।’ এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, মুখ্যমন্ত্রীকে এক হাত নিয়ে বিস্ফোরক হয়ে ওঠেন প্রাক্তন এই আইপিএস। তাঁর ঘোষণা, ‘একটা সময় আসবে এই পরিযায়ী শ্রমিক তাঁদের পরিবারের লোকজনই এবার মুখ্যমন্ত্রীকে বাংলা ছাড়া করবেন। দেখবেন কদিন পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এ রাজ্য থেকে পরিযায়ী হয়ে যাবেন।’ এদিন ভারতীর উদ্বেগ, ‘ভাবতে পারবেন না যে চরম কষ্টের মধ্যে এরা দিন কাটাচ্ছে।

কিভাবে পায়ে হেটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকশ কিলোমিটার পথ হাঁটছেন তারা। কী ভাবছেন এঁদের অভিশাপ লাগবে না? এদের শুধুই ভোট বাক্সে ব্যবহার করা? এইবার বুঝবেন মাননীয়া।’ এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি মোদী সরকারের প্রশংসা করে বলেন, ‘যেখানে কেন্দ্রে এদের ভিন রাজ্য থেকে ফেরানোর জন্য ১২০০ বিশেষ ট্রেন দিয়েছে নিজের খরচায়। সেখানেও তাঁদের ফেরাতে ব্যর্থ এই সরকার। আসলে এঁদের কোনও মায়া মমতা নেই। নেই কোনও সদিচ্ছা।’ অন্য রাজ্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে তার বক্তব্য ,’ ঝাড়খণ্ডের মতো ছোটো রাজ্য যেখানে তাঁদের রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করতে ৩০-৪০টা ট্রেন নিয়ে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করছে। সেখানে এই সরকার মাত্র ৮ টি ট্রেন নিয়ে পরিযায়ী দের ফেরাচ্ছে। তাও দেখে দেখে।’

প্রায় এক নাগাড়ে তিনি বলে যান, ‘আমার কাছে প্রতিদিন কয়েকশ ফোন আসছে। কেউ বলছেন দিদি এখানে আটকে আছি। কেউ বলছেন দিদি ট্রেনের ব্যবস্থা করুন। কারোর বা খাবার নেই। পরিবার বাচ্ছা নিয়ে হাইরোডে এই চরম গরমের মধ্যে মৃত্যুর দিন গুনছেন।’ পথ দুর্ঘটনায় যে সব পরিযায়ীর মৃত্যু হয়েছে,সেটাও রাজ্যের অনড় মনোভাবের জন্যই হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি ঠিক মতো অন্য রাজ্যের সঙ্গে ও কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে এইসব অসহায় মানুষ গুলোকে আশ্বস্ত করতো যে তাঁদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। অন্যদিকে যে সব রাজ্যে বাংলার শ্রমিকরা আটকে আছেন তাদের সরকার গুলিকে যদি সঠিক অনুরোধ করতো সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এঁদের পাশে দাঁড়াতে,তাহলেও এদের এই দুর্দশা হতো না।’

একই সঙ্গে তাঁর দাবি, হাঁটতে হাঁটতে কিছু পরিযায়ী শ্রমিক খার্গপুরে এসে আটকে আছেন। বহুপথ তাঁরা হেঁটে এসে ক্লান্ত। নিজের রাজ্যে কোনও ক্রমে তাঁরা এসে গেছেন। কিন্তু সেখান থেকেই তাঁদের বাড়ি টুকু ফেরাচ্ছে না এই সরকার। নানান অজুহাতে তাঁদের আরো তিনি চারদিন তাদের ওখানে ফেলে রাখা হয়েছে। কখনো বলছে টেস্ট হবে। চেকআপ হবে। কিন্তু কে করবে করা করবে তার কোনও ব্যবস্থায় নেই।’তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘ এই অবস্থার মধ্যেও রাজ্যের ক্লাব গুলোকে আনন্দ ও মস্তি করবার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু এদের ফেরানোর জন্য সামন্যতম টাকা রাজ্যের নেই। অথচ দিনের পর দিন বাইরের রাজ্যে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এই পরিযায়ী রায় এ রাজ্যে টাকা পাঠান তাদের আত্মীয় পরিজনদের ভালো রাখার জন্য।’

একই সঙ্গে রাজ্য সরকার তাঁদের বাড়িতে ফেরাতে না চেয়ে জেবাসলে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করছেন,এদিন এটাও উল্লেখ করতে ভোলেননি তিনি। প্রসঙ্গত এই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। রাজ্য বিজেপি বহু নেতাও এ নিয়ে রাজ্যের বিরূদ্ধে প্রচুর অভিযোগ করেছে। সিপিএম তথা বাম দলগুলিও নানাভাবে এর আগে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে। তবে এদিন ভারতী ঘোষের ঝাঁঝালো বক্তব্য সব কিছুকে ছাপিয়ে গেল।

 

বাংলায় নতুন করে আক্রান্ত ১৪৮, মৃত্যু ৬

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ১৮ মে: শেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ১৪৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে আরও ৬ জনের। ফলে রাজ্যে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়াল ২৮২৫। করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা  ১৭২। সোমবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে,  করোনা শরীরে থাকাকালীন আরও ৭২ জনের মৃত্যুর হিসেব ধরলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা হয় ২৪৪। একই সঙ্গে শেষ  ২৪ ঘন্টায় আরও ৬৭ জন সুস্থ হয়েছেন। অর্থাৎ এদিন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১০০৬ জন। সুস্থ হওয়ার হার ৩৫.৬১ শতাংশ। এই মুহূর্তে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ১৫৭৫ জন।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে,  গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৬১৪ জনের। সব মিলিয়ে রাজ্যের ২৩টি ল্যাবে মোট করোনা টেস্টের সংখ্যা ৯৩৫৭০। বুলেটিন অনুযায়ী, শুধুমাত্র  কলকাতায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬১ জন। আর কলকাতাতেই মৃত্যু হয়েছে এদিনের নতুন ৫ জনের।

মোট আক্রান্ত ২৮২৫
মোট সুস্থ ১০০৬
মোট মৃত্যু ১৭২

পুরো সংবাদপত্র পড়তে সাবস্ক্রাইব করুন epaper.jugasankha.in

Related Articles

Back to top button
Close