fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বারো বছর পর স্ত্রী হত্যার ঘটনার যাব্বজীবন সাজা ঘোষণা করলো তমলুক আদালত

মিলন পণ্ডা, পূর্ব মেদিনীপুর (তমলুক):  স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ বারো বছর পর স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করলো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক জেলা আদালত। বৃহস্পতিবার তমলুকে জেলা দায়রা আদালতের বিচারক পার্থসারথি সেন অভিযুক্ত স্বামী সেক জাকির আলীকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দু বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল তমলুক জেলা আদালত। এই মামলার সরকারী আইনজীবি ছিলেন হিমাংশু শেখর সামন্ত।

আদালত সূত্রে জানাগিয়েছে, ২০০৮ সালের  ২ অক্টোবর রাত্রি ৮ টা নাগাদ পাঁশকুড়া পলসা লালচক গ্রামের আসমা বিবি ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে বোতলে দুধ খাওয়ার ছিলেন। কোন কারণে বোতলটি উল্টো দুধটি মাটিতে পড়ে যায়। উত্তেজিত অবস্থায় কাঠের বাটাম দিয়ে স্ত্রী আসমা বিবি মাথায় আঘাত করে স্বামী সেক জাকির আলী। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আসমা বিবি। ঘটনায় বেগতিক বুঝে বাড়ির পেছন দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় স্বামী জাকির। ঘটনার সময় চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া দশ বছরের শিশু সেক ইকবাল সবটাই দেখেছিল।

আরও পড়ুন: প্রত্যন্ত গ্রামের শিল্প ও সাংস্কৃতিক মঞ্চের মেলবন্ধন “ক্রান্তিগোষ্ঠী” …… আঁধারে থেকেও উষার রোশনায় আলোক সন্ধানে

প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আসমা বিবিকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। তিন মাস জমে মানুষের টানাটানি পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানে আসমা বিবি।ঘটনার পর পাঁশকুড়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী সেক জাকির আলীকে গ্রেফতার করে। অবশেষে আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পায় জাকির। এই মামলায় সরকারি আইনজীবী হিমাংশু শেখর সামন্ত বলেন এই মামলায় ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। মামলায় মৃতার ছেলে সেক ইকবাল আলী সাক্ষী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।মঙ্গলবার অভিযুক্ত স্বামী দোষী সাবস্ত করে সাজা ঘোষণা করলেন।

Related Articles

Back to top button
Close