fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পশ্চিম মেদিনীপুরে জোড়া খুন! বাবাকে আছড়ে মারল ছেলে… স্বামীকে খুন স্ত্রী’য়ের সঙ্গ দিল ছেলে

তারক হরি. পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় একই দিনে ঘটল দুটি ঘটনা শুধু স্থান দুটি আলাদা থাকল। আবারও খুন, ছেলের হাতে বাবা খুন এবং খুনের একটাই কারণ.. সেই মদ। আরও স্পষ্ট করে বললে চোলাই মদের জন্য খুন। পর পর দু’দুটি ঘটনায় স্তম্ভিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে পিংলা থানা থানার অন্তর্গত জামনা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার সাঁতই গ্রামে, বুধবার রাতেই সাঁতই গ্রামের বাড়ি থেকে ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতের নাম দেবেন বেংরা।

নিতান্তই হতদরিদ্র একটি পরিবার, দিনমজুরিই পরিবারের একমাত্র সম্বল। ঘটনার পেছনে টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তিনজনের মধ্যে উত্তপ্ত বচসা ও গন্ডগোলের ঘটনা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। জানা গেছে দিন মজুর ওই পরিবারের ১০০দিনের মজুরি বাবদ কিছু টাকা ব্যাঙ্কে জমা হয়েছিল। দেবেন বুধবার দিনের বেলায় পিংলায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে এক হাজার টাকা তুলে নিয়ে বাড়ি যায়। রাতে সেই টাকার মধ্যে থেকে ছেলেকে ২০ টাকা আর স্ত্রীকে ৫০ টাকা দেয়। সামান্য এই টাকা হাতে পেয়ে দুজনেই ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। মা ও ছেলে মিলে দেবেনের কাছ থেকে ওই টাকা জোর করে কেড়ে নিতে চায়। দেবেনও টাকা না দিতে মরিয়া হয়ে পড়ে। ধস্তাধস্তির জেরে দেবেন ছিটকে পড়ে বাড়ীর দেওয়ালে। ধাক্কা লেগে মাথা ফাটে দেবেনের। কিন্তু তাতেও দেবেনকে কাবু করতে পারেনি মা ও ছেলে। এরপর গলায় গামছা দিয়ে টেনে ধরে তাকে কাবু করার চেষ্টা করে ছেলে শামু বেংরা। আর তাতেই মৃত্যু হয় দেবেনের।সূত্রে জানা গেছে ঘটনার সময় তিনজনই নেশাগ্রস্ত ছিল। সম্ভবত নেশার টাকা নিয়েই এই গন্ডগোলের সূত্রপাত।পুলিশ মা ও ছেলে দুজনকেই গ্রেফতার করেছে।

দ্বিতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি মোহনপুর থানা এলাকাতেও সেই মদের জন্য টাকা যোগান দিতে না পারাতেই খুন। পুলিশ জানিয়েছে, মোহনপুর থানা এলাকার সীতাপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যাবেলায়। মৃত ব্যক্তির নাম অমূল্য বেরা, বয়স ৬৫বছর। অমূল্যবাবু শুধু বয়সজনিত কারণে অশক্তই ছিলেন না সঙ্গে দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর এক মাত্র ছেলে বছর তিরিশের সৌরভ ওরফে চন্দন বাবার কাছে টাকা চায়। কিন্তু অমূল্যবাবু টাকা দিতে পারবে না বলে জানায়। এরপরই বাবাকে ব্যাপক মারধর ও টানা হেঁচড়া শুরু করে চন্দন।

পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায় রুগ্ন, রোগা মানুষটিকে অন্ততঃ দু’দুবার আছাড় দেওয়া হয়েছিল যার ফলে তাঁর ডান পা ও বাঁ হাত ভেঙে যায়। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে চোট রয়েছে। পুলিশের ধারণা ময়নাতদন্তে বুকের এবং অন্যান্য জায়গার হাড়েও চিড় ধরে থাকার রিপোর্ট মিলতে পারে। বাড়ির বৃদ্ধা মা বাধা দিয়েও উন্মত্ত ছেলের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি স্বামীকে। এরপর বাবা নিস্তেজ হয়ে পড়ে রয়েছে দেখেই চম্পট দেয় সৌরভ। অভিযুক্ত ছেলের খোঁজে মোহনপুর থানার পুলিশ এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য ওই একই দিনে দু – দুটি ঘটনায় কপালে ভাঁজ প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের। মানসিকতা আজ কোথায় নেমেছে, নেশার তীব্রতায় এক শ্রেণীর মানুষ আজ দিকভ্রান্ত। অমানুষ হয়ে উঠছে।

চোলাই মদের দাপটে দিশাহারা হয়ে পড়েছে গ্রামীন এলাকা গুলি। লকডাউনের কর্মহীনতার পাশাপাশি সামান্য উপার্জনও চলে যাচ্ছে চোলাই গর্ভে। সংসারে সংসারে নেমে আসছে চুড়ান্ত অশান্তি। চোলাই দাপটে বেসামাল হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার।

Related Articles

Back to top button
Close