fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিহত সেনাদের স্মরণে পাঁশকুড়া হাসপাতালে রক্ত দিলেন ২৪ জন যুবক

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : রক্ত দিয়েই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন লাদাখ সীমান্তে ‘শহিদ’ ভারতীয় সৈনিকদের। এদিন পাঁশকুড়ার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়ে রক্তদান করলেন এলাকার চব্বিশ জন যুবক। মানুষের জন্য ‘ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন’ করলো তাঁরা। সেই রক্তদানে কোনো আড়ম্বর ছিলোনা, ছিলনা লাঞ্চ প্যাকেট। কোনো দামি গিফটও নেই। ছিলো ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা। আসলে ভারত চিন সীমান্তে দেশের জন্য ভারতীয় শহীদ সেনাদের রক্ত ঝরানোর কুর্নিশ করলো এভাবেই। তাঁদের সেই মহান কীর্তিকে সম্মান জানানো হল এভাবেই।

 

 

 

এ এক অন্যরকম মানবিকতার পরিচয় দিয়ে কোরোনা আবহে সংকটের মধ্যেও মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজ হুল দিবসে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ব্লাড ব্যাঙ্ক ‘ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন’ ক্যাম্পে ২৪ জন রক্তদান করলেন। পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাংকে মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্রের এটি ছিলো পঞ্চম ইন-হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প। জুলাই মাসের ৭ তারিখ একটা শিবিরের আয়োজন করে ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প হবে আবারও। ‘জীবনের জন্য রক্তদান’ এই মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি লকডাউনের সংকটকালে ব্লাড ব্যাংক গুলোতে সামর্থ্য মতো রক্তের যোগান দেবার সংকল্প নিয়ে ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প শুরু করেছে। সংস্থার সদস্য এবং শুভানুধ্যায়ীরাই পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সর্বোপরি, সীমান্তে দেশকে রক্ষার জন্য ভারতীয় সেনারা নিরন্তর রক্ত ঝরিয়ে যাচ্ছে। মৃত্যুবরণ করছে। তাঁদের সম্মানার্থে এভাবেই রক্ত দিয়ে স্যালুট জানালো মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্যরা।

 

 

এদিন রক্তদান শিবিরে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক কৃষ্ণপ্রসাদ ঘড়া, অলোক মাইতি, মৃনাল চক্রবর্তী, প্রদীপ চক্রবর্তী সহ অন্যান্য সংগঠকগণ। কুইজ কেন্দ্রের পক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক সুজন বেরা ও সভাপতি রিংকু চক্রবর্তী সমস্ত রক্তদাতাদের রক্তিম অভিনন্দন জানিয়েছেন। এদিন সবুজায়নের বার্তা দিতে কুইজ কেন্দ্রের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী সমস্ত রক্তদাতাদের হাতে একটি করে ‘এল ৪৯’ পেয়ারা গাছের চারা উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। আজও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বাবা মাকে লুকিয়ে, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে রক্তদান করে গেল। পাশাপাশি বার্তা দিয়ে গেল, যুব সমাজের মানসিকতা বদলে যাচ্ছে। তাঁরা সবাই উপহার পাওয়ার লোভে রক্ত দেয়না। তাঁরা মানবিকতার পরিচয় দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তৈরি।

 

 

 

‘ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প’ সরকারী ভাষাটা অনেকটা এরকম, ক্যাম্প না করে সংঠনগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে সরাসরি ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্তদান করা। সংস্থার পক্ষ থেকে প্রথমবার গত ২৮ শে মে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প সূচনা করা হয়। ওইদিন রক্তদান করেন ১ জন মহিলা সহ মোট ১২ জন রক্তদাতা। এরপর দ্বিতীয় পর্বের ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প হয়েছিল সংস্থার হলদিয়া শাখার উদ্যোগে হলদিয়া ব্লাড ব্যাংকে। সেদিন ১১ জন রক্তদাতা রক্ত দান করেন। এরপর সংস্থার উদ্যোগে তমলুক ব্লাড ব্যাংকে রক্তদান করেন ১৭ জন। আর আজকে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সংস্থার পক্ষে মৌসম মজুমদার বলেন, ‘সাধারণত যে ধরনের রক্তদান শিবির হয়ে থাকে, ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প একটু আলাদা। সরাসরি ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্তদান করা।’ এদিন ২৪ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করলেন হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরা। লকডাউন সময়কালে সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের আয়োজন না করে এইভাবে ইন হাউস ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের মাধ্যমে একদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা থাকলো, অন্যদিকে মানুষের প্রয়োজন মেটানো হল।

Related Articles

Back to top button
Close