fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমফান পরবর্তী কুড়ি দিন পার, এখনও বিদ্যুৎ আসেনি কেশবপুরে

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : আমফান ঝড় কেটেছে অনেক দিন হোলো। অথচ এখনও বিদ্যুৎ আসেনি মহিষাদল ব্লকের অমৃতবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশবপুর এলাকায়। দীর্ঘ কুড়ি দিন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এখানকার মাইতি, পণ্ডা, মান্না, দাস, পাল, বেরা, খাঁড়া পরিবারের মানুষজন। এই গরমে নিদারুণ দুর্দশায় দিন কাটছে তাঁদের। পাশে নেই প্রশাসনের লোকজন।

এখানকার পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা রঘুনাথ পণ্ডা জানান, সেই ২০ শে মে থেকে এলাকা বিদ্যুৎহীন। প্রায় ২৫০ টি পরিবারে এখন নিষ্প্রদীপ। এলাকাটি মহিষাদল ব্লকের অধীনে হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ এসেছে পার্শ্ববর্তী নন্দকুমার ব্লকের পুয়্যাদা থেকে। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত চালুর জন্য নন্দকুমার ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক জয়ন্ত দেকে আবেদন জানানো হয়। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বললেও সোমবার পর্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ আসেনি।

অথচ এই এলাকায় প্রচুর বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। তাঁদের জন্য দৈনিক ৩৫০-৪০০ টাকা খরচ করে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। বর্ষীয়ান মনোজ পণ্ডা এবং তাঁর স্ত্রী এখন ভুক্তভোগী এই চরম গরমে। কোনো রকম সরকারি সহায়তা মিলছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় ধান ভাঙা মেশিন বন্ধ। মানুষের বিপদ আরও বাড়ছে এর ফলে। রঘুনাথ পণ্ডা জানান, কেশবপুর ভবতারণ বাণী মন্দির বিদ্যালয়ে ১৪ জন পরিযায়ীকে রাখা হয়েছে কোয়ারান্টাইন করে। তাঁরাও এই গরমে তুমুল বিপদে। রাত নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় গোটা এলাকা। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে মোবাইল চার্জ দেওয়া – সব শিকেয়।

এখানেই রয়েছে তমলুক হলদিয়া রেললাইনের কেশবপুর রেলস্টেশন। রয়েছে পোস্ট অফিস, হাইস্কুল এবং স্টেশন সংলগ্ন বাজার। পোস্ট অফিস থেকে মাইতি, সামন্ত পাড়া পর্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। সব মিলিয়ে ভেঙেছে প্রায় ২০ টি সিমেন্টের বিদ্যুৎ খুঁটি। হাই ভোল্টেজ খুঁটিও ভেঙেছে। বারবার বিদ্যুৎ দপ্তরে গ্রামের মানুষ আবেদন করা সত্ত্বেও কোনো সাড়া মেলেনি।

এদিকে এই কেশবপুর গ্রামেরই শিবমন্দিরের দক্ষিণ দিকে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় একটি প্রাচীন বটগাছ পড়ে রয়েছে সেই আমফান ঝড়ঝঞ্ঝাতে। অথচ আজ পর্যন্ত প্রশাসনের লোকজনের দেখা নেই গাছটি সরিয়ে রাস্তায় মানুষের চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার জন্য। জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে আমফানের পর জেলার সর্বত্র বিদ্যুৎসংযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ তমলুক লাগোয়া কেশবপুর গ্রাম যেন ভিন্ন গ্রহের কোনো এলাকা!

Related Articles

Back to top button
Close