fbpx
অফবিটআন্তর্জাতিকপশ্চিমবঙ্গবাংলাদেশহেডলাইন

অভিনব বিয়ের সাক্ষী থাকল দুই বাংলা… কাটোয়ার বরের সঙ্গে ভার্চুয়াল বিয়ে হল বাংলাদেশের কনের

দিব্যেন্দু রায়, কাটোয়া: পাত্র কাটোয়ার বাসিন্দা। পাত্রীর বাড়ি বাংলাদেশের ঢাকা শহরের উত্তরা এলাকায়। করোনা ভাইরাসে আবির্ভাবের আগেই বিয়ের দিনক্ষণ সব ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতির কারণে এতদিন বিয়ে আটকে ছিল। বর্তমানে লকডাউন না চললেও এখনও বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। কবে হবে তারও কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আর অপেক্ষা না করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঢাকা শহরের পাত্রী শাহেরান ফতেমার সঙ্গে ভার্চুয়াল বিয়ে সেরে ফেলল কাটোয়া থানার পাতাইহাট কাজিপাড়ার বাসিন্দা মীর আবু তালেব। শুক্রবার বিকেলে এই অভিনব বিয়ের সাক্ষী থাকল দুই বাংলার মানুষ।

কাটোয়ার পাতাইহাট কাজিপাড়ার বাসিন্দা পেশায় গৃহশিক্ষক মীর আবু তালেব বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। বাবা মীর আদম আলী গ্রাম্য চিকিৎসক। মা পশুরা বিবি গৃহবধূ। পরিবার সূত্রে জানা গেছে,বছর আঠাশের আবু তালেবের কিডনির সমস্যা ছিল। সেই কারণে চিকিৎসার জন্য প্রায়ই তাকে ভেলোরে যেতে হত। ২০১৭ সালের শেষের দিকে আবু তালেবের কিডনি পরিবর্তন করতে হয়। কিডনি দাতা ছিলেন তাঁর বাবা আদম আলি। ভেলোরেই এই অস্ত্রোপচার হয়। বর্তমানে ওই যুবক সুস্থ জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, মীর আবু তালেব যখন চিকিৎসার জন্য ভেলোরে ছিলেন সেই সময় এক আত্মীয়ের চিকিৎসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের যুবতী শাহরান ফতেমা । সেই সূত্রে আবু তালেবের সঙ্গে ফতেমার পরিচয় থেকে প্রেম হয়। তারপর দুই পরিবার বসে আবু তালেব ও শাহরান ফতেমার বিয়ের দিন ঠিক করে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতির কারণে তখন আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় তখন বিয়ের অনুষ্ঠান করা হয়নি।
পাত্রের বাবা মীর আদম আলী বলেন,”বর্তমানে লকডাউন না থাকলেও বিমান চলাচল ও ভিসা পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। কবে স্বাভাবিক হবে তার নিশ্চয়তাও নেই। তাই শেষ পর্যন্ত পরস্পরের মধ্যে আলোচনা করে ভার্চুয়াল বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।”

আরও পড়ুন:শিক্ষার নামে ধর্ম প্রচারে ছাড় দেওয়া বন্ধ হোক

এদিন বিকেলে আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উভয় পক্ষের কাজিরা মুসলিম প্রথা অনুযায়ী মীর আবু তালেব ও শাহরান ফতেমার চার হাত এক করেন। দুই বাংলার দুই পরিবারের লোকজন এদিন আনন্দোৎসবে মেতে ওঠেন । দু’তরফেই ছিল ভোজের আয়োজন। তাতে সামিল হয়েছিলেন তাদের আত্মীয় পরিজনরা। শেষ পর্যন্ত বিবাহ পর্ব মেটায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন বর-কনের পরিবার।

Related Articles

Back to top button
Close