fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

গ্রিসের সঙ্গে তুরস্কের যুদ্ধ শুধু সময়ের অপেক্ষা: বাহচেলি

আংকারা, ৬ সেপ্টেম্বর: পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিতর্কিত এলাকাকে কেন্দ্র করে গ্রিস এবং তুরস্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপের দিকে যে, দুই দেশের মাঝে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সামনে এনেছেন তুরস্কের ন্যাশনাল মুভমেন্ট পার্টির প্রধান ডেলভেট বাহচেলি। এক ঘোষণায় তিনি জানান, ‘গ্রিসের সঙ্গে যুদ্ধ সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

গত ১২ আগস্ট গ্রিক দ্বীপ কাস্তেলোরিজো উপকূলে তুরস্ক তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ওরাক রেইস নামে একটি জাহাজ পাঠানোর পর থেকেই নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। জাহাজটির নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখা হয় তুর্কি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ছোটখাটো একটি বহর। পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে গ্রিসও তুর্কিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা সংঘর্ষ বেধে যায়। গ্রিস এ ঘটনাকে দুর্ঘটনা বললেও তুরস্ক এটিকে উসকানি বলে দাবি করেছে।

[আরও পড়ুন- বিজেপি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে]

পুরো ঘটনাটি সামনে এনে বাহচেলি এক বিবৃতিতে জানান, “ভূমধ্যসাগর এবং এজিয়ান অঞ্চলে আমাদের ঐতিহাসিক স্বার্থ থেকে আমাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এরই মাঝে ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের প্রবৃত্তি এবং আকাঙ্ক্ষা আবারও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। ফলে ভূমধ্যসাগর ও এজিয়ানে যুদ্ধ শুধু সময়ের ব্যাপার।”

উসকানি মূলক বক্তব্যে তিনি আরও জানান, “গ্রিসের উদ্দেশ্য আবারও আমাদের জমি দখল করা। অথচ এই এলাকা থেকে ৯৮ বছর আগেই আমরা তাদের ছুড়ে ফেলে দিয়েছি।” এর আগে একই ধরনের হুঁশিয়ারি দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন “কৃষ্ণ সাগর, এজিয়ান এবং ভূমধ্যসাগরে নিজেদের অধিকার আদায়ে যা কিছু করা প্রয়োজন তা করতে বদ্ধপরিকর তার দেশ।” প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলিকে উদ্দেশ্য করে এরদোগান জানান, “পূর্ব ভূমধ্যসাগরে কোনো ধরনের ভুল যেন তারা না করে। নিজেদের ধ্বংসের পথ যেন তারা বেছে না নেয়। অন্য কোনো দেশের স্বার্থ, তাদের সার্বভৌমত্বে আমরা নজর দিচ্ছি না। কিন্তু যা আমাদের তাতে আমরা কোনো ছাড় দেব না।”

এদিকে, দুই দেশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছেন ন্যাটো প্রধান জেন্স স্টোলটেনবার্গ। তিনি এক ঘোষণায় জানান, “এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিরসনে গ্রিস তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে একমত প্রকাশ করেছে।” তবে পরবর্তীতে গ্রিস এই কথা অস্বীকার করে। এরপরেই গ্রিসকে একহাত নেন তুরস্কের বিদেশ মন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। তিনি বলেন, “তারা (গ্রিস) প্রথমে রাজি হয়েছিল। পরে তারা আবার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রকৃতপক্ষে ন্যাটো প্রধান নন বরং গ্রিস মিথ্যা বলছে। গ্রিস আবারও প্রমাণ করেছে যে, তারা আলোচনায় আগ্রহী নয়।”

Related Articles

Back to top button
Close